somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিশোধ - জান্নাতুন নাইম ইরা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নয়না ঘরের চৌকাঠে বসে আছে। চুলায় বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। নয়নার কানে বারবার বাজছে সাত বছরের ছেলের বলা কথা,
‘মা, অনেক দিন বিরিয়ানি খাইনা। একটু বিরিয়ানি রান্না করো না?’
ছেলের কথায় মা বিরিয়ানি রান্না করেছিল। কিন্তু ছেলে আর খেতে পারেনা।ছেলে সেই যে খেলতে গেল আর ফিরে এলো না।যেন পৃথিবীতে থেকে উধাও হয়ে গেল।মা সারাদিন বসে ছিল বিরিয়ানি নিয়ে।ছেলে আসবে এসে বলবে ‘মা অনেক ক্ষুধা লেগেছে। বিরিয়ানি করেছ ? খেতে দাও তো’
নয়নার মুখে একটা তৃপ্তির হাসি দেখা যায়। এতদিনে তার প্রতিশোধ পূরন করতে পেরেছে।
দরজায় অনেক সময় যাবত টোকা দেয়ার পর ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলে দিতে আসছে না।ওসি রহমান আর হাবিলদার গোলাম দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। গোলাম ওসি রহমান কে উদ্দেশ্য করে বলল, “দেখুন মহিলা খুন করে পালিয়ে গেছে।তা না হলে দরজা খুলতে এত সময় লাগে না।”
রহমান গোলাম কে ধমক দিয়ে বলল, “তুমি চুপ করো তো।সব বিষয়ে বেশি কথা বলো না। এইভাবে কাউকে খুনী বলো কিসের ভিত্তিতে”
গোলাম বলল, “কিন্তু ভদ্রমহিলা তো বলল তার স্বামী খুন হবার আগে এই বাড়ির সামনে এসেছিল।”
রহমান বলল, “কারো মুখের কথায় কাউকে খুনী বলা যায় না।আইন প্রমান চায়।প্রমান ছাড়া কাউকে অপরাধী বলবো কীভাবে?বাড়ির সামনে এলেই খুন হয়ে যায় না”
দরজায় খট করে আওয়াজ হলো। একজন ত্রিশার্ধো মহিলা দরজা খুলে দিলো। মহিলা বেশ সুন্দরী আর পরিপাটি।পরনে কালো রঙের শাড়ি।
রহমান বলল, “আমি থানা থেকে এসেছি। আমি ওসি রহমান।”
মহিলাটি কোন সংকোচ ছাড়াই উত্তর দিলো, “আমি নয়না। আপনি নিশ্চয়ই আমার ভাসুরের খুনের তদন্তে এসেছেন। আমি জানি আমার জা এই খুনের জন্য আমাকেই দায়ী করবে”
গোলাম বলল, “ উনি খুন হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা পাইনি।মিসের শারমিন তার স্বামী গুম হয়েছে এই বলে থানায় অভিযোগ করেছে”
নয়না বলল, “আমি জানি অফিসার। তিনি মারা যাননি গুম হয়েছেন। কিন্তু আমার জা শারমিন যেই আসে তাকেই বলে আমি তার স্বামীকে খুন করেছি।আজ সারাদিন আমাকে অনেক গালি দিয়েছে”
রহমান বলল, “আমি এখানে এসেছি যাস্ট কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে । কারো কথায় সন্দেহ করে এখানে আসিনি। আপনি ভাববেন না আপনাকে খুনী ভেবে এখানে এসেছি”
নয়না চুলায় মাংসের পাতিলে একটু ঝোল দিয়ে নেড়ে চেড়ে বলল, “এ তো আপনার কর্তব্য। আপনি বলুন কি জানতে চান?”
রহমান বলল, “গুম হওয়ার আগে শেষ আপনার বাড়ির সামনে এসেছিল?”
