somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বকাপের সকাল, মেসির হ্যাটট্রিক এবং এক অসমাপ্ত বিস্ময়ের গল্প

১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে আজ সকালেই। আর এর চেয়ে ভালো সূচনা একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক বা ফুটবলপ্রেমী কল্পনাও করতে পারতেন না।

আমার ফুটবল-প্রেমের শুরুটা ছিল মূলত দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ঘিরে। আর্জেন্টিনা মানেই তখন ম্যারাডোনা, আর ম্যারাডোনা মানেই ফুটবলের অলৌকিকতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মুগ্ধতার কেন্দ্রবিন্দু বদলেছে। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এক তরুণকে দেখেছিলাম, যার পায়ের জাদু দেখে মনে হয়েছিল—হয়তো নতুন কোনো গল্প শুরু হচ্ছে। সেই তরুণের নাম ছিল লিওনেল মেসি।

তারপর কেটে গেছে দুই দশক। আমরা বড় হয়েছি, পৃথিবী বদলেছে, ফুটবল বদলেছে; কিন্তু মেসির জাদু যেন বদলায়নি।

এক সময় মেসির কারণেই লা লিগার নিয়মিত দর্শক হয়ে উঠেছিলাম। বার্সেলোনার খেলা মানেই ছিল এক ধরনের শিল্পকর্ম দেখা। প্রতিপক্ষকে হারানো নয়, বরং ফুটবলকে সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার এক অবিরাম প্রচেষ্টা। তার পাস, ড্রিবল, ভিশন এবং গোল করার ক্ষমতা ফুটবলকে সাধারণ খেলা থেকে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেছিল।

কিন্তু সময় তো কারও জন্য থেমে থাকে না। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর মনে হয়েছিল, ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি বুঝি শেষ হয়ে এলো। ইউরোপীয় ফুটবলের প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছেড়ে মেসি পাড়ি জমালেন আটলান্টিকের ওপারে, ইন্টার মায়ামিতে। সেখানে প্রতিযোগিতার চেয়ে উপভোগ, চাপের চেয়ে আনন্দই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবুও মেসি থামেননি



বরং তিনি অপেক্ষা করছিলেন আরেকটি বিস্ময়ের জন্য।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ফুটবলজীবনে খুব কমই এসেছে। সেই ট্রফিটি জয়ের আগে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে জেতার মতো প্রায় সবকিছুই জিতে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপ ছিল সেই একমাত্র অপূর্ণতা, যা পূর্ণ না হলে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

অবশেষে কাতারে তিনি সেই অপূর্ণতাও পূরণ করলেন।

আমরা ভেবেছিলাম, এটাই শেষ।

কিন্তু কিংবদন্তিরা বোধহয় শেষ অধ্যায় লেখার অধিকার নিজেরাই রাখেন।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে, ৩৯ বছর বয়সে, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিনি এমন কিছু করলেন যা আগে কখনো করতে পারেননি। পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো হ্যাটট্রিক করা হয়নি। আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই অপূর্ণতাও মুছে গেল।

মাত্র ৭৮ মিনিট মাঠে থেকে চারটি শট নিলেন, যার তিনটিই জালে জড়াল। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক!

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাকে যখন মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখনও মনে হচ্ছিল—আরও কিছুক্ষণ থাকলে হয়তো আরও একটি গোল যোগ হতে পারত।

এ যেন সেই পুরনো মেসিই।

সেই নিখুঁত পাস।

সেই অবিশ্বাস্য প্রথম স্পর্শ।

সেই মারাত্মক ফিনিশিং।

সেই জাদু।

এই তিন গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার গোলসংখ্যাকেও স্পর্শ করেছেন। যে রেকর্ড একসময় অনেক দূরের মনে হতো, আজ সেটিও তার নাগালে।

অনেকে হয়তো আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেবেন। কিন্তু ‘ফেনেকস’ বা মরুশেয়াল নামে পরিচিত উত্তর আফ্রিকার দলটি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় কেবল একটি জয় নয়; এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।

আর্জেন্টিনা এসেছে জিততে।

আর মেসি এসেছেন ইতিহাসকে আরও একটু সমৃদ্ধ করতে।

২০২২ সালে আমরা ভেবেছিলাম, তার গল্পের সমাপ্তি দেখেছি। কিন্তু ২০২৬ এসে যেন বুঝিয়ে দিল, কিছু কিংবদন্তির গল্প কখনো সত্যিকার অর্থে শেষ হয় না। তারা বারবার ফিরে আসে, নতুন বিস্ময় নিয়ে।

আজকের সকালটা তাই শুধু একটি ম্যাচের সকাল নয়।

এটি ছিল ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা।

অভিনন্দন, ম‍্যাজিশিয়ান।

ফুটবলকে সুন্দর করে তোলার জন্য ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×