somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপেক্ষার প্রহর

০৮ ই মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝট করে বিছানায় উঠে বসলো ছেলেটি।ঘোরের মধ্যেই যেনো খাট থেকে নামলো।টেবিল থেকে চশমাটা তুলে নিলো।চশমার কাঁচের ভিতরে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে উঠে ছেলেটি।চোখ মুছে চারপাশে ভালো করে তাকায়।অস্থির হয়ে কাউকে খুঁজে বেড়াই চারপাশে।

একসময় ক্লান্ত হয়ে ধপ করে বসে পড়ে মাটিতে।মুখের বিমর্ষ ভাবটা দেখে বুঝা যায় যা খুঁজেছিলো তা পাইনি।
বুঝতে পারলো স্বপ্ন দেখেছে সে।স্বপ্নেই শুধুমাত্র এরকম একটা অলীক কল্পনা সম্ভব।

ছেলেটা কাঁদছে!!
দুই ফোটা জল ছেলেটার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো।তারপর বাঁধভাঙ্গা চোখের জল ঝরঝর করে ঝরতে লাগলো।
বুঝাই যায় স্বপ্নটা ছেলেটির কোন পুরানো ক্ষত আবার জাগিয়ে তুলেছে।হয়তো ছেলেটির খুব প্রিয় কোন মানুষের স্মৃতি।

হারিয়ে যাওয়া মানুষটির সাথে সাথে হারানো স্বপ্নগুলোকে এখনো প্রতিদিন খুঁজে বেড়াই ছেলেটি।ইনবক্স হাঁতড়ে চলে যাওয়া প্রিয় মানুষটির পাঁঠানো মেসেজ গুলো দেখে।অনুভব করে অদৃশ্য কারো উপস্থিতি।
দিন গুনে অসম্ভব একটা আশায়।প্রতিদিন চলার পথে শত তরুণীদের কড়া মেকাপে মোড়ানো সুন্দর মুখ ছেলেটিকে আকর্ষণ করতে পারেনা।চলে যাওয়া মানুষটির চেহারা চোখে নিয়ে ছেলেটি প্রতিরাতে ঘুমাই।
সেই বন্ধ চোখের পাতার ফাঁক দিয়ে হয়তো খুব নিংশব্দে গড়িয়ে পড়ে এক ফোঁটা জল।
মাঝরাতে কখনো ঘুম ভেঙ্গে গেলে ডুকরে কেঁদে উঠে হয়তো নিজের অজান্তেই।

সকালে জেগে উঠে সেই কষ্টভরা অনুভূতি নিয়ে।কিন্তু খুব দ্রুতই নিজেকে ঠিক করে নেয়।ছেলেদের চোখে কান্নার জল মানায় না।
তাই ছেলেটা মুখ থেকে মুছে ফেলে সব কষ্টের ছাপ।হাসিমুখে শুরু করে নতুন একটা দিন।

অনুভূতিগুলো আড়াল করার চেষ্টা করে প্রতিনিয়ত।কারো সাথে শেয়ার করতে পারেনা।পাছে কারো বিদ্রুপের শিকার হতে হয়।সবার কাছে নিজেকে শক্ত প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে।সবাই যাতে ভাবে ছেলেটা বদলে গেছে।
কিন্তু যার মনে ভালবাসা একবার নীড় করেছে সে চাইলেও বদলাতে পারেনা।
অব্যক্ত কষ্টগুলো প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খায়।যন্ত্রনার চোরাবালি প্রতিনিয়ত একটু একটু করে শুষে নিতে থাকে ছেলেটিকে।
যে হ্নদয়টা একদিন পরিপূর্ণ থাকতো শুধু ভালোবাসায়।সে হ্নদয় এখন আশ্রয় খোঁজে নিকোটিনের বিষাক্ত ধোয়ায়।
প্রিয় মানুষটি যখন সুখের আশায় নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত,ছেলেটি তখন একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যতের চোরাবালিতে।
সুখ,স্বাধীনতার মুক্ত আকাশে উড়ার অজুহাতে ভালবাসার মানুষটি যখন ছেড়ে চলে যায় ছেলেটি তখন হয়তো মনে মনে শুধু বলে,সুখে থেকো।

হ্যা।সুখটাই তো এখন ভালোবাসা নামক বিনিয়োগে বড় পুঁজি।সুখে-দুঃখে এখন আর ভালোবাসা হয়না।
হ্নদয়ের অল্প পুঁজিতে যে ভালবাসা হয় তা শুধু সুখের পিছনে বিনিয়োগ করা হয়।
দুঃখের সময় সেই বিনিয়োগে ধ্বস নামে।আর সামান্য ভুলের অজুহাতে সেই ভালোবাসা পিছনের দরজা দিয়ে পালায়।

সেই ফেলে যাওয়া ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে হাসিমুখে দিন পার করে কিছু মানুষ।

ছেলেটি ছাইছাপা কষ্ট বুকে চেপে রাখতে শিখে গেছে।
শিখে গেছে কিভাবে আবেগকে লাগাম দিয়ে রাখতে হয়।

কিন্তু শিখতে পারেনি কিভাবে প্রিয় মানুষটিকে ভুলে যেতে হয়।

ভালো থাকুক ছেলেটি।ভালো থাকুক প্রিয় ভালোবাসার মানুষটি।ফিরে আসুক স্বপ্নগুলো।
ভুল করে হলেও ভুল পথে ভুল সময়ে স্বপ্নগুলো আর একবার রঙ্গীন হোক ছেলেটির চোখে।

দীর্ঘজীবী হোক জগতের সব পবিত্র ভালোবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×