নয়না বলল, “হ্যা ভেতরে এসেছিল। আমার মেয়ের সাথে গল্প করেছে। একসাথে নাস্তা করেছে এরপর চলে গেছে”
রহমান বলল, “এরপর কোথায় গেছে জানেন?”
নয়না বলল, “ আমি ব্যস্ত ছিলাম তাই খেয়াল করিনি।সে মারা গেলে আমার কোন লাভ নেই স্যার, উল্টো লস হতো।এই পরিবারে সেই একটু ভালো মানুষ ছিল।মাঝে মাঝে টাকা পয়সা দিয়েও সাহায্য করতো।যদিও আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক জমিজমা অন্যায় ভাবে দখল করে নিয়েছিল তবুও বিধবার সংসারে একটু দয়া দেখাত।”
রহমান বলল, “শুনেছি আপনার সাথে ওদের একটা ঝামেলা ছিলো। আপনার স্বামীর মৃত্যুর পর আপনার স্বামীর টাকা পয়সা আপনার ভাসুর দখল করে নেয়”
নয়না বলল, “শুধু কি টাকা পয়সা। জমিজমা ব্যবসা হবে দখল করে নিয়েছে।এই বাড়িটা আমার স্বামীর টাকায় গড়া ছিল। উনি মারা যাওয়ার পর আমার ভাসুর দখল করে রেখেছেন”
রহমান বলল, “জমি এখন কার নামে?”
নয়ন বলল, “আমার স্বামীর নামে”
রহমান বলল, “আপনার স্বামী কীভাবে মারা গেল বলতে পারেন?”
নয়না বলল, “হার্ট অ্যাটাক করেছে”
রহমান বলল, “তার ছয় মাস পর ছেলেটা হুট করে মারা গেল তাই না”
নয়না বলল, “দুর্ঘটনা।পানিতে ডুবে মারা গেছে। সাঁতার জানতো না ছেলেটা”
গোলাম বলল, “দুই জনের মৃত্যু হবার কারণে আপনার ভাসুরের লাভ । তিনি লাভবান হয়েছেন”
কথাটা বলেই নিজেই আবার থমকে গেল।যেন ভুল করে এই কথাটা বলে ফেলেছে। স্বামী সন্তান হারা একজন নারীকে এভাবে জেরা করায় নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো। নয়নার মধ্যে তেমন লক্ষন দেখা দিল না। নয়না অফিসারে দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
রহমান বলল, “যাওয়ার আগে একটা শেষ প্রশ্ন করতে চাই”
নয়না বলল, “জী করুন”
রহমান বলল, “আপনার ভাসুরের গুম হওয়া নিয়ে আপনার কাউকে সন্দেহ হয়?”
নয়না বলল, “সন্দেহ তো আমার ছেলের মৃত্যুর পরেও করেছিলাম।গলায় দাগ দাগ ছিল অফিসার।যেন কেউ গলা টিপে হত্যা করেছে। আমার মনে হয়েছিল কেউ গলা টিপে মেরে লাশটা পানিতে ফেলে দিয়েছে। আমার ছেলের লাশটা তাড়াতাড়ি কবর দিয়ে দিয়েছিল আমার ভাসুর। আমি কাউকেই সন্দেহ করতে পারিনি বা করিনি”
রহমান বলল, “আমার আপনার জন্য খারাপ লাগছে। সন্তান হারানোর দুঃখ কেবল মা বুঝে। এছাড়া আর কেউ বুঝে না।এত তাড়াতাড়ি স্বামী সন্তান হারা একজন মেয়েকে কীভাবে স্বান্তনা দিব আমার জানা নেই।”
রহমান বলল, “আপনাকে যেটা বলছিলাম রহমানের গুমের পিছনে কাউকে সন্দেহ করেন কিনা?”
নয়না বলল, “সন্দেহ তো একজন কে করি। তবে আমার সন্দেহ ভুল হতেও পারে।একটা গোপন ঘটনা বলবো কাউকে বলবেন না তো ?”
