somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাপলুডুর ছিয়ানব্বই ঘর পেরিয়ে

২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাজী নজরুল ইসলাম ঝিম ধরে বসে আছেন।

একটি ঘরে।

সম্ভবত এই মুহূর্তে তার চারপাশে মানুষের অভাব নেই। ফোন আছে। সহকর্মী আছে। দলীয় মানুষ আছে। হয়তো কেউ পরামর্শ দিচ্ছে, কেউ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথ খুঁজছে, কেউ বলছে—বিষয়টি সাময়িক, সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু কিছু কিছু সংকট আছে, যা কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সামাল দেওয়া যায় না।

কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়ে মুছে ফেলা যায় না।

কোনো দলীয় পদ দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।

সেগুলো মানুষকে একা করে দেয়।

গাজী নজরুল ইসলাম আজ সম্ভবত সেই একাকিত্বের মধ্যে বসে আছেন।

চোখের নিচে কালি। মুখে ক্লান্তি। দীর্ঘ পঁচাত্তর বছরের জীবনে এমন এক ঝড়ের মুখোমুখি তিনি আগে কখনও দাঁড়াননি।

হয়তো তার খুব ইচ্ছে করছে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে চলে যেতে।

যেখানে কোনো ক্যামেরা নেই।

কোনো সাংবাদিক নেই।

কোনো মাইক্রোফোন নেই।

কেউ জিজ্ঞেস করবে না—আপনি কী করেছেন?

কেউ বলবে না—আপনি তো এতদিন অন্যদের নৈতিকতার পাঠ দিয়েছেন।

কেউ স্মরণ করিয়ে দেবে না—আপনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা।

একজন সংসদ সদস্য।

একটি জেলার মানুষের প্রতিনিধি।

একটি মতাদর্শের মুখ।

হয়তো তিনি কোনো উপকূলের টিলায় গিয়ে বসে থাকতে চান।

সামনে নদী।

পেছনে অরণ্য।

আর মাঝখানে একজন মানুষ—যিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটের সামনে একা।

কিন্তু সমস্যা হলো, রাজনীতিবিদরা যতই নিজেদের ব্যক্তিগত মানুষ ভাবতে চান, জনগণ তাদের সবসময় শুধু ব্যক্তিগত মানুষ হিসেবে দেখে না।

বিশেষ করে যখন তারা বছরের পর বছর জনগণের সামনে নৈতিকতার ভাষণ দেন।

যখন তারা অন্যের চরিত্র, অন্যের মূল্যবোধ, অন্যের জীবনযাপন নিয়ে মতামত দেন।

যখন তারা মানুষের কাছে নিজেদের শুধু জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়—একটি নৈতিক আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তখন তাদের ব্যক্তিগত জীবন আর পুরোপুরি ব্যক্তিগত থাকে না।

এটাই জনজীবনের নির্মম নিয়ম।

আপনি যদি কেবল একজন সাধারণ মানুষ হন, আপনার ভুল আপনার ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি।

কিন্তু আপনি যদি একজন রাজনৈতিক নেতা হন, আপনার ভুল জনআস্থার সংকট।

আপনি যদি একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হন, আপনার আচরণ তখন শুধু আপনার ব্যক্তিগত আচরণ নয়—আপনি যে নৈতিকতার প্রতিনিধিত্ব করেন, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এখানেই গাজী নজরুল ইসলামের সংকটটি ব্যক্তিগত সীমা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।

কারণ তিনি কোনো নিঃসঙ্গ ব্যক্তি নন, যিনি নিজের জীবনে যা খুশি করে চলে যাবেন এবং বলবেন—এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

তিনি একজন সংসদ সদস্য।

তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত।

তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী।

তিনি একটি বড় রাজনৈতিক সংগঠনের জেলা আমীর ছিলেন।

তিনি মানুষকে নৈতিকতা শিখিয়েছেন।

দ্বীনের কথা বলেছেন।

আদর্শের কথা বলেছেন।

সংযমের কথা বলেছেন।

পরিবারের কথা বলেছেন।

সমাজের কথা বলেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মানুষ যখন আপনাকে নিজের জীবনের জন্য নৈতিক পথনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করে, তখন আপনি নিজের জীবনের জন্য কি একই নৈতিকতা প্রযোজ্য মনে করেন?

