ইকবাল জিল্লুল মজিদ
পরিচালক, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম
রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টার
মানুষের একটি অদ্ভুত স্বভাব আছে। আমরা অনেক সময় নিজের জীবনকে বুঝতে বা পরিচালনা করতে যতটা সময় দিই না, তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করি অন্যের জীবন নিয়ে আলোচনা করতে। কে কী করলো, কে কী বললো, কে কোথায় ভুল করলো এসব নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই।
কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে প্রশ্ন জাগে আমরা কেন অন্যের জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত?
প্রায়ই দেখা যায়, যখন মানুষের নিজের জীবনে স্পষ্ট লক্ষ্য, আত্মবিশ্বাস বা সৃজনশীল ব্যস্ততা কম থাকে, তখন সে অন্যের জীবনকে বিশ্লেষণ করেই এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি খোঁজে। অন্যের ভুল নিয়ে আলোচনা করা তখন নিজের ভেতরের শূন্যতাকে ঢাকার এক সহজ উপায় হয়ে দাঁড়ায়।
বাস্তবে এই প্রবণতা আমাদের শক্তি নষ্ট করে। কারণ আমরা তখন নিজের জীবনকে উন্নত করার পরিবর্তে অন্যের জীবনের দর্শক হয়ে থাকি। অন্যের গল্পে ব্যস্ত থাকতে থাকতে নিজের জীবনের সম্ভাবনাগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।
সত্য হলো প্রত্যেক মানুষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নিজের জীবনকে বোঝা, নিজের ভুল থেকে শেখা এবং নিজের ভেতরের মানুষটিকে উন্নত করা। অন্যকে বিচার করা সহজ, কিন্তু নিজের ভেতরে তাকানো কঠিন। অথচ প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হয় সেখান থেকেই।
তাই আমাদের উচিত অন্যের জীবন নিয়ে অযথা ব্যস্ত না হয়ে নিজের জীবনের দিকে মনোযোগ দেওয়া। নিজের সীমাবদ্ধতা, ভুল এবং সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়া। কারণ মানুষ যখন নিজের জীবনের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখনই সে ধীরে ধীরে মানসিক শান্তি ও স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

