somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইমরানসিড
টুকটাকঝিজিবিজি লেখি

গল্পঃ মিথ্যা অভিমান

২২ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজব আপনি আমাকে ধাক্কা দিচ্ছেন কেন? ফেলে দিবেন নাকি?
--- আপনাকে অনেকক্ষণ ধরে ডাকছি শুনছেন না তাই ধাক্কা দিয়েছি। কেন ভয় পেয়েছেন?
---নাহ আমি ভয় পাই না। তবে চশমা পড়ে যাওয়ার ভয় আছে। আমি চশমা ছাড়া দেখতে পাই না
---ওহহ!! আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো বলে এসেছি? প্রশ্নটা করি?
--জ্বী ভনিতা ছাড়াই করতে পারেন।
-- কেন ভনিতা করে বললে দোষ?
---নাহ নেই, আমি মেয়েদের সাথে কথা বলি না। যাকগে প্রশ্নটা করুন?
--ওহহ!! আচ্ছা আমি রোজ বিকেলে এই পার্কে আসি, আর একটা জিনিস দেখি সেটা হচ্ছে আপনি এই সাদা পাঞ্জাবি পড়ে এখানে এই বেঞ্চে বসে থাকেন? কেন?
আর আপনার চুল গুলো দেখেছেন মনে হয় কতদিন গোসল করেন না।
--- আপনি শুনবেন?
--- হহুম
-------
আগামীকাল রসায়ন এর পরিক্ষা, মাথা কাজ করছে না।লাইব্রেরি তে বসে কয়েকটা বই ঘাঁটছিলাম, এমন সময় খটখট করে আওয়াজ হলো। আওয়াজ টা এতো বিচ্ছিরি যে চোখ তুলে তাকাতেই হলো।
একটা মেয়ে আমার পাশের চেয়ার টা টানছে, লাইব্রেরির আর সবার মত বিরক্ত নিয়ে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকালাম।
মেয়েটার খুব সুন্দর বর্ননা দেওয়ার কিছু পেলাম না, মাঝারি কালো। সুন্দর বলতে দুটি চোখ, তাও কাজল দিয়ে কালো করে রেখেছে।
-- হু হুউ। আমাকে চিনেছেন ভাইয়া?? আমি মিথিলা।
----( আমি বিরক্ত নিয়ে ফিসফিস করে বললাম) নাহ তবে নাম মনে আছে, চেহারা মনে করতে পাচ্ছি না।
(( মিথিলা টাশকি খেয়েছে বুঝি)) এটা কেমন কথা?? নাম মনে আছে চেহারা মনে নেই? এমন টা হয়??
মিথিলার উচ্চস্বরে কথা বলা দেখে ডেক্সের উপর রাখা ছোট বোর্ড টা তাকে দেখালাম।
"" লাইব্রেরি তে উচ্চস্বরে আওয়াজ নিষেধ ""!!
মিথিলা হাসি দিয়ে। বলল,আচ্ছা আমি বাহিরে আছি।বলে আবার ভ্র ভ্র আওয়াজ তুলে চেয়ার সরিয়ে চলে গেল। আমি হাত মুষ্টি করে রাগ থামালাম।।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর বেড়িয়েছি, মেয়েটার কথা ভুলে গেছি। পুরো মেমরি তে শুধু পরিক্ষা হিজগিজ করছে। মনে না থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।
একটা সিগারেট ধরিয়ে একটা গাছের নিচে বাধানো সানে বসে আছি।
এই নিন আইসক্রিম খান।
হঠাৎ মেয়েলি আওয়াজে চমকে গিয়েছি প্রায়, পাশ ফিরে দেখি সেই মেয়েটি। উফফফ কটমট করে চেয়ে আছে।
মানে সে এতক্ষণ আমার জন্য অপেক্ষা করেছে।
তারপর ইতিহাস। তার বক্তব্য শুনে মনে পরলো প্রায় ৪ মাস আগে বই মেলায় তাকে তার পছন্দের লেখকের ""অটোগ্রাফ " নিতে হেল্প করেছিলাম।
তাই সে আমাকে ধন্যবাদ দিতে আমাকে খুঁজছে । আজ যখন লাইব্রেরী তে আমাকে দেখল, তাই আর সুযোগ মিস করতে চায় নি।
-----
হিস্টোরি বলে মিথিলার সাথে আমার পরিচয় বইমেলায়। আমি বলি লাইব্রেরীতে। হিসাব কষে দেখলাম দুইটাই একই। সংক্রান্ত বই।
কিন্তু সেই বইমেলা আর লাইব্রেরী এরপর কোন কাজে আসে, শুধু পরিচয় করিয়ে দিয়ে চলে গেছে।