রহমান বলল, “বলুন”
নয়না বলল, “বিরিয়ানি রান্না করেছি ।এত কষ্ট করে আসছেন সামান্য কিছু খেয়ে যান।খেতে খেতে আলাপ করা যাবে।”
নয়নার বিরিয়ানির সুঘ্রাণ সারা বাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে। নয়না পাকা রাঁধুনি। অতিথি আপ্যায়নেও খুব পছন্দ করেন। রহমান গোলাম কেউ না করলো না। বিরিয়ানির ঘ্রাণে এমনিতেই জিবে জল চলে এসেছে।এত সুন্দর বিরিয়ানির অফার কেউ না করতে পারে না।
রহমান নয়নার বিরিয়ানির প্রশংসা করে বলল, “ঘ্রান তো খুব সুন্দর। বিরিয়ানির ঘ্রানেই তো পেট ভরে গেছে।”
নয়না হেসে বলল, “সে কি খালি ঘ্রান শুকেই পেট ভরালে হবে। বিরিয়ানি খেতে হবে তো”
রহমান বলল, “তা আপার এখন সংসার চলে কীভাবে?”
প্রশ্নটা নয়নার ঠিক ভালো লাগলো না। এভাবে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করায় একটু বিরক্ত হলো বটে তবুও উত্তর দিলো।নয়না বলল, “অনলাইনে কেক সেল করি। এছাড়া ও কুকিজ বিভিন্ন রান্না দই সহ অনেক কিছু সেল করি। মানুষ অর্ডার দিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের মা মেয়ের সংসার কোন রকম চলে যায়”
রহমান বলল, “আজ হঠাৎ বিরিয়ানি রান্না করলেন যে?”
নয়না বলল, “আজ আমার ছেলের জন্মদিন ছিল।ছেলেটা বেঁচে থাকলে বলতো মা বিরিয়ানি করো। অনেক দিন বিরিয়ানি খাই না। আমার কানে এই কথা গুলো ভাসছে।জানেন অফিসার যেদিন আমার ছেলে মারা গেল সেদিন ও আমি বিরিয়ানি রান্না করেছিল। ছেলেটা খেলতে যাওয়ার আগে বলেছিল মা বিরিয়ানি করো। আমি খেলা শেষ করে এবে খাব।অহ যেটা বলছিলাম কথার প্রসঙ্গ পাল্টে গেল”
গোলাম বলল, “হ্যা বলুন”
নয়না বলল, “আমার ভাসুরের একটা মাত্র ছেলে ছিল। ওদের সংসারেও বেশ সুখ শান্তি ছিল। আমার ভাসুর আমার জা কে বেশ ভালোবাসতেন। কয়েক বছর আগে আমার ভাসুরের মেয়ে হলো। ঘটনাটা ঘটেছিল আমার ছেলে মারা যাওয়ার এক বছর আগে।বাড়ির সবাই মেয়েটা কে অনেক ভালোবাসতো।মেয়েটার বয়স সবে মাত্র তিন মাস চলে। আমার জা একদিন তার মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে কোন কাজে গেল।কাজ শেষ করে এসে দেখে মেয়ে নেই।হবে মাত্র তিন মাস হলো মেয়ে তো আর হেঁটে যেতে পারে না।সবার মধ্যে হুলস্থুল কান্ড বেঁধে গেল।সব জায়গায় খুঁজেও পাওয়া গেল না।সব জায়গায় খোজা হলেও কেউ পুকুরের দিকে যায়নি কারন এত অল্প বয়সী মেয়ে তো আর পুকুরে যেতে পারবে না”
গোলাম বলল, “তিন মাসের বাচ্চা তো জায়গা থেকেই নড়তে পারে না। পুকুরে যাবে কীভাবে?”