নাকি নৈতিকতা কেবল বক্তৃতার জন্য?

এই প্রশ্নটি কঠিন।

কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই।

গাজী সাহেবের হয়তো আজ মাকসুদা খানমের কথা মনে পড়ছে।

বিয়ের শুরুর দিনগুলো।

সংসার গড়ার সময়।

একসঙ্গে সুন্দরবনে যাওয়ার স্বপ্ন।

একজন স্ত্রী একজন পুরুষের জীবনে শুধু সঙ্গী নন।

অনেক সময় তিনি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা।

তিনি সেই মানুষ, যিনি আপনাকে ক্ষমতার বাইরে থেকে দেখেন।

যিনি আপনার বক্তৃতায় মুগ্ধ হন না।

যিনি আপনার পদকে ভয় পান না।

যিনি জানেন—আপনি মঞ্চে যা বলেন, ঘরে আপনি আসলে কেমন।

এই কারণেই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিবার অনেক সময় একজন নেতার শেষ নৈতিক প্রহরী হয়ে থাকে।

কিন্তু ক্ষমতা মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—সে প্রহরীর কথাও একসময় বিরক্তিকর মনে হতে শুরু করে।

কারণ বাইরে তখন অন্য রকম এক পৃথিবী তৈরি হয়।

বাইরে মানুষ হাততালি দেয়।

বাইরে অনুসারীরা প্রশংসা করে।

বাইরে সবাই বলে—আপনি অসাধারণ।

বাইরে আপনার পদ আছে।

পরিচয় আছে।

ক্ষমতা আছে।

সাংসদ হওয়ার গৌরব আছে।

দলীয় পদ আছে।

আর ঘরের মানুষটি তখনও বলে—

সাবধান।

এই জায়গাটা বিপজ্জনক।

এই সিদ্ধান্তটি ঠিক নয়।

এই মানুষটি আপনার জন্য ভালো নয়।

এই পথের শেষ ভালো নয়।

কিন্তু ক্ষমতার মানুষ প্রায়ই ঘরের সতর্কতা শুনতে পান না।

তিনি বাইরের হাততালিকে সত্য মনে করেন।

আর ঘরের সতর্কতাকে বিরোধিতা।

পতন সাধারণত সেখান থেকেই শুরু হয়।

গাজী সাহেবের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ।

জেলা আমীর ছিলেন।

একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন।

কলারোয়া, তালা, দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর—সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ জনপদে ঘুরেছেন।

মানুষের সামনে দাঁড়িয়েছেন।

দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন।

আদর্শের কথা বলেছেন।

মানুষকে শিখিয়েছেন কীভাবে জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

কিন্তু রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—

মানুষ অন্যকে যে কথাটি সবচেয়ে বেশি বলে, অনেক সময় নিজের জীবনে সেই কথাটিই সবচেয়ে কম প্রয়োগ করে।

অন্যকে দাওয়াত দিতে দিতে নিজেকে দাওয়াত দেওয়ার সময় থাকে না।

অন্যের ভুল নিয়ে কথা বলতে বলতে নিজের ভুলের দিকে তাকানোর অভ্যাস চলে যায়।

অন্যের নৈতিকতা পরীক্ষা করতে করতে নিজের নৈতিকতার পরীক্ষাটি স্থগিত হয়ে থাকে।

যতদিন না একদিন পরীক্ষা নিজেই এসে হাজির হয়।

কোনো প্রশ্নপত্র হাতে নয়।

সরাসরি ফলাফল হাতে।

গাজী সাহেব আজ সম্ভবত সেই ফলাফলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

তার পঁচাত্তর বছরের রাজনৈতিক জীবন আজ একটি অদ্ভুত জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।

যে মানুষটি একসময় মানুষের কাছে ছিলেন নেতা, আজ তাকে মানুষ তার নিজের জীবন দিয়ে বিচার করছে।

যে মানুষটি একসময় অন্যের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আজ তার নিজের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যে মানুষটি একসময় মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নৈতিকতার ভাষা বলেছেন, আজ মানুষ তার দিকে তাকিয়ে বলছে—

আপনার নিজের জীবনের সঙ্গে আপনার কথার মিল কোথায়?