পরিচয় থেকে শুরু হয় একটু /আধটু কথা বলা। কথা থেকে নামলাম নাকি উঠলাম বুঝি নি। বন্ধুত্ত্ব হয়ে গেল। একটা মেয়ে আর আমি বন্ধুত্ত্ব। হাস্যকর ছিল, তবে মজা ছিল তার সাথে আইসক্রিম খাওয়া, চটপটি খাওয়া, কোন এক লেকের পাড়ে বসে তার দার্শনিক কথা গিলতাম। বুঝলাম আমি প্রেমে পড়ে গেছি। যেদিন ওকে প্রপোজ করবো সেদিন দেখলাম আমাদের প্রেম অনেকদূর গড়িয়েছে, মিছে মিছে আমি আবার প্রথম পাতা ঘেঁটে যাচ্ছি।
সিনিয়র বলে একটু ভয় পেতাম। বন্ধুমহল এর ভয় টা বেশি পেতাম। ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে ফেলবে। কারন ওদের মাঝে আমি ছোট। তার উপরে চশমা লাগাই।
তবে বেশিদিন লুকিয়ে থাকতে পারি নি। জহির রায়হানের "তপু" চরিত্র হয়ে গেলাম মেসে। তবে রেনু ছিল না। ছিল মিথিলা। প্রায়শ আসতো। গল্প হত।
---------
পড়া শেষ করে আমি জব শুরু করি। মিথিলাকে বললাম চলো বিয়ে করি। মিথিলার আনন্দ দেখে কে। লজ্জা পাওয়ার পর মেয়েদের আনন্দ মুখ অসাম, জাস্ট অসাম।
মিথিলা কালো হলেও ওর চোখে কি যেন একটা নেশা আছে আর হাসিটাতে আছে জাদু।
প্রেমে পড়ে দার্শনিক হয়ে বলছি না। খুব উপলব্ধি করে বলেছি।
একদিন বললাম,
--- জানো মিথি আমি খুব ভাল হাত দেখতে পারি।
--- হাত দেখবে নাকি, হাত ধরার ছলনা?? হুম।
পারিবারিক ভাবে বিয়ে করছি।যদিও পারিবারিক তবে মিথিলার মাথায় একটা ভুত চেপেছে।
""দুজনে প্রেম করে বিয়ে করছি , অথচ সেটা নাকি পারিবারিক " ধ্যাত। তাই তার ইচ্ছা পালিয়ে বিয়ে করবে।
বন্ধুমহলে এ নিয়ে বেশ হাসির রোল পড়লো, তবে আমার কপাল ভাঁজ, একে পালিয়ে বিয়ে তার উপর ৩ দিন নাকি পালিয়ে থাকতে হবে । অদ্ভুত!!
-------------
দুজনেই নিজেদের বিয়ের পোশাক কিনতে বেড়িয়েছি। কাকে কোন ড্রেস মানাবে দুজনের সিদ্ধান্তেই। ও আমাকে একটা পাঞ্জাবী দিয়ে বলল,
"" এটাই তোমাকে মানাচ্ছে "" কাল বিকাল ৫ টায় এই পাঞ্জাবি পড়ে পার্কের ৯ নং বেঞ্চে আমার জন্য অপেক্ষা করবে অকে।
আমরা পালিয়ে যাব। যত বার এই কথা বলেছে ততবার আমার ভ্রু নিজেই কুঁচকে গিয়েছে।
অনেক কেনাকাটা করে বেড়িয়েছি রাস্তা পাড় হব।
---মিথি তুমি দারাও আমি ফুল কিনে আনছি।
মিথিকে রাস্তার পাশে দাড় করিয়ে আমি পাশে ফুল কিনছি। হঠাৎ একটা বাসের ব্রেক কষার আর্তনাদ কানে এলো।
ভয় পেয়ে পিছনে তাকালাম। বাসের সামনের চাকাটা মিথির পেটের উপর দিয়ে উঠে গেল। মিথির শরীর টা দুই দিকে ভাজ হওয়ার মত হয়ে গেল। চাকাটা পুরো পেট বেয়ে নেমে গেল। নিথর হয়ে পড়ে থাকলো মিথি।
আমি কি দৌড়াবো?? মিথির কাছে যাব?? ঠিক দিক হারা। তার আগেই চোখে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি, মাথাটা ঝাকি দিয়ে উঠল। শুধু দেখলাম আমি পড়ে যাচ্ছি.........
এরপর মিথিকে আর দেখি নি। সবাই বলে ও,ফিরে আসবে। তাই রোজ বিকেলে এই পাঞ্জাবি পড়ে এই পার্কে বসে থাকি। আমার মিথি না অনেক অভিমানী, যদি ও এসে আমাকে এই পাঞ্জাবি তে না দেখে তাহলে বড্ড কষ্ট পাবে। ওকে আমি কষ্ট দিতে চাই না
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×