নয়না বলল, “ঠিক কথা বলেছেন অফিসার।পরদিন সকালে পুকুরেই লাশ ভাসতে দেখা গেল। আমার ভাসুরের ছেলে বলেছিল বোনকে বেশি আদর করার গলা টিপে মেরে ফেলেছে। এরপর পুকুরে ফেলে দিয়েছে। তখন ওর পরিবারের লোকজন বলেছিল যে বাচ্চা ছেলে না বুঝে এইসব বলছে।আমি নিজের চোখে দেখেছি বাচ্চা মেয়েটার গলায় দাগ ছিল।খুব তাড়াতাড়ি কবর দিয়ে দেয়া হয়”
রহমান বলল, “এটা চোখ বন্ধ করে বলা যায় খুন।তিন মাসের বাচ্চা তো আর পুকুরে যেতে পারবে না। নিশ্চয়ই কেউ এই কাজ ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছে।”
গোলাম বলল, “সে যদি নিজের বোনকে খুন করতে পারে তবে বাবাকে করতে দোষ কিসের?”
রহমান বলল, “ঠিক বলেছ”
নয়না বলল, “সে আরো একটা খুন করেছে”
গোলাম বলল, “আবার কাকে?”
নয়না বলল, “একটা গরিব ছেলে নাম রেজোওয়ান।ওকে মেরে বাড়ির পিছনে কবর দেয়া হয়েছিল।ছেলেটাকে উঠোনে সবার সামনে দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে।এক কোপেই মারা যায় ছেলেটা। দুইজন একসাথে খেলছিল। রেজোওয়ান ওর খেলনা ভেঙে ফেলে সেই রাগে এই কাজ করে। আমাদের সবাইকে ভয় দেখানো হয়েছিল কাউকে না বলার জন্যে।কেউ বলে দিলেই উল্টো তাকে ফাঁসিয়ে দিবে।”
গোলাম বলল, “তাই নাকি?”
নয়না বলল, “ছেলেটাকে আমার চোখের সামনে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।এই ঘটনার পর পুলিশ অনেক খুঁজে কিন্তু ছেলেটা কে খুঁজে পায় না। রেজোওয়ানের দাদা প্রাইমারি স্কুলে দারোয়ানের চাকুরী করে। আপনি থানায় খোঁজ নিলে এই বিষয়ে জানতে পারবেন”
রহমান বলল, “আমি বিষয়টা ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করবো। অনেক ধন্যবাদ ম্যাডাম। আপনি অনেক তথ্য দিয়ে আমাদের সাহায্য করেছেন”
নয়না বলল, “ওদের শক্ত করে ধরলেই বের হয়ে আসবে অফিসার। আমার মনে হয় ওরাই মেরে ফেলছে। এখন আমাকে ফাঁসাতে চাইছে”
রহমান বলল, “খুনী যেই হোক শীঘ্রই ধরা পড়বে। আমি তবে আজ আসি। তবে যাওয়ার আগে একটা কথা বলতে চাই”
নয়না বলল, “কি কথা?”
রহমান বলল, “আপনার ছেলের মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করেন?”
