somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যম পন্থা

০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বীনের ভিতরে মধ্যম পন্থা বলতে কি বুঝায়?

➡দ্বীনের ভিতরে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের অর্থ এই যে,মানুষ দ্বীনের মধ্যে কিছু বাড়াবে না।যাতে সে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ফেলে। এমনিভাবে দ্বীনের কোন অংশ কমাবে না।যাতে সে আল্লাহর নির্ধারিত দ্বীনের কিছু অংশ বিলুপ্ত করে দেয়।

নবী (সা) এর জীবনীর অনুসরণ করাও দ্বীনের মধ্যে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর জীবনাদর্শ অতিক্রম করা দ্বীনের ভিতরে অতিরঞ্জনের শামিল। তাঁর জীবন চরিতের অনুসরণ না করা তাঁকে অবহেলা করার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় যে,একজন লোক বললো আমি সারা জীবন রাত্রি বেলা তাহাজ্জুদের সালাত পড়বো।রাত্রিতে কখনোই নিদ্রা যাব না।কারণ সালাত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। তাই আমি নামাজের মাধ্যমে বাকি জীবনের রাত্রি গুলো জাগরণ করতে চাই। আমরা তার উত্তরে বলব যে,এই ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে অতিরঞ্জিতকারী। সে হকের উপর নয়।নবী(সা) এর যুগে এরকম হয়েছিল।তিনজন লোক একত্রিত হয়ে একজন বললো, আমি সারা রাত সালাত আদায় করবো।আরেক জন বললো আমি সারা বছর সিয়াম পালন করবো বিরতিহীনভাবে।তৃতীয় জন বললো আমি স্ত্রী সহবাস করবো না।নবী(সা) এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছলে তিনি বললেন, একদল লোকের কি হলো তারা এরকম কথা বলে থাকে? অথচ আমি রোজা রাখি এবং কখনো রোজা থেকে বিরত থাকি।রাতে ঘুমাই এবং আল্লাহর ইবাদত করি।স্ত্রীদের সাথে ও মিলিত হই।এটি আমার সুন্নাত।সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ থাকবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।এই লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার কারণে রাসুল (সা) তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নতার ঘোষণা করলেন। কেননা তারা রোজা রাখা না রাখা, রাত্রি জাগরণ করা, ঘুমানো এবং স্ত্রী সহবাস করার ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাতকে প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিল।

দ্বীনী বিষয়ে যে ব্যক্তি অবহেলা করে বলবে যে,আমার নফল ইবাদতের দরকার নেই। শুধু ফরজ ইবাদত গুলো পালন করবো। আসলে সে ব্যক্তি ফরজ আমলেও অবহেলা করে থাকে।

সঠিক পথের অনুসারী হলো সেই ব্যক্তি যে রাসুল (সা) এবং খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাহর উপর চলবে।

অন্য একটি দৃষ্টান্ত হলো, মনে করুন তিন জন ভালো লোকের পাশে রয়েছে একজন ফাসেক ব্যক্তি।তিনজনের একজন বলল আমি এই ফাসেককে সালাম দিব না।তার থেকে দূরে থাকব এবং তার সাথে কথা বলব না।অপরজন বলল, আমি এর সাথে চলব,সালাম দিব,হাসিমুখে তার সাথে কথা বলব, তাকে দাওয়াত দিব,এবং দাওয়াতে আমি ও শরিক হব।আমার নিকট সে অন্যান্য সৎ লোকের মতোই। তৃতীয় জন বলল, আমি এই ফাসেক ব্যক্তিকে তার পাপাচারিতার কারণে ঘৃণা করি। তার ভিতরে ইমান থাকার কারণে তাকে ভালোবাসি। তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করব না।তবে তাকে সংশোধনের কারণে বর্জন করা হলে তা ভিন্ন কথা।তাকে বর্জন করলে যদি তার পাপাচারিতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়,তবে আমি তাকে বর্জন করব না।এই তিনজনের ১ম ব্যক্তি বেশি বাড়াবাড়ি করল।২য় জন ত্রুটি করল এবং ৩য় জন মধ্যম পন্থা এবং সঠিক পথের অনুসরণ করল।

অন্যান্য সকল ইবাদত ও মানুষের মুআমালাতের[১] ক্ষেত্রে ও অনুরূপ। মানুষ এতে ত্রুটি,বাড়াবাড়ি এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে থাকে।

আরও একটি উদাহরণ ভালো করে শ্রবণ করুন। মনে করুন একজন লোক তার স্ত্রীর কথায় চলে। তার স্ত্রী যেখানে পাঠায় সেখানে যায়। সে তার স্ত্রীকে অন্যায় কাজ হতে বাধা প্রদান করে না এবং ভালো কাজে উৎসাহ দেয় না।সকল ক্ষেত্রেই স্ত্রী তার উপর কর্তৃত্ব করছে এবং তার মালিক হয়ে বসেছে।

আরেক ব্যক্তি তার স্ত্রীর কোনো ব্যাপারেই গুরুত্ব দেয় না। তার স্ত্রীর সাথে অহংকার করে চলে।যেন তার স্ত্রী তার কাছে চাকরানীর চেয়ে অবহেলিত। অন্য ব্যক্তি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে এবং আল্লাহ ও রাসুল (সা) প্রদত্ত সীমা অনুযায়ী স্ত্রীর সাথে আচরণ করে থাকে।
আল্লাহ বলেন, "তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের উপর হক রয়েছে, যেমন তাদের উপর তোমাদের হক রয়েছে।"
[সুরা বাকারা-২২৮]

কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করবে না।স্ত্রীর কোনো একটি চরিত্রকে অপছন্দ করলে হয়তো অন্য একটি গুণ দেখে সে সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।[২].
শেষ ব্যক্তি মধ্যম পন্থা অবলম্বনকারী,প্রথম ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় শিথিল এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি ত্রুটিকারী(অবহেলাকারী ও অবজ্ঞাকারী)।
হে পাঠক! আপনি সকল ইবাদত ও আচার-আচরণকে উক্ত উদাহরণ গুলোর উপরে অনুমান করুন।

ফুটনোট :

১.মানুষ পরস্পরে যে লেনদেন, বেচাকেনা, চুক্তি, ওয়াদা-অঙ্গীকার ও পার্থিব ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য দুনিয়াবি কাজকর্ম করে থাকে,তাকে ইসলামের পরিভাষায় মুআমালাত বলা হয়।এসবের সাথে ইবাদতের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এগুলো যদি ইসলামি নীতিমালার ভিতর হয় এবং তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়, তবে তাও ইবাদতে পরিণত হয়।
২.মুসলিম, অধ্যায়:কিতাবুর রাদা

শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন(রহ)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৩
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×