somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যবিত্ত অতঃপর

২০ শে মে, ২০১৫ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-----------------দুই--------------------
আমি ও বাবা কিরণমালা দেখতেছি ইস্টার জলসায়। মা কিরণমালা দেখতে খুব পছন্দ করে। শুরু হয়েছে বুঝতেই পারেনি রান্না করতে ব্যস্ত থাকায়। বাবা মাকে ডেকে আনতে বলল। আমি বারেন্দায় গিয়ে একটু থেকে আসলাম মাকে না ডেকে। কেন যেন ডাকতে মন সাঁয় দিল না। ফিরে আসতেই বাবার জিজ্ঞাসা,
তোর মা আসবে না?
হ্যাঁ আসবে।
আচ্ছা মেঘ, বলত কিরণমালা কি সত্যিই একটি কাল্পনিক গল্প?
বাবা, এখন দেখত। বাবা কি বলত তা আমার জানা। বলবে আমাদের বাংলাদেশের পেক্ষাপটে হুবাহু মিল আছে। ইত্যাদি ইত্যাদি
মেঘ, রান্না ঘর থেকে মা ডাক দেয়।
মা, বল।
কিরণ শুরু হইছে।
তুমি দেখবে না? তারাতারি আস। বাবার বলা শেষ না হতেই মা আসল।
মেঘ, তুই আমাকে ডাকলি না কেন?
তুমি আসলে কে রান্না করবে?
এত বড় মেয়ে! সাথের মেয়েগুলোর দু এক টা বাচ্চাকাচ্চার মা হয়েছে। স্বামীর সংসার করছে। তুইতো কোনদিন রান্না করিস না। নবাবের মেয়ে। আবার আমাকে বলে রান্না করবে কে? আমি কি এবাড়ির চাকর হয়ে এসেছি? মিলি রোজ বাড়ির কাজ করত, রান্না করত। আর তুই?
মা, শুনতে দিবে। রেডিও চিলমারীর ভাওয়াইয়া সম্প্রচার অফ কর। মা সত্যিই আর কোন কথা বললেন না। কিরণমমালা দেখছি কেউ কোন কথা না বলে।

নয়টায় কিরণমালা শেষ হলে বাবা রিমোট দিয়ে চ্যানেল পরিবর্তন করে বাংলাদেশের খবর দেখা শুরু করতেই মা ছুঁই মেরে রিমোট নিয়ে স্টার জলসায় দিল "বুঝে না সে বুঝে না " দেখতে লাগল। বাবা কিছু না বলে বাইরে গিয়ে বারেন্দায় চেয়ারে বসল।
মা এটা কি ঠিক হল?
কোনটা আবার?
বাবার হাত থেকে কেড়ে নিলে যে।
মেঘ, দেখ নয়ত চলে যাও বাইরে। আমাকে দেখতে দাও। মা আমাকে রাগ হয়ে বলে। আমি আর কিছু না বলে বারেন্দায় বেরিয়ে আসি। বাবা কালের কণ্ঠ পড়ছে।
আচ্ছা বাবা, রোজরোজ সকালের খবর রাত্রে পড় কেন? কাগজ তো সকাল বেলা পড়তে পার। তে ছাড়া ইচ্ছে করলে যখনি ঘটনাটি ঘটল তখনি অনলাইন পত্রিকায় দেখতে পার।
হু। বাবা মুখ না তুলেই বলল।
বাবা, তুমি কি মাকে খুব ভয় পাও?
না, কেন?
এই যে মা সকালবেলা তোমার হাতে ব্যাগ তুলে দেয় বাজার নিয়ে আস। একটু এদিক ওদিক হলে মা ঝাড়ি দেওয়া শুরু করে। তুমি কিছু না বলে শুধু শুন। সকালে খেয়ে স্কুলে যাও সাড়ে চারটায় স্কুল থেকে ফিরে আসলেই তোমার উপর শুরু........।
মারে। পরিবারে একজন গরম হলে আর একজন কে নরম হতে হয়। নইলে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকে।
বাবা, সেই গরমটা তুমি হতে পার। মা তো নরম হতে পারে। আর এই নয়যে সংসার ভ
ভালো চলছে। বাবা কিছু বলে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মা চার্জার লাইট নিয়ে বারেন্দায় আসে।
বাবা-মেয়ে মিলে আমার নামে ভালোই গীবত হচ্ছে। মনে করছ আমি শুনিনি। পঁচিশ বছর হলো বিয়ে হবার। কি পেয়েছি? সংসারে না আছে সুখ, না আছে শান্তি। বিয়ের সময় বাবাকে বলে ছিলাম কোন শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ে আমাকে দিও না। তোর বাবা আমাকে দেখে পাগল। বিয়ে না করলে বাঁচবে না মারা যাবে। তোর বাবাকে বাঁচাতে এসে নিজেই মারা গেলাম। আর....
বাবা, চুপ করতে বলবে?
তুই চুপ কর। তোর জন্মের সময় আমার বেশি কষ্ট হয়েছে। বাকি এক মেয়ে আর দুই ছেলের জন্মের সময় এত কষ্ট হইনি। তখন যদি জানতাম একটা নাগিনী জন্ম দিচ্ছি, তাহলে সেদিনই গলা চেপে হত্যা করতাম।
আজ কর। কেউ জানবে না। বাবা তোমার ভয়ে মুখ খুলবে না। ভাইয়ারা কেউ বাসায় নেই। কেউ জানবে না। অন্ধকারে লাশটাকে বাড়ির পিছনে পুঁতে রাখিও।
কারেন্ট আসছে। তুই ঘরে যা। পড়তে বস। বাবার কথায় শত বিরক্তি। মেজাজটা গরম হলো বাবার উপর। মা ঘরে গিয়ে আবারো টিভি দেখা শুরু করে। বাবা চেয়ার থেকে উঠে উঠানে গিয়ে পায়চারি শুরু করে। ঘরে আমার ফোনটা বেঝেই চলছে। গিয়ে দেখি রুমির ফোন করছে। রিচিভ না করে ভাইব্রেসন করে রাখলাম। এখন কল দিতেই থাক।
(চলবে)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×