somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুপ্পু: হিরো, জিরো—নাকি ‘সুস্থ’ রাষ্ট্রপতির অপেক্ষা?

২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অসুস্থতার সংজ্ঞা একটু আলাদা।

সাধারণ মানুষ অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখান।
রাজনীতিবিদ অসুস্থ হলে দল বদলান।
আর রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হলে—পদত্যাগ করেন।

তবে এই অসুস্থতার সবচেয়ে আশ্চর্য দিক হলো, রোগী নিজে অনেক সময় জানার আগেই প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা রোগের খবর জেনে যান।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ক্ষেত্রেও নাকি তাই হয়েছে।

পদত্যাগের দুদিন আগে খবর বের হলো—

"রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।"

দুদিন পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেন।

কারণ?

অসুস্থতা।

এখন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের স্বাভাবিক প্রশ্ন হওয়া উচিত—

রাষ্ট্রপতি কি আগে অসুস্থ হয়েছিলেন, তারপর পদত্যাগ করেছেন?

নাকি আগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তারপর অসুস্থতা আবিষ্কৃত হয়েছে?

নাকি রাষ্ট্রপতি পদে এমন কোনো নতুন রোগ আছে, যার প্রধান উপসর্গ হলো—

“আপনাকে আর দরকার নেই।”

এই রোগের চিকিৎসা অবশ্য খুব সহজ।

পদত্যাগপত্র।

---

চুপ্পু সাহেবের রাজনৈতিক যাত্রাটিও কম আকর্ষণীয় নয়।

একসময় তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি।

তারপর সময় বদলাল।

রাজনীতিতে বাতাস বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসার দিকও বদলাতে থাকে। একসময় বিএনপি ও তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি নতুন রাজনৈতিক শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করলেন।

এখানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন—

রাজনীতিতে আপনি কাকে প্রশংসা করছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আপনি কখন প্রশংসা করছেন।

কারণ একই বাক্য—

এক সময়ে হতে পারে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,
অন্য সময়ে হতে পারে আত্মরক্ষার কৌশল,
আর আরও পরে হতে পারে—

বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘বিশ্বাসঘাতক’ শব্দটিরও একটি আশ্চর্য জীবনচক্র আছে।

যখন আপনি আমাদের সঙ্গে থাকেন—আপনি দেশপ্রেমিক।

যখন আপনি আমাদের বিরুদ্ধে যান—আপনি বিশ্বাসঘাতক।

যখন আপনি অন্যদের সঙ্গে গিয়ে আবার আমাদের প্রশংসা করেন—আপনি দূরদর্শী।

আর যখন কেউ আপনাকে আর চায় না—

তখন আপনি হঠাৎ বুঝতে পারেন, আপনি আসলে ‘স্বাধীন’!

চুপ্পু সাহেব এখন নিজেকে ‘হিরো’ দাবি করছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ বলছে—বিশ্বাসঘাতক।

জামায়াত-এনসিপি বলছে—শাস্তি চাই।

নাহিদ-নাসিররা বলছেন—বিচার চাই।

বিএনপি বলছে—ধন্যবাদ, এখন আর প্রয়োজন নেই।

অর্থাৎ, একমাত্র ব্যক্তি যিনি এখনও তাঁকে হিরো মনে করেন—

তিনি নিজেই।

তবে এটাও কম কথা নয়।

রাজনীতিতে নিজের গল্পের নায়ক নিজেকে ভাবতে পারা একটি বিরল আত্মবিশ্বাস।

এমন আত্মবিশ্বাস না থাকলে কেউ একই জীবনে এতগুলো দলের রাজনৈতিক অভিধানে এতগুলো ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে পারেন না।

---

এখন প্রশ্ন—নতুন রাষ্ট্রপতি কে?

বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা আলোচনায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নাম আছে।

ড. ইউনুসের নামও বাতাসে ভাসছে।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি পদে এখন এমন একজনকে খোঁজা হচ্ছে, যিনি—

আগের সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন না হলেও বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য,

বিরোধীদের কাছে আপত্তিকর না হলেও ক্ষমতাসীনদের কাছে অস্বস্তিকর নন,

অতীতে কী করেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়,

বর্তমানে কার সঙ্গে আছেন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ,

আর ভবিষ্যতে কী করবেন—সেটি সময়ই বলবে।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একটি ‘রাজনৈতিক মেডিকেল রিপোর্ট’ও প্রকাশ করা হয়।

রিপোর্টে লেখা থাকবে—

শারীরিকভাবে সুস্থ।
মানসিকভাবে স্থিতিশীল।
রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
এবং পরবর্তী পাঁচ মাসে আকস্মিক পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে বাংলাদেশে নিশ্চয়তা বলে কিছু নেই।

এখানে রাষ্ট্রপতি পদে বসার সময় কেউ কেউ ‘জাতীয় ঐকমত্যের প্রতীক’ থাকেন।

কিছুদিন পর তিনি হয়ে যান ‘পুরনো ব্যবস্থার প্রতিনিধি’।

আর পদত্যাগের সময়—

অসুস্থ।

তাই চুপ্পু সাহেব হিরো না জিরো—এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন।

কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘হিরো’ ও ‘জিরো’-র মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয়।

মাঝখানে শুধু একটি পদত্যাগপত্র।

আর কখনো কখনো—

একটি ‘অসুস্থতার কারণ’।

শেষ কথা হলো—

রাষ্ট্রপতি বদলায়, সরকার বদলায়, রাজনৈতিক মিত্র বদলায়, প্রশংসার ভাষা বদলায়—শুধু ক্ষমতার প্রতি মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।

আর সেই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—

আজ যিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’,
কাল তিনি ‘জাতীয় সম্পদ’ হতে পারেন।

আজ যিনি ‘হিরো’,
কাল তিনি ‘জিরো’ হতে পারেন।

আর যিনি আজ নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায়—

তাঁর জন্য আমাদের আন্তরিক দোয়া:
আল্লাহ তাঁকে শারীরিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই সুস্থ রাখুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা কিউ আর কোড এর ব্যাবহারের বাধা ও সমাধান।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:১০




Bangla QR: সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ, তবে কিছু বাস্তব সমস্যার সমাধান জরুরি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেনকে সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে Bangla QR একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একটি QR কোড ব্যবহার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×