somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Golden ratio এবং মানব দেহে ও পদার্থবিজ্ঞানে এর ব্যবহার -

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোনালী অনুপাত বা Golden ratio
নিয়ে গণিতপ্রেমীদের মাতামাতির শেষ নেই। আর মাতামাতি হবেই বা না কেন, প্রকৃতির প্রায় সব সৌন্দর্যের পিছনেই এই সোনালী অনুপাত লুকিয়ে আছে, এমনকি বাদ যায়নি পদার্থবিজ্ঞানও!!
Golden Ratio বা সোনালী অনুপাতকে প্রকাশ করা হয় ল্যাটিন অক্ষর Φ (PHI/ ফাই ) দ্বারা। এর মান ১.৬১৮০৩৩৯৮৯ (প্রায়)।
এটি একটি অমূলদ সংখ্যা ।

ফিবনাচ্চি সিরিজ -
0, 1, 1, 2, 3, 5, 8, 13, 21, 34, 55……
এইটা ফিবোনাচ্চি সিরিজ। এই সিরিজের যে কোন সংখ্যা তার পূর্ববর্তী দুটি সংখ্যার যোগফলের সমান। যেমনঃ 0+1=1, 1+1=2, 2+1=3, 3+2=5, 5+3 =8 .......... ইত্যাদি।

ফিবনাচ্চি সিরিজের যেকোন পদকে আগের পদ দিয়ে ভাগ করলে সেই সংখ্যাটাই PHI । প্রথম কয়েকটা পদের জন্য হিসেব কিছুটা বিদঘুটে মনে হলেও ফিবনোচ্চি সিরিজ ধরে যত সামনে যাওয়া হবে তত ক্রমিক সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত PHI এর দিকে এগবে এবং ৩৯ তম পদ থেকে ক্রমিক সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত প্রায় ধ্রুব হয়ে যাবে। যেমন
2/1=2,
3/2=1.5,
5/3=1.665,
8/5=1.6,
13/8=1.625,
21/13=1.615
.....................
এখানে প্রথম দুটি ভাগফল বাদ দিলে বাকি ভাগফলগুলোর মান প্রায় সমান বা ধ্রুবক।

অথবা উল্টো করে বললে এই অনুপাতকে আমরা 1 : 1.6180… = 0.6180… ও বলতে পারি । এই 0.6180… কেও কিন্তু গোল্ডেন রেশিও বলা হয় । এবং একে ছোট হাতের ফাই ( φ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় । তার মানে সম্পর্কটা হচ্ছে এরকম : Φ=1/ φ
PHI কে কিন্তু আরো অনেকভাবে প্রকাশ করা যায় ;
Φ=1+1/(1+1/(1+…))
এই PHI ই হল একমাত্র সংখ্যা যা এই ধরনের অদ্ভুত আচরণ করে :

ধরি, a এবং b দুইটি সংখ্যার মধ্যে সোনালী অনুপাত বজায় তাহলে লিখা যায়
(a+b)/a = a/b = Φ
or, ((a/b)+1)/(a/b) = a/b
যেহেতু a/b = Φ
সুতরাং, (Φ+1)/ Φ = Φ
or, Φ+1 = Φ^2
or, Φ^ 2= Φ+ 1
ot, Φ^2 - Φ-1 = 0
উপোরোক্ত সমীকরণটি একটি দ্বিঘাত সমীকরণ যার
সমাধান হচ্ছে :
Φ = (1+ √5)/2 = 1.618033.....
এভাবে সোনালী অনুপাত পাওয়া যায়
পদার্থবিজ্ঞানে প্রয়োগ :
আমরা জানি, ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই উপরে ওঠা যায় ততই অভিকর্ষজ ত্বরণ এর মান কমতে থাকে, আবার নিচে নামলেও অভিকর্ষজ ত্বরণ এর মান কমতে থাকে। কিন্তু ঝামেলাটা হলো দুইক্ষেত্রে এই মান কমার ধরণ বা হার একরকম নয়, উপরে উঠার সময় যে সমীকরণ অনুসারে অভিকর্ষজ ত্বরণ এর মান কমে নিচে নামার সময় সেই সমীকরণ অনুসারে কমে না (সমীকরণগুলো একটু পরেই দিচ্ছি)। এর মানে হলো আপনি একবার ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে কোন পাহাড়ে উঠে নিজের ওজন মেপে আবার যদি সেই পাহাড়ের উচ্চতা পরিমাণই মাটির নিচে গিয়ে নিজের ওজন মাপেন তাহলে দুইক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মান আসবে।

কিন্তু সবসময়ই কি একই ঘটনা ঘটবে?? এমন কোন উচ্চতাই কী নেই যে উচ্চতায় উপরে উঠলেও যে ওজন নিচে নামলেও সেই একই ওজন?!?

মনে করি সেই উচ্চতাটি h (নিঃসন্দেহে h>0)।

আমাদের মূল উদ্যেশ্য ছিল ফিজিক্সে সোনালী অনুপাতের যাদুটা দেখা। সেই যাদুটা দেখতে সামান্য কিছু হিসাব নিকাশ করা যাক!!

