বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটি হলো—এখানে অপরাধের ভার বহন করে কর্মীরা, আর নিরাপদ থাকে নেতারা। লুৎফুজ্জামান বাবরের দীর্ঘ কারাবাসের অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থ থাকলে জেলও সামাজিক মৃত্যু হয়ে ওঠে না। কিন্তু অর্থ না থাকলে কারাবাস শুধু একজন মানুষকে নয়, ধ্বংস করে দেয় পুরো পরিবারকে। এই বাস্তবতার সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘সাদ্দাম ইস্যু’।
এই ইস্যুর মূল প্রশ্ন প্যারোল নয়, আইনি প্রক্রিয়াও নয়। মূল প্রশ্ন হলো—একজন নারীর নিজের সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করার মতো চরম সিদ্ধান্ত। কেন এমনটা ঘটল? উত্তর একটাই—সাদ্দামের জন্য। যে সাদ্দাম রাজপথে ছিল, হুংকার দিয়েছে, হত্যায় অংশ নিয়েছে, সে ছিল কেবল একটি হাতিয়ার। আদর্শের মোড়কে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে ক্ষমতার রাজনীতিতে।
৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা রাজপথে থেকে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের অনেকেই আজ ধরা পড়েছে, কেউ জেলে, কেউ পলাতক। কিন্তু যে নেতার জন্য এই সহিংসতা—সে ভালো আছে। তার পরিবার ভালো আছে। তার এলাকার এমপিরা ভালো আছে। কোটি কোটি টাকা নিয়ে তারা নিরাপদে সরে গেছে। মাঝখান থেকে শেষ হয়ে গেছে সাদ্দামের জীবন, আর চূড়ান্ত মূল্য দিয়েছে তার পরিবার।
এমন সাদ্দাম বাংলাদেশে এক-দুটি নয়—লাখ লাখ। কেউ ইতিমধ্যে জেলে, কেউ ১০ বা ২০ বছর পর যাবে। কিন্তু প্রতিটি সাদ্দামের ভাগ্য এক—শেষে সে একা পড়ে যায়। নেতাদের টিকিট সবসময়ই কাটা থাকে; সাদ্দামদের জন্য কোনো রিটার্ন টিকিট নেই।
এখানে প্রশ্ন সাদ্দামের বিচার নয়। সে অপরাধী হলে আইন তার বিচার করবে। প্রশ্ন হলো—আপনি নিজে কি আরেকজন সাদ্দাম হয়ে যাচ্ছেন? যখন আপনি নেতার কথায় কাউকে মারেন, কাউকে হত্যা করেন, তখন আপনি ভাবেন আপনি ইতিহাস লিখছেন। আসলে আপনি কেবল নিজের এবং নিজের পরিবারের কবর খুঁড়ছেন।
রাজনীতি করতে চাইলে রাজা হয়ে করুন—ক্ষমতা, অর্থ ও সুরক্ষা নিয়ে। না পারলে অন্য পেশায় জীবন চালান। অন্তত এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন না, যেখানে আপনার অন্যায়ের দায়ে আপনার স্ত্রী ও সন্তানকে মরতে হয়। নেতাদের কিছু যায় আসে না—বিশ্বাস করুন, তারা ভালোই থাকে। কাঁদে কেবল সাদ্দামদের পরিবার।
এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে জরুরি—আপনি কি কোনো নেতার দ্বারা আরেকজন সাদ্দাম হয়ে যাচ্ছেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



