somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গেলাপ নাকি সায়ানাইড?

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্পটা নিবেদিতা আর তন্ময় এর।
গল্পটা নিবেদিতার প্রতি নিবেদিত একটি ছেলের।
এদের গল্পের আগাগোড়া জুড়ে আছে একটি কলেজ।
ভেবে অবাক হতে হয়,একসময় মেয়ে দেখলে লজ্জায় আঁৎকে উঠা ছেলেটি একটা মেয়েকে ভালোবেসে ফেলে,ভালোবাসার চেষ্টা করে।
মেয়েটার কাছে আসার চেষ্টা করে।
একসময় মেয়ে দেখলে চোখ মাটিতে নামিয়ে ফেলা ছেলেটাও হাটু গেড়ে কোন এক মেয়েকে কিছু একটা বলতে চায়।
আচ্ছা এই সাহস আসে কোত্থেকে?
এই স্পর্ধার শিক্ষা সে পায় কিভাবে?
প্রেম।শব্দটি সোজা-সাপ্টা কিছু বর্ন দিয়ে তৈরি।
কিন্তু,শব্দটার আশ্চর্য কিছু অলৌকিকতা রয়েছে।
শব্দটা তন্ময় দের মনে কি যেন করে ফেলে।
দুমড়ে মুচড়ে দেয় ভেতরকার ভীতিকে।
ভয়কে,লোকলজ্জাকে।
তন্ময়ও চায় চিৎকার করে বলে উঠতে,"ভালোবাসি নিবেদিতা,অনেক বেশি ভালোবাসি"
তবু,শহরের কোলাহলে শব্দ বেরোয় না তার গলা দিয়ে।
বেরোলেও কোলাহলে শত কম্পনের ভিরে নিবেদিতা শুনতে পায় না সে চিৎকার।
তাই,কেঁদে ভাসানো রাত শেষ হলে তার জাণালা দিয়ে জেগে উঠা সূর্যের ডাকে ঠিকই সাড়া দেয় তন্ময়।
আবারো শুরু করে, নিবেদিতার পিছু পিছু এক চিলতে প্রাপ্তির জন্যে।
সময় যেতে থাকে,সাগরের স্রোতও অবিরাম আঘাত করে যায় তার সৈকতকে।
তন্ময় নিবেদিতার কাছে যেতে চায়।তার স্পন্দন অনুভব করতে চায়।তার সবকিছু কেন্দ্রবিন্দু করতে চায়।
নিবেদিতাকে কেন্দ্র করে বৃত্ত এঁকে গড়তে চায় বিশাল এই পৃথিবীর মাঝে নিজের ছোট্ট এক পৃথিবী।তাইতো,সকাল হলেই হুড়মুড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে পাড়ি জমায় কলেজের পথে।
নিবেদিতার একটু দেখা পেয়েই সে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ভাবে সে।
তবু,ভাবে আজকে বলে দিব নিবেদিতাকে।
সেই খেয়ালে রাস্তার মোড় থেকে প্রত্যেকদিন কিনেও নেয় সে একটি লাল গোলাপ।
গোলাপটা মূল্যবান না,কিন্তু নিষ্পাপ।
গোলাপটা তবু নিবেদিতার কাছে পৌছায় না কখনো।
মফস্বল শহরের আনকোড়া ভালো ছেলের বুকে এতটা সাহস হয়ে উঠে না নিবেদিতার হাতে গোলাপ তুলে দেওয়ার।
গোলাপ তার বাসি হয়,কিন্তু তন্ময় বড় কষ্টে তার মনে তৈরি হওয়া নিবেদিতার গোলাপকে যত্নে লালন করে।
বন্ধুত্বের বেশে ভালোবাসাকে গোপন করে রাখে সে নিবেদিতার থেকে।
আর নিবেদিতা?
বুঝেও সে বুঝে না।শোনেও সে শোনে না।তন্ময়ের এই স্নিগ্ধতায় তন্ময় হয়ে থাকতে পারে না সে, বাধ সাধে বাস্তবতা নামক নির্মম শব্দটা।
এই শব্দের দোহাইয়ে নিজেকে সামলে নেয় সে,বুঝতে দেয় না কিছুই।
কিন্তু,পাগলটা কেনো গোপন করে রাখতে পারে না নিবেদিতার প্রতি তার ভালোবাসা?
এসব ভেবে নিবেদিতার কাজল দেওয়া চোখটাও ভিজে আসে।
পরক্ষনে মনে পড়ে,এই কাজল তো তন্ময়ের জন্যেই লাগানো।
ভালোবাসি বলতে না পারলেও নিবেদিতা অনুভব করে তন্ময়কে।
তার ভেতরে-বাহিরে।
তন্ময়ের পাগলীটা তন্ময়ের জন্যে উপবাস পালন করে।ক্ষনে ক্ষনে চোখ ভিজে আসে।তবু,সামলে নেয় কাজলগুলো তন্ময়ের বড্ড প্রিয় এই মনে করে।
নিবেদিতা ভেবে নেয়,"বুয়েটে" চান্স পেলেই বলে দিব হতচ্ছাড়াকে।বলে দিব এই ভয় পাওয়া চশমা লাগানো ছেলেটা আমার।আমার তন্ময়।আমার হতচ্ছাড়া।
এতসব উদাসীন ভাবনা ভাবতে থাকা নিবেদিতার ঠিকানার দূরের কোন এক ঠিকানায় বসে তন্ময় ও ভাবতে থাকে একই কথা।
বুয়েট এ ভর্তি কনফার্ম হলেই,বাসায় না গিয়ে পাগলীটাকে বলে দিব কথাগুলো।এতদিন যেসব কথা মোবাইলে লিখেও সেন্ড বাটনে ক্লিক করা হয় নি।
সেসব এবার বলেই দিব।খুঁজে নিব কাজলদেওয়া আহ্লাদী চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে থাকার অধিকার।
হায় রে অদৃষ্ট!
দুটি মন এক হতে পারে না শুধুমাত্র একটি দেয়ালের কারনে।
দেয়ালটা "বাস্তবতা"।
এই, চার অক্ষরের শব্দ দুটো কিভাবে যে কত হৃদয়কে জোড়া লাগায়,আবার কত হৃদয়কে কাচের আয়নার মত ভেঙ্গে-চুড়ে দেয়, তা শুধু সে'ই জানে।
তন্ময় জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকায়,আকাশের তারাদের লুকোচুরি খেলায় আঁকতে চেষ্টা করে নিবেদিতার মুখ।
আঁকতে আঁকতে ঘুমিয়ে যায় সে।স্বপ্নেও সে আঁকতে থাকে নিবেদিতার মুখখানা।
ঘুমের মধ্যেই তন্ময়ের চোখজোড়া ভিজে উঠে,তবু মুখে হাসির রেখাও ফুটে।
এভাবে এভাবে চলে আসে তাদের মধ্যকার বাস্তবতা মিটিয়ে ফেলার দিন।
"বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা"
ঢাকার আরামবাগে নেমে বুয়েট ক্যাম্পাসের যাওয়ার জন্যে রিক্সায় উঠে সে।
রিক্সা আর পিচ ঢালা ঘর্ষনে সে শুনতে পায় নিবেদিতার কণ্ঠস্বর।
আকাশের দিকে আবারো তাকায় সে,দূরে বসে হাসতে থাকা সৃষ্টিকর্তার কাছে কড়জোড়ে কাজল দেওয়া মেয়েটাকে পাওয়ার প্রার্থনা করে সে।
নিবেদিতার হাতটা ধরতে তার যোগ্যতার প্রয়োজন।আজ সে যোগ্যতা অর্জনের পরীক্ষা।
পরীক্ষা শেষ।
পরীক্ষা পরবর্তী দিনগুলো মৃত্যু যন্ত্রনার মধ্যে কাটে তার।
কাটে নিবেদিতারও।