আমরা জানি, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ R এবং ভূপৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলে, ভূপৃষ্ঠ হতে h উচ্চতার কোন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ,

g'=g{R/(R+h)}²

আবার, ভূপৃষ্ঠ হতে h গভীরতার কোন
স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ,

g"=g(R-h)/R



আমরা এমন একটা উচ্চতা বের করতে চাচ্ছি যেখানে,
g'=g"
=> g{R/(R+h)}²=g(R-h)/R
=> R³=(R-h)(R+h)(R+h)
=> R³=(R²-h²)(R+h)
=> R³=R³+R²h-Rh²-h ³
=> R²h-Rh²-h³=0
উভয় পক্ষকে h³ দিয়ে ভাগ করে পাই,
(R/h)²-(R/h)-1=0

এই সমীকরণটাকে চিনতে পেরেছেন? সমীকরণটা x²-x-1=0 আকারের, তাইনা?? হ্যাঁ, এটাই আমাদের সেই পরিচিত সমীকরণ !!! এটার দুটা সমাধানের মধ্যে একটি (1+√5)/2 একে বলা হয় Golden ratio বা সোনালী অনুপাত
এবং একে φ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। (অপর সমাধানটি ঋণাত্মক।)

অর্থাত্‍,
R/h=φ=(1+√5)/2

পৃথিবীর ব্যাসার্ধ এবং আমাদের কাঙ্খিত উচ্চতার অনুপাত হলো সোনালী অনুপাত। (প্রকৃতপক্ষে শুধু পৃথিবী নয়, যেকোন গ্রহ উপগ্রহ বা যেকোন গোলকের জন্যই এই সম্পর্ক খাটে)

এমন একটা অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী ঘটনার ভিতরও সোনালী অনুপাত লুকিয়ে আছে কী অদ্ভুতভাবে!!! —না, অদ্ভুত বলাটা বোধহয় ঠিক হলো না। সব অসাধারণ ঘটনার পিছনে সোনালী অনুপাত লুকিয়ে থাকবে, এটাই তো মনে হয় স্বাভাবিক!!

***
এখানে হিসাবের সময় একটু সতর্ক থাকতে হবে। ভূপৃষ্ঠ থেকে h উচ্চতায় অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ণয়ের সূত্র হিসাবে অনেকে

g'=g(1-2h/R)

সূত্রটি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এটা এক্ষেত্রে কাজে দেবে না। কারণ এটি আমাদের ব্যবহৃত সূত্রের দ্বিপদী বিস্তৃতি করে উচ্চতর ঘাতসমূহ উপেক্ষা করে তৈরী, তাই শুধুমাত্র অল্প উচ্চতায় এটি সঠিক ফল দেয়। এখানে এটি দিয়ে হিসাব নিকাশ করলে খুবই অল্প উচ্চতা (h=0) বের হবে :(আগেই বলে দিয়েছিলাম h>0)

মানব দেহে ফাই এর ব্যবহার -
ছেলে/মেয়ে সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই ,
থেকে হাটু পর্যন্ত এবং হাটু থেকে পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত দূরত্বের অনুপাত PHI ,
দেহের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য : নাভির নিচ থেকে বাকি অংশের দৈর্ঘ্য = 1.6180…(PHI) ;
বাহু (বাইসেপ্স) এর সাথে সম্পূর্ণ হাত এর অনুপাতের মান হল 1.6180…(PHI);
আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে কনুই এর দৈর্ঘ্য এবং কবজি থেকে কনুই এর দৈর্ঘ্যের অনুপাত 1.6180…(PHI) ;
মুখমণ্ডলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত 1.6180…(PHI) ;
ঠোঁটের দৈর্ঘ্য ও নাকের প্রস্থের অনুপাত 1.6180…(PHI) ,

শুধু মানবদেহই নয় , গোটা প্রানীকুলে-উদ্ভিদকুলে সব কিছুতেই মাত্রাগত ভাবে PHI বিদ্যমান । একটা মৌচাকে স্ত্রী মৌমাছি ও পুরুষ মৌমাছির সংখ্যার অনুপাত PHI । ফুলের ভেতর প্রতি স্তরের রেনুর সাথে পরের স্তরের রেনুর অনুপাত PHI । গাছের প্রতি স্তরে স্তরে পাতা বৃদ্ধির অনুপাত PHI । মাছি ,কীট, ওয়াইল্ড ডগ ইত্যাদির চলাফেরার পথ কিংবা আক্রমনের পথ হয় Golden Spiral অনুযায়ী (মানে PHI )। মুরগীর ডিমেও Golden Spiral খাপে খাপে বসে যায়! এমনকি যে প্রানীর কোন হাত-পা-মাথা কিছুই নেই যেমন শামুক-ঝিনুক-সী-শেল এসবেও কোন না কোনভাবে PHI রয়েছে !!


মানুষের চোখ অন্য ইমেজের চেয়ে, যেসব ইমেজ Golden Ratio কে অনুসরণ করে তাকে খুব সহজে উপভোগ্য হিসেবে নিতে পারে । আর যেসব ইমেজকে চোখ সহজে নিতে পারে সেগুলোকেই আমরা বলি সৌন্দর্য ! সে জন্যই বিখ্যাত অনেক শিল্পীরাই তাদের কাজে PHI প্রয়োগ করেছেন যেমন মিসরের পিরামিডে , আগ্রার তাজমহলে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে
:
এরকম আরো অসংখ্য PHI খুঁজে পাওয়া গিয়েছে সৌরজগতে , মহাবিশ্বে , আমাদের পৃথিবীর আনাচে কানাচে । মহাবিশ্বের চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও PHI (Golden Ratio) বজায় রেখেছে তার শৃঙ্খলা । সবকিছুর ভেতরে এক অপার মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে । সবকিছুতেই একটু গভীর দৃষ্টি দিলেই PHI খুঁজে পাওয়া যাবে। এজন্যই একে বলা হয় The number of life , The divine proportion ( স্বর্গীয় অনুপাত ) । "

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:০৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রকাশিত হলো আমার নতুন উপন্যাস “১০ সেকেন্ড”

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২

আমার সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস “১০ সেকেন্ড” পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করি গল্পটি আপনাদের হৃদয়ে একটি বিশেষ অনুভূতি তৈরি করবে।




বইয়ের ফ্লাপের লেখা

শামসু কখনো নায়ক হতে চায়নি। সে শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×