
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ।
সেদিন রাতে দেশের বাইরে না থেকে যদি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে থাকতেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা; মুজিব পরিবারের শেষ উত্তরসুরী ও কালের গর্ভে হারিয়ে যেতো। আমাদের একজন স্বাধীনতার স্রষ্টা, এই দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আজ কিছুই জানা হইতো না। ওরা চেয়ে ও ছিলো এমনটা।
বাবার দেশ, এক রাতেই কেমন যেনো পাল্টে গেলো পুরো সময়টা।
৭৫ এর ১৫'ই আগস্টের সকাল থেকে চাদ তারা খচিত কিছু টুপি ওয়ালারা বাইরে বেরিয়ে পড়লো। সাত কোটি বাঙ্গালী ভয়ে কেউ কোন কথাই উচ্চারন করতে পারছেনা, বেতারে বার বার বলে যাচ্ছে মুজিব সরকারের পতন হইয়াছে, যাহারা মুজিব হত্যা প্রসঙ্গে কথা বলিবে তাহাদের দেশদ্রোহী বলিয়া গণ্য করা হইবে এবং কঠোর সাজা পাইবে। ৭১ এর স্বাধীন বাংলাকে ৭৫ এর ১৫'ই আগস্ট সকাল থেকে আবারো পাকিস্তান বলে মনে হচ্ছিলো। আমরা হতবাক হয়ে গেলাম, কাদতে ও পারছিনা, আমার শুধু মনে হচ্ছিলো আমরা কি আবার পরাধীন হয়ে গেলাম?
- ২০১৬'র ১৫ই আগস্টে কথা গুলো বলছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলা চলচিত্রের নায়ক ফারুক সাহেব।
বাড়ি বসে শুনছিলাম। অনেক বইয়ে এ বিবরণ অনেকভাবে পড়েছি, তবুও একজন স্বার্থহীন বাংলা ভালোবাসা যোদ্ধার বর্ণণায় আমি ৭৫ এর ভোর আর তার পরবর্তী সময় গুলো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম।
বাপের ত্যাজ আর ত্রিশ লক্ষ্য স্বদেশীর রক্তে কেনা বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ফিরেছিলেন ১৯৮১ সালে। স্বৈরাচার এরশাদ তখন ক্ষমতায়। লক্ষ্য কোটি মানুষের জোয়ার নেমেছিলো রাস্তায় শেখের বেটিরে এক নজর দেখতে। ওর বাপে তো দ্যাশ আইনা দিয়া গেলো, তারে বাচতে দিলো নাহ, তার বেটি আইছে এক নজর দেখতে এসে না কাইন্দা কেউ ফেরেনায়!
বাঙ্গালী ভুলো জাইত, বাঙ্গালী ভংকুড়ো এক জাইত;
তবে বাঙ্গালী আবেগী জাতি ;
এত দিনে ও দ্যাশের জন্মদাতা হত্যার বিচার চাইতে পারেনি।
তবে ওই আবেগেরর ঢল প্রবাহিত হইবার সময়ে এই বাঙ্গলীকে যদি কেউ লীড দিয়ে বলে, সবাই মিলে চাইপা ধরোতো এবার?
আর কি লাগে? এই ভংকুড়ো বাঙ্গালীর সেই সব মুহুর্তের অদম্য দূর্বার প্রতিরোধের জোয়ার দেখে দেখে পৃথিবীর মানুষের ধারনা জন্মে যায়, Bangladeshis Are A Brave Nation.
এই সেই শেখ হাসিনা যার বাপের দেশে ঢুকতে হয়েছিলো প্রায় বছর দশেক পরে। মেজর জিয়া ৭৫ এ ফিরিয়ে এনেছিলো একাত্তরের সর্বোচ্চ মাননবতা বিরোধী অপরাধকারী রাজাকার মতিউর রহমান নিজামী কে!
এই সেই শেখ হাসিনা বাপের দেশটা আবার নিজের হাতে আনার জন্যে রাজাকারের সাথে একমঞ্চে দাড়াতে হয়েছে।
আমরা কি বোকা আর ভুলো এক জাইত?
রাজাকার দের পক্ষ নিয়ে নেই শেখের বেটিরে রেখে।
এই সেই শেখ হাসিনা, বাপের দেশটারে নিজের হাতে নিয়ে একে একে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, বাপের খুনী কেউকে রেহাই পেতে দেয়না!
শ্যাখের রক্ত বইলা কথা।
আমরা যদি লভ্যভোগী, মুর্খ না হইতাম, কোন দিন'ই রাজাকার গুলো ধর্মের দোহাহাই দিয়া স্বাধীন বাংলার ছড়ি ঘোরাইতে সাহস পেতো?
মেজর জিয়া ক্ষমতার জন্যে নিজামীদের মত মানুষ ফিরিয়ে আনতো?
৭১ এ ত্রিশ লক্ষ্য মানুষ হত্যা করার ৪৫ বছরর পরেরে ও এই স্বাধীন দ্যাশের মাটিতে একটা দেলু রাজাকার নিশ্বাস নিতে পারতো?
শেখ হাসিনার তথাকথিত বর্তমান আওয়ামী চ্যাংড়া দের জন্যা আমাদের অনেক রাগ-ক্ষোভ জন্মে তার উপরে। আমাদের ও বোঝা উচিৎ আরিফ ভাই, এই দেশে টিকে থেকে জায়গা মত পৌছুতে গেলে হত্যাকারীদে সাথে এক গালিচায় বসতে হয়; জায়গায় পৌছে সমস্ত বিচার করতে গেলে ব্রেইন ওয়াশড, হুজুরের কড় কড়ে নোটে পালিত ভন্ড উম্মত আর বিরাট এক জনগোষ্ঠীকে আটকে রাখতে গেলে প্রশাসন ছাড় পায়, মেধাহীন লোভি দললীয় চ্যাংড়া রা ছাড় পায়! তবে শেখে বেটি বলে কথা, বাইচা থাকলে সব হিসেব দিতে হবে, রাজাকার, খুনীদের মত কেউ'ই ছাড় পাবেনা! তনুর ধর্ষক থেকে রাজস্ব মেরে খাওয়া নিজের দলের কর্মী কিংবা অন্যদলীয়েরা, কেউ ছাড় পাবেনা, কেউনা।
শুধু আমরা ভালোনা, দেশটারে ভালোবাসিনা, আমরা বংশানুক্রমিক দলান্ধ বলেই শেখের বেটির এত্ত কিছু উপেক্ষা করতে হয়। তবে ছাগুদের ঘণত্ব কমে আসবে, বেজন্মা দের হয়ে কিংবা ক্ষমতালোভীরা ত্রিশ লক্ষ্য শহীদদের অস্বীকার করেছে, প্রজন্ম সব বুঝে শুনে বড় হচ্ছে..
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আর বেশিদিন ছাড় দিয়ে চলতে হবেনা।
আপনি আছেন বলেই তো স্বাধীন বাংলা বেতারের গান গুলো এখনো শুনতে শুনতে আমি উচ্চস্বরে গেয়ে উঠি...
#জয়_বাংলা
ছবিটা খেয়াল করেন?
একরাতে যার পরিবার, আপনজন বলে কেউ ছিলোনা অবশিষ্ট!
এ আর্তনাদ ঠিকরে বেরিয়ে আসছে সাদাকালো ইতিহাসের থ্রীডি স্ক্রীন থেকে! শুনতে পান সে আর্তনাদ?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৭ ভোর ৬:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



