বাংলা ভাগে দায় কার?
বাম এবং সেক্যুলাররা সবাইকে বিশ্বাস করাতে চায় এই বলে যে,"মুসলমানরা তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র চেয়েছে বলে বাংলা ভাগ হয়েছে।"
কিন্তু বাংলার মুসলমান নেতারা কি বাংলা ভাগ চেয়েছে? না,চায় নি।চাওয়ার কোনো কারণ ছিল না।কারণ মুসলমানরাই ছিল বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। ভোট নিয়ে সরকার গঠন করলে অবিভক্ত বাংলায় মুসলমান নেতারাই প্রধানমন্ত্রী হয়।
বাংলা ভাগের দাবি করেছিল হিন্দু ভদ্রলোক শ্রেণিগোষ্ঠী।কারণ, মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা প্রদেশে তারা তাদের কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পায়নি।সেই সময় বাংলায় হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলোতে যেমন -বর্ধমান,হুগলি, হাওড়া,কলকাতা, চব্বিশপরগনা,বাকুড়া, মেদিনীপুর ও বীরভূমে বাংলা ভাগ করার জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। হিন্দু নেতাদের মধ্যে শরৎ বসু মুসলমান নেতাদের সাথে ভারত পাকিস্তানের বাইরে আলাদা বাংলা রাষ্ট্র গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও তিনি নিজ ধর্মের লোকদের কাছ থেকে কোনো সমর্থন পাননি।
১৯৪৭ সালের শুরুতে বেঙ্গল আইনসভাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।একভাগে থাকে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর নির্বাচিত সদস্য, আর অন্যভাগে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর নির্বাচিত সদস্য। ঐ একই বছরের ২০শে জুন আইন সভার দুই অংশ আলাদাভাবে বাংলা ভাগের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য ভোট দেয়। ঐতিহাসিক এই ভোটাভুটিতে আইনসভার হিন্দু অঞ্চলের অধিকাংশ সদস্য বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেয়। আর মুসলমান অংশ নিরঙ্কুশভাবে বাংলাকে অবিভক্ত রাখার পক্ষে ভোট দেয়। সেই দিনই বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়।
কিন্তু বাম এবং সেক্যুলাররা কেন বাংলা ভাগের দায় মুসলমানদের দেয়?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



