somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Jahid Rafan Abdullah
খুব বেশি অনুপ্রাণিত হই আর অনুকরণ করার একটা বদঅভ্যাস থেকেই লিখি। কখনো একে কখনো তাকে অনুসরণ করার বৃথা চেষ্টা থাকে। অনুগল্প, ছোটা গল্প অনুকাব্য লিখতে ভালো লাগে।

চোখে বেয়ে নিচে নেমে দেখি অন্ধকার

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ ভোর ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে দেখি অন্ধকার
.
আমার চেনা, নাম অতুল। একটা সময় কালাপানি থাকতো। মারবেল খেলতো। আমিও খেলতাম। আমরা একবার ঠিক করলাম দূরে যাবো। সাইজে আমরা ছোট, হাঁটতে গেলে মানুষের নিতম্বে নিতম্বে বাড়ি খাই। তবু যাকগে, আমরা ভিড়ে যাবো। পাছা ঠেলে, হাঁটতে হাঁটতে অনেকদূর এগিয়ে যাবো। অতুল খয়রাতির ছেলে, আমি মধ্যবিত্ত। বয়স সাত, আমি স্কুলে পড়ি। ও পড়ে না। টাকা নাই। একদিন, অংশুমালী তার মাইবিহীন বুক উচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই সময় আমি স্কুল কামাই দিয়ে লাট্টু খেলি। অতুল কোপ দিয়ে আমার লাট্টুর গোশ খেয়ে ফেলে। আমি চোখে বিষাদ আনি। অতুল সেই চোখ বেয়ে নিচে নামে। আধাভেজা সিড়ির শেষে অন্ধকার কিছু। সেখানে ভিম কাটানো লাট্টুর হাহাজারি দ্যাখে। অস্ফুট আবেদন স্বমেহনের আগেই বের হওয়া ভ্রুণের মতো লেঁতিয়ে থাকে।
"খেলুম না, যাইগা", আমার ফাঁটা কণ্ঠনালী চিড়ে থুতুর মতো বের হয়ে আসে। ''লাটিম লাগলে চল আমার লগে"। আমার চোখ শুকিয়ে জিভ ভিজে ওঠে।
গার্ডিয়ান ছাড়া বাসে কখোনো উঠি নাই। সেই প্রথম, মাঝখানে জোড়া দেয়া ফ্রন্ট গ্লাস, সাদা কালিতে লেখা "১নং - লোকাল"। ফার্মগেট নামের কোনো এক বনভূমিতে নামি। দূর্বাঘাসের মতো মাজা এদিক সেদিক ঘুড়িয়ে মানুষ আর ছায়া চলছে। ছায়া নিবারণের জন্য অনেকে গাছতলায় গিয়ে দাঁড়ায়। গাছ তলায় পেট বের করে দাড়িয়ে থাকা মধ্যবয়স্কার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অতুলের মুখ চলে। "ওইডা কিন্তু বেশ্যার দালাল"। তখনো পতিতা শব্দের সাথে মিলিত হই নাই। আর বেশ্যার কোনো সংগা জানিনা। তাই অতুলের কথার কোনো অর্থ দাঁড়ায়না আমার কাছে। ধীরে সিড়ি বেয়ে উঠি। ওভারব্রিজের উপর মানুষ হাঁটে, ছায়া হাঁটে না। অংশুমালীর গরম মুত সরল পথে চলে। পথ বেঁকিয়ে ব্রিজের ছাউনি কাটায় না। সাড়ি সাড়ি লাটিম নিয়ে আমি কিংবা একটু ছোট ছায়াবিহীন শিশু। "এইডা কত?" "পাঁচ টাকা"। দাম জেনে নিয়ে অতুল আমার দিকে তাকায়। আমি উল্টো দিকে ব্রিজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে দেখি গাড়ির সাড়ি। পেছনেরটা সামনেরটার কালো পাদ মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। লোকাল বাসগুলো একটা আরেকটার পাছা হাতরাচ্ছে। হটাৎ আমার মোহ ভাঙ্গে। পেছন ঘুরে দেখি অতুলের চুল মুষ্টিবদ্ধ। "কিরে মাগির ছাওয়াল এই বয়সেই এই কাজ শুরু করছোস?"। সেই নাভি দেখানো মধ্যবয়স্কা, কপোল বেয়ে পানের লোহিত রস চিরিক চিরিক ছিটছে। সেই অবাধ্য রস, অাঙ্গুলি করতে করতে ক্ষয়ে যাওয়া নক বিশিষ্ট আঙ্গুল দিয়ে মুছে নিয়ে মুখে দিতে দিতে অতুলের গালে চড় পড়ে। দূর থেকে কাম পিপাসী ছায়াওয়ালা চাচা হাঁক ছাড়ে, "কিরে মাগী আহোস না ক্যান?" অতুলের চুলের মুটি আলগা হয়। লাটিম বেঁচা শিশু হাত উচিয়ে তিনটাকার লাট্টুখানা ফ্রিতে দিয়ে দেয়। আর তর্জমা করে অপৌরুষ অতুল কেমন করে নাভি দেখানো মধ্য বয়স্কার নিতম্বে ঢুকে গিয়েছিল।
অতুল বেঁচেছিলো সতের বছর। তারপর শুনেছি পকেটমারতে গিয়ে ধরা খেয়েছিল। বেদমমারে কে যেনো ওর মুষ্কথলি ফাঁটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মারা যায়। আমি দৌড়ে মোল্লা বস্তিতে পৌঁছাই। লাশ হয়ে শুয়ে থাকে অতুল। আমি ওর চোখ বেয়ে নিচে নামি, দেখি মায়ের অসুখ, টাকা, ঔষুধ, বোন, বিবাহ। শব্দগুলো বসে বসে উপহাস করে, অপূর্ণতা আর অপ্রাপ্তিতে হামাগুড়ি দেয়। কে যেনো ধাক্কা দেয়! আমি লাশ দেখি। আবার চোখের গভীরে যেতে চাই। সিড়ি বেয়ে নিচে নামি। কিছু নেই সেখানে। অতুলের চোখ এখন বন্ধ।
.
JRA

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ ভোর ৪:১৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×