somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিমিত দুঃখের বচন-"মুদ্রার ওপিঠ"

২৯ শে জুন, ২০১১ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিমিত দুঃখের বচন-"মুদ্রার এপিঠ"


তারপরও জীবন চলে তার নিজস্ব নিয়মে।ভাল থাকার অভিনয় ঠিক মত করতে পারি বা না পারি জীবন চলেই যায়। নদী যেমন কখনও সংকীর্ণ পথ,কখনও বিস্তীর্ণ সোজা পথ আবার কখনও বা দুর্গম পাহাড়ের উপর দিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ছুটে চলে আপন গতিতে কারণ তার তো সাগরের সাথে মিলিত হওয়ার আগে থামার উপায় নেই। জীবনও কখনও কারও জন্য বা কোনও কিছুর জন্য থেমে থাকে না। শূন্যস্থান ঠিক ই পূরণ হয়ে যায়।হয়ত আগের মত পূরণ হয় নাহ।কেউ এটা নিয়ে আফসোস করে যে কেনও আগের মত অথবা তার চেয়ে ভালভাবে পূরণ হল নাহ,আবার কেউ সহজ ভাবে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।

মানব মনও বড় বিচিত্র।আমরা যা পাইনি সেইগুলা নিয়েই সব সময় মাতামাতি করি,অথচ আমাদের যা আছে তা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। অন্যদের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করে অনর্থক কষ্ট পাওয়ার বিলাসিতায় আমরা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত, ভবিষ্যতের অনাগত দুঃখ-কষ্টের কথা ভেবে ভীত। আমাদের যাদের এই অবস্থা তারা অতৃপ্ত থাকবে আজীবন ।

ভার্সিটির সময়টা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়,এতে কোনও সন্দেহ নেই। জীবনটা উপভোগের অনুকূল সময়। এই উপভোগ ব্যক্তি ভেদে এক এক রকম হয়। কেউ কেউ নতুন গার্ল ফ্রেন্ডের মোহে পুরানো বন্ধুকে ভুলতে দ্বিধা বোধ করে নাহ, অনেকে গার্ল ফ্রেন্ড থাকলেও বন্ধুত্তের মর্যাদা ঠিক রাখার চেষ্টা করে। আবার অনেকে টিউশনির মাঠে চার, ছয় হাকাতে ব্যস্ত থাকে। আর কতিপয় কিছু অভাগা থাকে যারা নিজেদের শুধু পড়াশুনায় আবদ্ধ রাখে। আর যারা আমাদের(আমি ও আমার টোটো বাহিনী) মত তারা সর্বদা সর্বাবস্থায় হিট ও ফিট।

ভার্সিটিতে আসার পর কম বেশি সবাই চায় যে একজন মনের মানুষ থাক, যার সাথে সব কিছু শেয়ার করা যাবে, যে অসুস্থতার কথা শুনে দুশ্চিন্তা করবে, পড়াশুনায় উৎসাহ দেবে। আব্বু আম্মু তো ভালবাসেই কিন্তু এই পর্যায়ে এসে তা যেন আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। মুখে বলি আর নাই বা বলি সবাই চাই যে আহা!আমারও যদি কেউ একজন থাকত যার সাথে মন খারাপ থাকলে কথা বলব, নিজের জন্মদিনটা তার সাথে কাটাব, তার জন্মদিনে রাত ঠিক বারটায় উইশ করব.........(আরও অনেক কিছু:):):):):):):):))

এই আশা সবার পূরণ হয় নাহ।অনেকের পূরণ হয়েও হয় নাহ কারণ তার ভালবাসার মানুষটা হয়ত তার থেকে অনেক দূরে। নাই বা হল, এইখানে কয়েকজন সোনার মানুষ আছে যারা সকল আনন্দে দুঃখে বিপদে ছায়ার মত পাশে থাকে। গার্ল ফ্রেন্ডের হাত ধরে নাই বা হাঁটতে পারলাম, যখন এই মানুষদের সাথে হাঁটি, আড্ডা দেই ক্যাম্পাসে বসে তখন জীবনটা সার্থক ই মনে হয়, আনন্দগুলো অনেক গুণে বেড়ে যায়, বুকের জমাট বাধা কষ্টগুলো হাল্কা হয়ে যায়। এই মানুষদের মধ্যে আছে আমার স্কুলের বন্ধু, বড় ভাই। জন্মদিনটায় যখন এদের দাওয়াত দেই তখন এরা আমার জন্য কেক কিনে নিয়ে আসে,কেক কাটার পর সেই কেক দিয়ে আমার বন্ধুরা অতি যত্ন সহকারে আমার মুখের যত্ন নিতে মারাত্মক রকম ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর উপহারের কথা বলাই বাহুল্য। আমি ভাগ্যবান যে এরকম বন্ধু আর বড় ভাই আমার আছে।

গার্ল ফ্রেন্ড থাকলেও অনেক সময়ই তিনি আউট অফ নেটওয়ার্ক হন, কিন্তু বন্ধুরা সব সময় নাগালের মধ্যে। একটি ডাকই যথেষ্ট। সব বন্ধু তো আর প্রকৃত নয় আমার বন্ধুদের মত কারণ সবাই তো আর ভাগ্যবান হয় নাহ(একটু পার্ট নিলাম:P:P:P:P:P:P:P) ।

জীবনটাকে বেশি সিরিয়াসলি নিয়া উচিত নাহ। আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অতিত নিয়ে আফসোস করি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। তাই আমাদের বর্তমান উপভোগ করার আগেই আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়। জীবনে অনেক কিছুই ঘটে যা আমাদের জীবন উলটপালট করে দিয়ার জন্য যথেষ্ট, তারপরও মানুষ টিকে যায়। জীবন ভাল লাগুক মন্দ লাগুক জীবন তো চলবেই, কাজেই যা আছে যে পেয়েছি তাই নিয়ে ভাল থাকার চেষ্টা করাই কি শ্রেয় নয়?????????

(পাঠক, বেশি দর্শন আর ভারি কথার জন্য বিরক্ত লাগলেও মেনে নিবেন। জানেনই তো জীবনে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়।;);););););))

৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×