এটাই রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ংকর আয়না।

এই আয়নায় মুখের বয়স দেখা যায় না।

দেখা যায় না কতবার আপনি নির্বাচিত হয়েছেন।

দেখা যায় না কতজন মানুষ আপনাকে সম্মান করেছে।

দেখা যায় শুধু—

আপনি যা বলেছেন এবং যা করেছেন, তাদের মধ্যে দূরত্ব কতটা।

রাজনীতিতে মানুষ আসলে ভুলের জন্য যতটা ধ্বংস হয়, তার চেয়ে বেশি ধ্বংস হয় ভণ্ডামির অভিযোগে।

কারণ ভুল মানুষ করতে পারে।

কিন্তু যে মানুষ অন্যদের ভুলের জন্য কঠোর নৈতিক মানদণ্ড তৈরি করেন, তার নিজের বিচ্যুতি তখন সাধারণ ভুল থাকে না।

তা হয়ে ওঠে দ্বিচারিতা।

আর দ্বিচারিতা রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বিষাক্ত শব্দগুলোর একটি।

গাজী সাহেব হয়তো আজ নিজের জীবনের পুরোনো দিনগুলো মনে করছেন।

প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার দিন।

মানুষের উল্লাস।

সমর্থকদের ভালোবাসা।

জেলা আমীরের দায়িত্ব।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা।

সাংগঠনিক সাফল্য।

লেখালেখি।

দাওয়াত।

আদর্শ।

রাজনীতি।

পঁচাত্তর বছরের জীবন কি তবে এক মুহূর্তে শেষ?

না।

কোনো মানুষের জীবন কখনও এক মুহূর্তে শেষ হয় না।

কিন্তু তার একটি রাজনৈতিক পরিচয় এক মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

একটি বিশ্বাস এক মুহূর্তে নষ্ট হতে পারে।

একটি দীর্ঘ অর্জন এক মুহূর্তে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

মানুষের জীবন সাপলুডুর মতো।

আপনি সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন।

একটি ঘর।

আরেকটি ঘর।

আরেকটি ঘর।

আপনি ভাবছেন—আর কিছু দূর।

আর কিছুক্ষণ।

আর একটু সতর্ক থাকলেই শেষ ঘর।

তারপর হঠাৎ একটি সাপ।

বড় একটি সাপ।

৯৭ নম্বর ঘর থেকে সরাসরি ৪২।

অথবা ৩২।

অথবা একেবারে শুরুতে।

জীবন কখনও আপনাকে জানায় না, কোন ঘরে সাপটি অপেক্ষা করছে।

রাজনীতিতে এই সাপের নাম কখনও ক্ষমতার অহংকার।

কখনও আত্মপ্রবঞ্চনা।

কখনও গোপন সিদ্ধান্ত।

কখনও ব্যক্তিগত দুর্বলতা।

কখনও এমন একজন মানুষ, যার উপস্থিতিই আপনার বহু বছরের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে।

আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—

সাপটি যখন সামনে আসে, তখন আপনি প্রায় শেষ ঘরে।

আপনি ভাবছেন—আমি তো সব পেরিয়ে এসেছি।

আমাকে আর কিছু হবে না।

এই আত্মবিশ্বাসই অনেক সময় পতনের শেষ ধাপ।

গাজী নজরুল ইসলামের সামনে আজ শুধু ব্যক্তিগত অনুশোচনার প্রশ্ন নয়।

রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্নও আছে।

দলীয় নৈতিকতার প্রশ্ন আছে।

জনগণের আস্থার প্রশ্ন আছে।

সংসদীয় মর্যাদার প্রশ্ন আছে।

একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ কোথায় গিয়ে জনস্বার্থের বিষয় হয়ে ওঠে—সেই প্রশ্ন আছে।

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

রাজনীতি কি সত্যিই নৈতিকতার কথা বলার অধিকার রাখে, যদি রাজনীতিবিদরা নিজেদের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করেন?

