somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় দালাল' তকমা: বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিষাক্ত অস্ত্র

২৫ শে মে, ২০২৫ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে কার্যকর, আর সবচেয়ে বিষাক্ত অস্ত্রটি হলো—"ভারতীয় দালাল" তকমা। এই তকমাটি যেন এক জাদুর কাঠি—যার স্পর্শে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শ রাতারাতি "শত্রু" হয়ে যায়!

১৯৭১-এ যারা মুক্তিযুদ্ধে লড়েছেন, পাকিস্তানি মিডিয়া তাদের বলেছে "ভারতের এজেন্ট"। ১৯৭৫-এ যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলো, তারা দাবি করলো—"ভারতের দাসত্ব থেকে মুক্তি"। জিয়ার বিরোধীরা জিয়াকে বলেছে "ভারতের দালাল", খালেদ মোশাররফকে বলেছে "ভারতের দালাল", এরশাদ বলেছে সাত্তার সরকারকে "ভারতের তাবেদার"। আজকে সালাহউদ্দিন আহমেদ থেকে জেনারেল ওয়াকার—সবাই একই গালির শিকার!

মজার ব্যাপার হলো, এই তকমা লাগানোর জন্য কোনো প্রমাণ লাগে না, কোনো যুক্তি লাগে না। শুধু একটা ক্যাম্পেইন চালাও—"ইন্ডিয়ার দালাল, ইন্ডিয়ার দালাল!" আর দেখো, ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৬.৫ কোটি মানুষই ভেড়ার মতো সেই স্লোগান দিতে শুরু করে! নিউজিল্যান্ডের ভেড়ারা যেমন হুইসেল শুনে দৌড়ায়, আমাদের রাজনীতির মেষপালকরাও তেমনই একটি ইশারায় জনগণকে ইচ্ছামতো ঘুরপাক খাওয়ায়!

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই "ভারতীয় দালাল" তকমার পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী?
উত্তরটা সহজ—সত্যকে ঢাকতে, দায়িত্ব এড়াতে, এবং জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে।

কারণ, যখন আপনি কাউকে "ভারতের দালাল" বলবেন, তখন তাকে মেরে ফেললেও মানুষ উল্লাস করবে! তার বিচার চাইবে না, তার বক্তব্য শুনবে না। এই তকমা এতটাই শক্তিশালী যে এটি কোনো ব্যক্তির পুরো ইতিহাস, সংগ্রাম, বা আদর্শকে মুহূর্তে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে!

আসল কথা হলো—যে সমাজে যুক্তি, প্রমাণ, এবং বিচার-বিশ্লেষণের চেয়ে "গালি" বেশি কার্যকর, সে সমাজ কখনোই প্রকৃত গণতন্ত্র বা ন্যায়বিচার পাবে না। আজকে আপনি কাউকে "ভারতের দালাল" বলে গালি দিচ্ছেন, কালকে আপনার পিঠেও সেই তকমা সেঁটে দেওয়া হবে। কারণ, এই খেলা কোনো নীতির নয়—এটা ক্ষমতার খেলা।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার—
১. ভেড়া হয়ে থাকবেন, নাকি নিজের বুদ্ধি দিয়ে ভাববেন?
২. গালি শুনে হুইসেলের মতো দৌড়াবেন, নাকি সত্যের পক্ষে দাঁড়াবেন?
৩. ইতিহাসের সেই চক্রাকার বিভীষিকা থামাতে চান, নাকি আরও একবার "ভারতীয় দালাল" তকমার নতুন শিকার তৈরি করতে চান?

মনে রাখবেন, যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, ইতিহাস তাদের বারবার একই গর্তে ফেলে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০২৫ দুপুর ১২:৪১
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×