আজ ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হবে।তন্ময় আবারো রাস্তার মোড়ের দোকান থেকে আবারো কিনে নেয় নিষ্পাপ এক গোলাপ ফুল।
ডান পকেটে রাখে সে গোলাপটা।
বাম পকেটেও হাত দেয় সে।সেখানে ছোট্ট এক বোতলে সায়ানাইড রাখা।
এই ছোট্ট বোতলের সায়ানাইড তার শরীরে কি করতে পারে,তন্ময় তা জানে।
নিজের বিচিত্র এই অবস্থা দেখে তার চোখ ভিজে উঠে।সাথে মুখে হাসির রেখাও থাকে।
জয়ন্ত হাটতে থাকে,রেজাল্ট দেখার জন্যে উদ্ভাসের নোটিশ বোর্ডের দিকে হাটতে থাকে সে।
একি চিত্রপটের ভিন্ন পিঠে বসে নিবেদিতা ভগবানের মূর্তির সামনে ক্রন্দনরত।
কাজলের কথা ভুলে গিয়ে সে প্রার্থনা করছে তন্ময়ের বিজয়ের জন্যে।
তন্ময় নোটিশ বোর্ডের অনেকটা কাছে পৌছে গেল।
মাথায় শুধু একটায় প্রশ্ন


"গোলাপ নাকি সায়ানাইড? "
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রকাশিত হলো আমার নতুন উপন্যাস “১০ সেকেন্ড”

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২

আমার সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস “১০ সেকেন্ড” পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করি গল্পটি আপনাদের হৃদয়ে একটি বিশেষ অনুভূতি তৈরি করবে।




বইয়ের ফ্লাপের লেখা

শামসু কখনো নায়ক হতে চায়নি। সে শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×