somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি ১৫ বছর বয়সী একজন মেয়ে।আমার একটি চাকরির দরকার, কিন্তু আমি পাচ্ছি না। কী করা উচিত?

২০ শে আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ quora.com-এ লগইন করে শিরোনামে দেয়া প্রশ্নটা সবার আগে চোখে পড়ল। নিচে পোস্ট করা উত্তরটাই আমি সেখানে লিখেছি। ব্লগারদের উত্তরটা শেয়ার করলাম সবার অভিমত জানার জন্য। নীচে উল্লেখা করা অপশনগুলোর বাইরে তার আর কোথায় কোথায় কাজ করার সুযোগ আছে বলে আপনাদের মনে হয়। উল্লেখ্য যে, প্রশ্নকারীর পরিচয় আমার জানা নেই।

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আরো অনেক তথ্যের প্রয়োজন। যেমন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোথায় থাকেন এবং সেখান থেকে আপনার কি ধরণের কাজ করার সুযোগ আছে, কিংবা আপনি নিজে কি ধরনের কাজে আগ্রহী-এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেননি। আমি একটা সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড চিন্তা করে আপনার প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি, আশা করি আপনার কাজে লাগবে।

সবার আগে আপনার বয়স। জানিয়েছেন আপনার বয়স ১৫ বছর৷ বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী সকলকেই শিশু হিসেবে গণ্য করা হয় এবং কোন শিশুকে কাজে নিযুক্ত করাকে শিশুশ্রম হিসেবে গণ্য করা হয় যা এদেশের আইন অনুসারে অপরাধ।তাই এই বয়সে সরকারী বা বেসরকারী-কোন সেক্টরেই আপনি চাকরী পাবেন না। অর্থাৎ ফরমাল জব সেক্টরে কাজের সুযোগ আপাতত আপনার নেই। তাই গার্মেন্টস সেক্টর বা সেলস গার্ল হিসেবে কাজ পাওয়ার আশা না করাটাই আপনার জন্য ভাল হবে।

এবার আসি ইনফরমাল সেক্টরের কোথায় কোথায় আপনার কাজ করার সুযোগ আছে সেই বিষয়ে।

১.বয়স অনুসারে ধরে নেয়া যায় আপনি এখনো স্কুল ছাত্রী। সেক্ষত্রে আপনার জন্য একটা সুযোগ হতে পারে টিউশানী কিংবা প্রাইভেট পড়ানো। ছোট ছোট বাচ্চাদের আপনি পড়িয়ে দেখতে পারেন।একজন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজের ছাত্র টিউশানী করে যা করেন, আপনার আয় তারচেয়ে নিঃসন্দেহে কম হবে।

২.আমি জানি না আপনি মাদ্রাসা ছাত্রী কিনা কিংবা সহীহ কুরআন শিক্ষা করেছেন কিনা। যদি করে থাকেন, সেক্ষেত্রে নিয়মিত কুরআন শিক্ষা দিয়েও আপনি ভাল হাদিয়া পেতে পারেন। স্কুলের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর ক্ষেত্রে আপনাকে নিজের চেয়ে ছোট ক্লাসের বাচ্চাদের পড়াতে হবে, কুরআন শেখানোর ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

৩.আপনার জন্য আরেকটা সুযোগ হতে পারে সেলাইয়ের কাজ। বাংলাদেশে আড়ং বা অন্যান্য ব্র‍্যান্ডের দোকানসমূহে উচ্চদামে নকশী কাথা বা নকশা করা বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হয়। যদি এই কাজে আপনার দক্ষতা থাকে, তবে সেটাও আপনার জন্য ভাল সুযোগ হতে পারে। এছাড়া বিভিন্নরকম শো পিস তৈরী ও বিক্রির চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

৪.আপনার জন্য আরেকটা ভাল সুযোগ হতে পারে রান্না বান্না। বিভিন্ন পদের রান্না করে আপনি স্থানীয় রেস্টুরেন্ট বা দোকানে সাপ্লাই করতে পারেন বা ফুডপান্ডা জাতীয় কোন ফুড ডেলিভারী সার্ভিসের সাথে এফিলিয়েশনের মাধ্যমে খাবারদাবার হোম ডেলিভারীর ব্যবস্থাও করতে পারেন।

৫. আরেকটা ভাল অপশন হল প্রফেশনালি মেহেদী দেয়া। গায়ে হলুদ কিংবা বিয়ে উপলক্ষ্যে অনেকেই কনে আর তার পরিবার বা কাছের মানুষজন একসাথে মেহেদী দেন।এক্ষেত্রে ডিজাইন অনুযায়ী ভাল বিল চার্জ করার সুযোগ আছে। তবে এখানে নিয়মিত কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তা আছে।