নয়না বলল, “আমি জানি না। রেজোওয়ান কে খুন করার পর আমার ছেলে ওর সাথে মিশতো না। আমি মানা করেছিলাম ওর থেকে দূরে থাকতে। আমি শুধু দেখেছি আমার ছেলের লাশ পানিতে ভেসে আছে। এছাড়া আমি আর কিছু দেখিনি কিছু জানি না”
পুলিশ চলে গেলেও নয়না দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো। কিছু পুরনো কথা মনে পড়লো।নয়নার ছেলে বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করতো। সেদিন তার জন্মদিন ছিল।মায়ের কাছে এসে আবদার করলো বিরিয়ানি খাবে।বাবা হারা ছেলের আবদার না করতে পারলো না।নয়না রান্না করছে । তখন তার চাচা এসে জোর করে নিয়ে গেল মেলায় নিয়ে যাবে বলে।ছেলেটা যেতে না চাইলেও চাচার জোরাজুরিতে চলে যেতে হয়।ছেলেটা মাকে বলে গিয়েছিল মেলা ঘুরে এসে বিরিয়ানি খাবে।তার জন্য অনেক গুলো বিরিয়ানি রাখতে। নয়নার ভাসুর ফিরে এলেও তার ছেলে ফিরে এলো না। সারাদিন পুরো গ্রাম খোঁজা হলো ছেলেকে পাওয়া গেল না। পরদিন সকালে ছেলে কে আর পাওয়া গেল পুকুরে ভাসমান অবস্থায়। পুকুরে মরে ভেসে আছে।ছেলেটার আর বিরিয়ানী খাওয়া হলো না। নয়না মৃত ছেলের সামনে বিরিয়ানি নিয়ে গিয়ে বলেছিল খাঁ বাবা খা। কিন্তু ছেলে বিরিয়ানি খেতে এগিয়ে আসলো না। কীভাবে আসবে সে তো অনেক আগেই মরে গেছে।কিছু দিন আগে নয়না জানতে পারে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।খুন করেছে তার ভাসুর। তাদের ঘরের খুব দামী একটা শো পিস ভেঙে ফেলায় মেলায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে গলা টিপে মেরে ফেলেছে।রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে পুকুরে লাশ ফেলে দেয়।যাতে সবাই মনে করে পুকুরে ডুবে মারা গেছে।
তিনদিন পর বাড়িতে আবার পুলিশ এলো। একজন নয় দুইজন নয় অনেকগুলো পুলিশ।পুরো বাড়ি ঘেরাও করে রাখলো। নয়নার মেয়ে নাহার ভয়ে মায়ের কাছে বসে রইলো।নয়না ভয় পেল না।একদল পুলিশ বাড়ির পিছনে মাটি খনন করা শুরু করলো।প্রথমে একটা কংকাল বেরিয়ে এলো। এরপর আরো খোঁড়া হলো আরো একটা কংকাল বেরিয়ে এলো।পুরো বাড়ি খনন করে দুটো লাশ পাওয়া গেল। পুলিশ আরো মাটি খনন করতে লাগলো।সদ্য গুম হওয়া লাশ এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ রান্না ঘরের পাশে একটা তাজা লাশ পাওয়া গেল।লাশের শরীর অনেকটা পচে গেছে।
উঠোনে তিনটা লাশ রাখা ছিল।নয়না ভীড়ের মধ্যে এগিয়ে এলো। একটা কংকালের গায়ে লাল ফতুয়া দেখে চিনতে অসুবিধা হলো না এটাই সেই হারিয়ে যাওয়া ছেলে রেজোওয়ান।নয়না কান্নায় ভেঙে পড়ল।মায়ের মন বলে কথা। সন্তান যারই হোক। মৃত্যু দেখলে সবার মনই কেঁপে উঠে। নয়নার ছেলেও তো ঠিক এই বয়সের ছিল।গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। পুলিশ নয়নার জা ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। নয়নার জা পুলিশ কে বারবার বলছিল সে নির্দোষ তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের কাছে প্রমাণ আছে তারা খুনী। এতগুলো বছর পর রেজোওয়ানের পরিবার তাদের হারানো ছেলের লাশ খুঁজে পেল।তারাও তাদের ছেলের খুনীর বিচার চায়।
রাতে নয়না তার মেয়েকে নিয়ে শুয়ে ছিল।নাহার বলল,‌ “চাচ্চুর লাশ ওখানে গেল কীভাবে?”
নয়না বলল, “আমি রেখেছি। আমি তোর ভাইয়ের খুনীদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছি।”
নাহার বলল, “আমার খুব ভয় করছিল তখন”
নয়না বলল , “কোন ভয় নেই মা। পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ পাবে না। এতদিন পর আমার ছেলের খুনীদের শাস্তি দিলাম কিন্তু ছেলেটা আমার কাছে এখন আর বিরিয়ানী খেতে চাইবে না।”
কথাটা বলেই নয়না তার মেয়েকে জড়িয়ে ধরল।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×