somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারিয়ে গেল সেলিম চত্বর একেবারেই

০১ লা জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.

মধুর ক্যান্টিনের চা কোনএক সময়ে অসহ্য লাগা শুরু করছিলো আমাদের। অরুন দা রে আর কতো বলা যায়! বলেই বা কি! ওতো আর ওর লাভ ছাড়ে না, খাঁটি ব্যবসায়ীর মতো খালি লাভই বাড়াতে চাইতো, এখনো যেমন চায়। যাইহোক, এমন অনেক কারনেই আমরা কিছু মানুষ একটা জায়গা খুঁজছিলাম, একটু দম ফেলবার, অন্য কোথাও, অন্য কোনখানে।

মধুর ক্যান্টিন আর মসজিদের মাঝের জায়গাটাতে সেলিমের চায়ের দোকান। ঝোপঝারের পাশে। সামনে খানিকটা জায়গায় ঘাস, গাছ বেশকিছু। স্টাফ ব্যচেলর কোয়ার্টাররে কেউ বোধহয় ক্ষেত করেছে পাশে, সেখানে সব্জি হয়। আমরা বসতে শুরু করলাম সেলিমের চায়ের দোকান কে কেন্দ্র করে, গাছের ছায়ায়। আস্তে আস্তে বসতে শুরু করলো আরও অনেকে। সেলিমের দোকানটার বিক্রি বাড়তে শুরু করলো, পাশে দোকান হলো আরও। খিচুরী যুক্ত হলো নতুন দোকানে। আমরা যারা রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলাম তারা বসতাম, যারা যুক্তছিলোনা কিন্তু ফ্রিল্যান্স পজিটিভ রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো তারা বসতো। আস্তে আস্তে সেলিমের দোকানটা ঘিড়ে গড়ে উঠেছিলো সবধরনের মানুষের এক মিলন মেলায়। যেকোন রাজনৈতিক মুভমেন্টে সেলিম চত্বরের মানুষগুলো ভূমিকা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

সেলিম চত্বরকে ভালোবেসে নানা মানুষ নানা নামে ডাকতো। কেউ বলতো পরহেজগার চত্বর, কেউ শালিক চত্বর। দেয়াশলাইয়ের গ্রুপটা বসতো, বসতো ঘাসফড়িংয়ের দল। গাছের ছায়ায় ঘাসে বসে, সেলিম বা মোর্শেদের বানানো চায়ে চুমুক, নানা আলোচনা, কাজের শেয়ারিং, যে কোন পজেটিভ মুভমেন্টে একসাথে এগিয়ে চলা, কি করিনি আমরা! অথবা দীর্ঘ বন্ধ্যা সময়ে শ্রেফ চুপ চাপ বসে সান্ত্বনা খোঁজা। দিন কেটেছে অসংখ্য, অসংখ্য স্মৃতিরা!

তারপর একদিন নতুন টেন্ডারে নতুন দোকান বসলো ওখানে। দলীয় চামচারা পেল সে টেন্ডার। বার্গার আর পিজা পাওয়া শুরু হলো নতুল দোকানে, সাথে কফি। আমরা চা খাই, সেলিমে। জানিনা কার ইশারায় একদিন অবৈধ উচ্ছেদের নামে তুলে দেয়া হলো সেলিমের দোকান, আমি তখন চাকরিতে ব্যস্ত। তবুও আড্ডাটা ছিলো, মাঝে মাঝে গিয়ে দেখতাম এখনো আড্ডা বসে, হয়তো কফির কাপে। তবুও তো কেউ ছিলো মিলন মেলায়!

দুই.

জুনের শেষ ওয়ার্কিং ডে। রাত প্রায় দশ। দম ফেলার সময় নেই মোটে। হাবিব ফোন দিলো আমারে। অল্প কিছু কথার মাঝে আমারে জানালো সেলিমের দোকানের আশপাশের সব গাছ কেটে ফেলেছে। ওখানে নাকি কি এক ভবন পাতাবে। আমি চোখ বন্ধ করলাম, গাছ ছাড়া সেলিম চত্বর একবার মনে মনে চিন্তা করলাম। চিৎকার করে বলে উঠলাম, 'কি বালের রাজনীতি করে পোলাপাইন এখন!' মৃত্যুর কোন সান্ত্বনা হয়না, মৃত্যুর কোন সান্ত্বনা নেই।

তিন.

আমি আমার প্রিয় আড্ডার ছায়া খুঁজতে যাইনি ওখানে আর। অধিকার ছেড়ে দিয়ে অধিকার ধরে রাখিনি, পারিনি। আমিতো বন্দী এখন সময়ের আবর্তে। প্রিয়ের লাশ দেখে সহ্যও করতে পারিনা, তাকে বাঁচিয়েও রাখতেও পারিনা। আমি একটা বাল, খালি চিল্লাইতে পারি।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×