এই প্রশ্ন শুধু গাজী সাহেবের জন্য নয়।

এই প্রশ্ন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য।

সব আদর্শের জন্য।

সব নেতার জন্য।

কারণ আমাদের রাজনীতিতে একটি অদ্ভুত সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

নেতারা জনগণের কাছে নৈতিকতা দাবি করেন।

কিন্তু নিজেরা প্রায়ই নৈতিকতার ঊর্ধ্বে থাকতে চান।

জনগণকে শৃঙ্খলার কথা বলেন।

নিজেদের জন্য ব্যতিক্রম চান।

অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিচারসভা বসান।

নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রশ্ন উঠলে বলেন—এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার।

কিন্তু জনগণ সবসময় এই দ্বৈত নীতি মেনে নেয় না।

কারণ মানুষ এখন আর শুধু বক্তৃতা শোনে না।

মানুষ তুলনা করে।

মানুষ দেখে—

আপনি কী বলেন।

আপনি কী করেন।

আপনি অন্যের জন্য কোন নিয়ম বানান।

আর নিজের জন্য কোন ছাড় চান।

এই তুলনাই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চরিত্রের আসল পরীক্ষা।

দেয়ালে একটি টিকটিকি ছুটে বেড়াচ্ছে।

গাজী সাহেব তাকিয়ে আছেন।

টিকটিকিটি কিছু জানে না।

সে জানে না, এই ঘরে একজন সাবেক জেলা আমীর বসে আছেন।

একজন সংসদ সদস্য বসে আছেন।

একজন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মানুষ বসে আছেন।

টিকটিকির কাছে তিনি কেবল একজন মানুষ।

একজন ক্লান্ত মানুষ।

একজন মানুষ, যিনি নিজের জীবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

তার চারপাশে এখন হয়তো অনেকে আছে।

কিন্তু রাজনৈতিক পতনের মুহূর্তে মানুষ আসলে একাই থাকে।

দল তখন বিবৃতি দেয়।

সমর্থকরা ব্যাখ্যা দেয়।

আইনজীবীরা যুক্তি সাজান।

বন্ধুরা সান্ত্বনা দেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আয়নার সামনে দাঁড়াতে হয় আপনাকেই।

সেখানে কোনো দল থাকে না।

কোনো পদ থাকে না।

কোনো স্লোগান থাকে না।

কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকে না।

কোনো রাজনৈতিক তকমা থাকে না।

থাকে শুধু একজন মানুষ।

আর তার সিদ্ধান্তগুলোর দীর্ঘ ছায়া।

গাজী সাহেব হয়তো সুন্দরবনে যেতে চান।

কিন্তু সুন্দরবনও তাকে বাঁচাবে না।

কারণ অরণ্য মানুষকে লুকাতে পারে।

অতীতকে নয়।

উপকূলের টিলা তাকে আশ্রয় দিতে পারে।

কিন্তু তার নিজের বিবেককে নয়।

নদী তার কণ্ঠের শব্দ ডুবিয়ে দিতে পারে।

কিন্তু প্রশ্নগুলোকে নয়।

মানুষের কাছ থেকে পালানো যায়।

কিন্তু নিজের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে পালানো যায় না।

