গত বছরের (২০১৪) কুরবানী ঈদের সময় ঢাকা থেকে বাড়ী (লালমনিরহাট) যাবার সময় পথের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ ব্লগটি লিখেছিলাম। এবারের ঈদের সময় দেশের বাইরে ছিলাম। সেখানে ঈদ তেমন বোঝাও যায়নি। তাই বারে বারে বাঙালীর উৎসবমুখরতার কথা মনে হচ্ছিল। ইতোপূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত এ লেখাটি তাই আবার এখানে প্রকাশ করলামঃ
বাঙালী জাতি যেভাবে তার শেকড়ের অন্বেষণ করে, শেকড়কে সমীহ করে, বুকে ধারণ ও লালন করে, পৃথিবীর আর কোন জাতি বোধহয় তেমনটা করে না। আমি ওপার বাঙলার কথা জানিনা, তবে এপারের বাঙালীরা যেভাবে ঈদ-পূজোয় মাত্র কয়েকদিনের ছুটিতে নাড়ীর টানে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত দলবেঁধে সহাস্যে আনন্দ ফূর্তি করতে করতে বাড়ীমুখো হন, তার তুলনা গোটা বিশ্বে বিরল। আমি নিজেও সে আনন্দে শরীক হ'লাম। গতকাল সন্ধ্যায় রওনা দিয়ে ৫/৬ ঘন্টার পথ ১৫ ঘন্টায় পাড়ি দিয়ে আজ সকালে পৌঁছালাম নিজ বাড়ীতে, মায়ের সাথে ঈদ উদযাপন করতে। কারণ, আমাকে দেখলেই মা ভীষণ খুশী হন। ঈদে কাছে না পেলে মন খারাপ করেন।
অসহিষ্ণু জাতি হিসেবে আমাদের বেশ দুর্নাম আছে। কিন্তু এসব উৎসবের মত সময়গুলোতে বাঙালী ধৈর্যের পরিচয় দিতে এবং সহমর্মিতা দেখাতে মোটেই ইতস্ততঃ করে না। তাই দেখি, কোন একজন যাত্রীর জন্য যখন বাস ছাড়তে দেরী করছিলো এবং জনৈক যাত্রী বিরক্ত প্রকাশ করছিলেন, তখন সুপারভাইজার এসে তাকে বুঝালেন, কি করবো ভাই, এই যাত্রীটি গাবতলীর খুব কাছে এসে জ্যামে আটকা পড়েছে। আমরা যদি একটু অপেক্ষা করি, তবে এ যাত্রী তার পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারবে, নতুবা আর সে ঈদের আগে বাড়ী যেতে পারবেনা। আমাদের তো সবার ভালোমন্দটাই দেখতে হয়। সাথেসাথে কয়েক জন সহযাত্রী তার সাথে কন্ঠ মিলালেন, এবং অপেক্ষা করতে সমর্থন দিলেন। বিরক্তি প্রকাশ করা যাত্রীটিও একথা শুনে নিমেষে তার মত পাল্টিয়ে রাজী হয়ে গেলেন।
পথে আসার সময় দেখেছি, বাসে ট্রাকে করে হাজার হাজার নারী পুরুষ ধাবমান। সবার হাতেই পোটলা পুটলি, ব্যাগ ট্যাগ। এমনকি ট্রেন আর বাসের ছাদেও প্রায় ভেতরের সমান মানুষ। তারা একে অপরকে অতিক্রম করার সময় শিশুসুলভ চপলতায় হাত নেড়ে হৈ হৈ রৈ রৈ করে সম্ভাষণ জানায়। সবাই আনন্দে উদ্বেল, তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে অনেক সময় এদের সবার জন্য নিরাপদে বাড়ী ফেরা হয়না।
আদিতমারী, লালমনিরহাট
০৪ অক্টোবর ২০১৪
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




