somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাবনা

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বহুদিন অফ লাইনে ছিলাম। মাঝে মাঝে এত ভালো পোষ্ট দেখি তখন সেই ব্লগারকে ইচ্ছে হয়- তাই আসা। মাত্র বাইরে এসেছি দেশ ছেড়ে। ভালো বা মন্দ কিছুই বুঝতে পারছিনা।


অত্যাধোনিক কবিতার ফ্রেমওয়ার্ক
একটা প্রিয় পোষ্ট: সোজা কথার সৌজন্যে (নতুন আসায় অনুমতি নিইনি। ক্ষমা র্প্রাথী) দিলাম। কিছু ব্লগার এর অদ্ভূত কবিতা দেখে আবার এলেখাটি পড়েছি।

কবিতা আইফোনের মত জেনারেশন পাল্টাতে পাল্টাতে কবতে থেকে অত্যাধুনিক বা অত্যাধোনিক পর্যায়ে পৌছেছে। সম্প্রতি সামহোয়ারে একটি অত্যাধোনিক কবিতা ব্যাপক হীট পেয়েছে । উক্ত কবিও ভক্তকুলের উত্তেজক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বোবা হয়ে গেছেন।

অত্যাধোনিক কবিতা এক্সপেরিমেন্টাল কবিতা । এখানে পুরনো বোধগম্য কবিদের আপগ্রেড করার সাহায্যার্থে অত্যাধোনিক কবিতার একটি বিজ্ঞান সম্মত ফ্রেমওয়ার্ক (বা রেসিপি)র বর্ণনা দেয়া হল।

ট্রেডিশনাল কবিতার মত কবিতার গুণে ভক্ত সৃষ্টি না হয়ে এখানে কবিতা লেখার আগে ভক্ত নিশ্চিত করতে হয়। ললিপপ সরস শব্দ বিন্যাসের মত ললিপপ সরস প্রোফাইল আছে কিনা জেনে নিন।ভক্ত না থাকলে নতুন ধাঁচের এসব কবিতা সফল হয় না, কবিও হীট না পেয়ে স্বাভাবিক কবিতায় নির্বাসিত হয়ে যেতে পারেন।

উপকরণ
সার্থক চলচ্চিত্রে যেমন ড্রামা, একশন সাসপেন্স থাকা ফরজ, এ ধরণের কবিতায়ও তেমন কন্ট্রাস্ট, এটাকিং, গলাগলি মিল এবং পাঠকের মনে ভূমিকম্প তৈরীর উপাদান থাকতে হবে। টিভিতে প্রদর্শিত উকুনের শ্যাম্পুর আমলকি, হরিতকি, বয়রার নির্যাসের মত অত্যাধোনিক কবিতার কাঠামোর মূল হল পাঁচ পাঁচটি উপাদান

ক. লজ্জাহীন শব্দের সমাহার । ১৮+ শব্দের তালিকা করুন। চটি পত্রিকার গ্রাহক হলে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিছু শব্দের উদাহরণ:
কৃমি, যোনি (কুঞ্জ), শিশ্ন, স্তনমূল, উলান, কাশি, বীর্য, মুত্র, পোঁদ (ভাঁজ), স্তন, নিতম্ব, চুম্বন(?), নিতম্ব খাঁজ, উরু(?), বিবস্ত্র

খ. প্রতিক্রিয়াশীল ক্রিয়া পদ: দুধে কাশি মেশানো বা উরু দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো জাতীয় কিছু বিখাউজ ক্রিয়া পদ উদ্ভাবন করতে হবে । নারীর মাতৃ অঙ্গের পারভার্ট ব্যবহার কবিতায় ভিন্ন মাত্রা জুড়ে দেবে ( তবে হকিংসের মাত্রায় গেলে সময় লস )। উদাহরণ:
ঘাই দেয়া, দুগ্ধ পান, কাশি ঝাড়, মুত্র পান, কৃমি ওড়া, স্তন বেয়ে নামা ইত্যাদি।

গ. আবাল পতঙ্গ এবং জন্তু: জন্তু জানোয়ার থাকলে সার্কাস দেখাতে সুবিধা। কৃমি, মাছ, তক্ষক, সাপ, জন্তু(সন্তান), আনাকুন্ড, ভাইরাস, ছত্রাক এগুলো কোনটাই বাদ দেবেন না। কারণ যদি লাইগা যায় এই তত্বে বিশ্বাস করুন। নিজেই চিন্তা করুন যদি বলেন বাঘিনীর পিঠে ঘুম যায় রবীন্দ্রনাথ কেমন ফাটাফাটি লাগবে না?