একজন নেতা যত বড় হন, তার পতন তত বেশি মানুষের সম্পত্তি হয়ে যায়।

তার সাফল্য যেমন ব্যক্তিগত থাকে না, তার ব্যর্থতাও থাকে না।

কারণ তিনি নিজেই তার জীবনকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন।

জনগণের ভোট নিয়েছেন।

জনগণের বিশ্বাস নিয়েছেন।

জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে আদর্শের কথা বলেছেন।

সুতরাং জনগণও একদিন প্রশ্ন করার অধিকার রাখে।

গাজী সাহেবের পঁচাত্তর বছরের জীবন হয়তো সম্পূর্ণ মুছে যায়নি।

কিন্তু ইতিহাসের একটি ভয়ংকর শিক্ষা সেখানে লেখা হয়ে গেছে—

মানুষ যত বড় রাজনৈতিক উচ্চতায় উঠুক, পতনের জন্য একটি মাত্র ভুলই যথেষ্ট।

আপনি ৯৭ নম্বর ঘরে পৌঁছে যেতে পারেন।

আপনি ভাবতে পারেন, আর মাত্র তিন ঘর।

আর একটু।

তারপরই জয়।

কিন্তু সাপলুডুর বোর্ডে সবচেয়ে বড় সাপগুলো প্রায়ই শেষের ঘরগুলোর কাছেই থাকে।

রাজনীতিতেও।

জীবনেও।

আর কখনও কখনও মানুষ নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় পতনটি দেখে ঠিক তখনই—

যখন সে মনে করে, তার আর পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দেয়ালের টিকটিকি থেমে গেছে।

ঘরটি নিস্তব্ধ।

গাজী নজরুল ইসলাম বসে আছেন।

হয়তো তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে সংসদ।

সাতক্ষীরা।

শ্যামনগর।

সুন্দরবন।

মাকসুদা খানম।

জেলা আমীরের দিনগুলো।

প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার স্মৃতি।

দ্বীনের দাওয়াত।

রাজনৈতিক সংগ্রাম।

আর তারপর—

একটি ভুল।

একটি সিদ্ধান্ত।

একটি ঘটনা।

একটি পতন।

পঁচাত্তর বছরের জীবন তাকে অনেক দূর এনেছিল।

কিন্তু রাজনীতি তাকে আজ আরেকটি শিক্ষা দিয়েছে—

মানুষকে ওপরে উঠতে সারাজীবন লাগে।

পড়তে লাগে মাত্র এক মুহূর্ত।

আর সেই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—

আপনি কতটা উঁচুতে উঠেছিলেন, তা নয়।

পড়ে যাওয়ার পর আপনি সত্যের সামনে দাঁড়াতে পারবেন কি না।

কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো নেতা তার পদ দিয়ে নয়,

তার পতনের পর নিজের দায় স্বীকার করার সাহস দিয়ে বিচারিত হন।

আর ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম আদালতে—

এই রায় থেকে কেউ আপিল করতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৭ জুনে বিয়ে, অথচ ২২ জুনের সিভিতে ‘অবিবাহিত’? এমপি সাহেবের এই গণিত কে মেলাবে?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮



ধরা খাইলেই “দ্বিতীয় বিবি”! কিন্তু ১৭ জুনের বিয়ার পর ২২ জুনের সিভিতে মাইয়া 'আনম্যারিড' থাকে কেমনে?
সাতক্ষীরার এমপি সাবের এই ভণ্ডামির জট ছাড়াইতে পারবেন তো, নাকি এআই (AI) এর ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ খুশি ভাগ করতে এসেছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫



আসসালামু আলাইকুম। শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছেন সবাই?

আলহা গত বৃহস্পতিবার আমি প্রমোশন পেয়েছি। অতিরিক্ত পরিচালক (৪র্থ গ্রেড)। খুশির সংবাদ জানাতে দেরি করে ফেলেছি সরি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০


আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই। ইন্টারনেট এর স্পিড খুবই কম। ফেসবুকে কেউ ভাইরাল হতে আসবে না। অল্প লেখায় নিজের মনোভাব ফেসবুকে পোস্ট করবে। কেউ আর পাকনা পাকনা কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজয়ী

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিজয়ী
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

বিজয়ী কখনো কখনো হেরে যায়
হঠাৎ কেউ টপকে যায় তাকে
সেরা সবসময় সেরা থাকে না
পরাজিত হয়ে সে কাঁদে, ভেঙে পড়ে।
জয়লাভ প্রায় প্রত্যেকে আনন্দিত করে
আর হার প্রায় প্রত্যেকে দুখি করে।
আমরা কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×