গতকাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জমান স্পষ্ট ভাষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।
সেনাপ্রধান শুরুতে দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনকারী সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এখন সময় রাজনৈতিক সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার। সেনাবাহিনী কোনো করিডোর, বিশেষ সুবিধা বা বিদেশী প্রভাব মেনে নেবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল একটি নির্বাচিত সরকারই নিতে পারবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমি চাই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করুক।" ডিসেম্বরের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বিদেশী কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এসে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা ১/১১-এর অভিজ্ঞতা ভুলিনি এবং এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি চাই না।"
জাতিসংঘের রিপোর্ট ও সরকারের সাথে সমন্বয়হীনতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি, তিনি বর্তমান প্রশাসনকে সতর্ক করে দেন যে, "বিদেশী শক্তির প্রভাবে বাংলাদেশ যেন প্রক্সি যুদ্ধের ময়দানে পরিণত না হয়।"
সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। রাস্তায় মব তৈরি করে অরাজকতা আর সহ্য করা হবে না।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "সেনাবাহিনীর কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। আমাদের লক্ষ্য শুধু দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।"
সভার শেষে তিনি নির্বাচনী পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখতে বাকি বছরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা না আয়োজনেরও নির্দেশ দেন।
একটি সুস্থিত, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সেনাবাহিনীর এই দৃঢ় অবস্থান নিঃসন্দেহে জাতিকে আশ্বস্ত করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২৫ দুপুর ২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