ঘ.অপমানের উদ্দেশ্য নির্বাচিত ব্যক্তি, জাতি বা পবিত্র স্হান: মোটর সাইকেল নিয়ে যেমন নায়ককে চলচ্চিত্রে ঝাপ দিয়ে দর্শকের মনোরঞ্জন করতে দেখা যায়। তেমনি বিখ্যাত কাউকে দিয়ে নোংরামি করাতে হবে। বুঝতেই পারছেন গান্ধীর শিশ্ন বা লেনিনের বগল বললে কমেন্ট করার জন্য লোকে কবিতা পড়বে। শ্রদ্ধাযোগ্য যে কোন শব্দই বাদ দেয়া মত নয় । যেমন: গান্ধী, মুজিব, তালাত মাহমুদ, ঈশ্বর, ভগবান, রাম, অর্জুন, নারী, মানুষ, পুরুষ, মসজিদ, গীর্জা ইত্যাদি।

ঙ. কিছু জীবনানন্দীয় স্হান যাতে নিন্দুকেরা ঢিল কম ছোড়ে। যেমন প্রাচীন গুহা, ইলোরা, প্রত্নভূম, মাজার, প্রার্থনাস্হল, পাহাড়।

এবার অত্যাধোনিক কবিতার প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে সামুতে প্রকাশিত কবিতার উদাহরণটি দেখে নিন । পাচকদের প্রায় সবাই দেখে দেখেই শেখে। কবিতার নামটি দিন এমন যেন মনে হয় ড্রয়িং রুমে বসে বস্তিবাসীদের খিস্তি শুনছেন । খনার বচন আছে না, গলি থেকে হয় রাজপথ, গালি থেকে হয় উন্নত কবিতার টাইটেল।

১. শুরুতেই কৃমি বা (বেশী ইমোশনাল হলে) ব্যাঙ কে উড়তে দিন এবং তার শব্দের বর্ণনা দিন। প্রথম লাইনেই যত দ্রুত সম্ভব ১৮‍+ বিশেষ্য বা বিশেষণ ব্যবহার শুরু করুন। যেমন নিতম্বের ভাঁজে কদবেল গাছ গজাতে পারেন অথবা কুঁচকিতে বাইসন জাতীয় একটি প্রাণী লেলিয়ে দিতে পারেন । ( এতে অন্ধ সমঝদারদের ব্যাপক হাত তালি পাবেন)।

২. শুরু থেকে স্যান্ডউইচ করুন পরিচিত বা মহান কারো প্রতি অশালীন ইঙ্গিত যাতে বিপ্লবী ভাব প্রকাশ পায়। যেমন জিন্নাহর প্রজনন তন্ত্রের উপর অত্যাচার করতে পারেন । মোড়ের সস্তা মেডিকেল টেস্ট সেন্টারের সাইনবোর্ডের মত এখানে ওখানে কাশি, মুত্র, বীর্য ইত্যাদি লিখে রাখুন। প্রাচীন গুহা, মাজার, গীর্জা, জঙ্গল এসব স্হানের নাম যুক্ত করুন যদি স্হান থাকে । মনে রাখবেন পাবলিকের মনে কাব্যভাব জাগ্রত করারজন্য কবিকে মল মুত্র ভক্ষণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নিউটনের সু্ত্র যেমন কোয়ান্টাম জগতে অচল, তেমনি সনাতন কাব্যসৌন্দর্যের বেল নেই এখানে ।

৩. যদি ঘুম আসে তো কোন অশ্লীল অঙ্গের বর্ণনা দিয়ে বা প্রতিক্রিয়া দিয়ে চাঙ্গা করে নিন । কন্ট্রাস্টের অভাব পড়লে বলুন "নীল চায়ের রঙ রতক্রিয়া বা "বেগুনী স্তনের ওপর পারদের ওঠানামা" ইত্যাদি! বাস্তব অবাস্তব ভাববে পাঠক। আপনি যদি শিশ্ন থেকে কফি নির্গত হচ্ছে বলেন তবুও কিছু ভক্ত না বুঝে বলবে ওয়াও !

৪. প্রথম দিকে দুর্লভ গুপ্তাঙ্গের কু শব্দের আধিক্যে ক্লান্ত হতেই পারেন । যে কোন ভদ্র লোক হবেই। সুতরা শেষের দিকে এসে ঘুড়ি ওড়ান বা হাত পা মুখ উরু যে কোনটিকে মাঞ্জার সুতা বা নাটাই বানিয়ে বিশ্রাম নিন।

মিনিট দশেক জিরিয়ে নিয়ে সামু ব্লগে আপডেট করুন।
মনে রাখুন নাম নাই যার দাম নাই তার। প্রোফাইলের জন্য উপযুক্ত নাম না খুঁজে পেলে টিভির নাটক দেখতে থাকুন । যে কোন নাটকের নাম নিক করে নিন। আর তবুও পাঠক না পেলে সরাসরি এক লোলবর্ধক ছবি প্রোফাইলে সংযুক্ত করে লগ আউট করুন।
---
সত্যি কিনা?



সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×