৬. তিন,চার আর পাঁচ নম্বরে বলা পয়েন্টগুলোর সুবিধা হচ্ছে এগুলো তৈরী করে আপনি সরাসরি দোকান কিংবা ভোক্তার কাছে বিক্রি করতে পারবেন, আবার তৈরীর ভিডিওগুলো ইউটিউব আর ফেসবুকে আপলোড করে ভাল অর্থোপার্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ এক কাজ করে একাধিক সোর্স থেকে অর্থ উপার্জন। তবে ভিডিওগুলো আকর্ষণীয় করার জন্য ভিডিও এডিটিং এর ওপর আপনার ভাল দক্ষতা থাকতে হবে। অথবা ভাল ভিডিও এডিটিং জানেন, এমন কারো সাথে কোলাবোরেশন করেও কাজ করতে পারেন।

৭. ইনফরমাল সেক্টরে অর্থোপার্জনের আরেকটা ভাল সুযোগ হল ফ্রিল্যান্সিং। আপনার যদি নিজস্ব কম্পিউটার থেকে থাকে আর যদি কোডিং, ওয়েব ডিজাইন, ফটোশপ, ভিডিও এডিটিং বা মাইক্রোসফট অফিসে(ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট) ইত্যাদিতে আপনার ভাল দক্ষতা থাকে, সেক্ষেত্রে এটা আপনার জন্য সম্ভাবনাময় সুযোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে দক্ষতা কম হলে বা না থাকলেও ডাটা এন্ট্রি, অনুবাদ, এসে রাইটিং করেও অর্থোপার্জন সম্ভব, তবে সেটা পরিমাণে কম।

৮. কেন এই বয়সেই আপনার চাকরি করা প্রয়োজন বা আপনার একাডেমিক রেজাল্ট সম্পর্কে কোন ধারণা নেই, তাই বলছি, যদি সুযোগ থাকে, তবে চাকরি না করে সরকারী বা বেসরকারী কোন বৃত্তি পাওয়ার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহী করার জন্য, স্পেশালি গ্রামের এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য সরকার, বিভিন্ন এনজিও আর নামকরা বহুজাতিক কোম্পানিসমূহ তাদের সিএসআর (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি) ফান্ড থেকে বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ ধরণের একটা ভাল বৃত্তি পেলে আপনি নিশ্চিন্তে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করি।

এই মুহূর্তে আপনাকে এতটুকু পরামর্শই৷ দিতে পারছি। আশা করি, একটু হলেও লাভ হবে।
ভাল থাকুন। আপনার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।


quora.com -এ আরও কিছু জীবনমুখী প্রশ্নের আমার দেয়া জবাবঃ
ব্যবসায় সফলতার মূলমন্ত্র কি?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। কালবৈশাখী

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:২৪



গত পরশু এমনটি ঘটেছিল , আজও ঘটলো । ৩৮ / ৩৯ সে, গরমে পুড়ে বিকেলে হটাৎ কালবৈশাখী রুদ্র বেশে হানা দিল । খুশি হলাম বেদম । রূপনগর... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন খাঁটি ব্যবসায়ী ও তার গ্রাহক ভিক্ষুকের গল্প!

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:০৪


ভারতের রাজস্থানী ও মাড়ওয়ার সম্প্রদায়ের লোকজনকে মূলত মাড়ওয়ারি বলে আমরা জানি। এরা মূলত ভারতবর্ষের সবচাইতে সফল ব্যবসায়িক সম্প্রদায়- মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ীরা ঐতিহাসিকভাবে অভ্যাসগতভাবে পরিযায়ী। বাংলাদেশ-ভারত নেপাল পাকিস্তান থেকে শুরু করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:০৮

আমরা সবাই জানি, ইরানের সাথে ইজরায়েলের সম্পর্ক সাপে নেউলে বললেও কম বলা হবে। ইরান ইজরায়েলকে দুচোখে দেখতে পারেনা, এবং ওর ক্ষমতা থাকলে সে আজই এর অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়।
ইজরায়েল ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগ্ন রাজা কর্তৃক LGBTQ নামক লজ্জা নিবারনকারী গাছের পাতা আবিষ্কার

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১১:৪০

LGBTQ কমিউনিটি নিয়ে বা এর নরমালাইজেশনের বিরুদ্ধে শোরগোল যারা তুলছেন, তারা যে হিপোক্রেট নন, তার কি নিশ্চয়তা? কয়েক দশক ধরে গোটা সমাজটাই তো অধঃপতনে। পরিস্থিতি এখন এরকম যে "সর্বাঙ্গে ব্যথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছিঁচকাঁদুনে ছেলে আর চোখ মোছানো মেয়ে...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:০৯

ছিঁচকাঁদুনে ছেলে আর চোখ মোছানো মেয়ে,
পড়তো তারা প্লে গ্রুপে এক প্রিপারেটরি স্কুলে।
রোজ সকালে মা তাদের বিছানা থেকে তুলে,
টেনে টুনে রেডি করাতেন মহা হুলস্থূলে।

মেয়ের মুখে থাকতো হাসি, ছেলের চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×