একটা ঘটনা সাজিয়ে পুরুষ মানুষকে দুই শ্রেনীতে ভাগ করলাম।
ঘটনাটি দাঁড় করানো হলো এভাবে যে, একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে নিয়ে নির্জনে হাঁটছেন। পথিমধ্যে ৩/৪ জন সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করলো। তারা তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষন করার চেষ্টা করছে।
এক শ্রেনীর পুরুষ ভাববে সে ৩/৪ জনের সাথে পারবে না। অতএব বাঁধা দিতে গেলে সে নিজেই আহত বা নিহত হতে পারে। কি দরকার খামোখা ঝূঁকি নেওয়ার কি দরকার, ধর্ষন করছে করুক। ধর্ষন পর্ব শেষ। সে তার স্ত্রীর চোখে চোখে রাখার সাহস পাবে না। অন্যদিকে তাকিয়ে নিজেকে এবং তার স্ত্রীকে বলবে, "কিছু হয়নি"।
আরেক শ্রেনীর পুরুষ আছে যারা ৩/৪ জনের সাথে পারবে না জেনেও প্রতিহত করার জন্য ঝাপিয়ে পড়বে। খালি হাতেই। হয়ত সে তার স্ত্রীকে রক্ষা করতে পারবে। হয়ত পারবে না। হয়ত মারাই যাবে। যদি মারা নাও যায়, সে তার স্ত্রীকে টেনে তুলবে। চোখে চোখ রেখে পরম মমতায় বলবে, "আমি তোমাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারি নি।"
২য় শ্রেনীভুক্ত পুরুষের স্ত্রী চোখে চোখ রেখে চোখের ভাষায় বলবে, "তুমিতো অন্তত চেষ্টা করেছো ।" কিন্তু ১ম শ্রেনীভুক্ত পুরুষের স্ত্রী কি বলবে? আর ১ম শ্রেনীভুক্ত পুরুষদের আসলে বলার কি আছে। বরং এরাই স্ত্রী নষ্টা হয়ে গেছে বলে পরিত্যাগ করতে পারে।
এটা ছিলো একটা রূপক গল্প। এবার গল্পটিকে বাস্তবতার দিকে টেনে আনি। সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর অবস্থানে প্রথমে মা'কে আনুন। তারপর মা'র অবস্থানে দেশকে আনুন। আর ৩/৪ জন সন্ত্রাসীর স্থলে অধিকতর সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন পার্শ্ববর্তী দেশ ২টির যে কোন একটিকে বসান।
এখন বলুন, আপনি কোন শ্রেনীর পুরুষ হতে চান? যে পারবে না জেনে চুপচাপ প্রিয়জনের ধর্ষনকে চুপচাপ মেনে নিবে, তাদের শ্রেনীভুক্ত? না
কি যে পারুক আর না পারুক, প্রিয়জনকে রক্ষা করতে লড়বে, বাচুক অথবা মরুক। জিতুক অথবা হারুক। এই শ্রেনীভুক্ত মানুষ দিনের শেষে মাটির উপর দাঁড়িয়ে বলবে, "মা ও মাটি, আমি চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি" অথবা বলবে, "আমি চেষ্টা করেছি এবং তোমার সম্মান রাখতে পেরেছি"।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



