somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাইকুঃ এক এক করে (অনুবাদিত)

১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনুবাদিত হাইকুঃ এক এক করে

এক এক করে ওরা চলে যায়
আমার সবগুলো চড়ুই উড়ে যায়
আমার আকাশ নিঃসঙ্গ পড়ে রয়!

মূলঃ Susan Williams
অনুবাদঃ খায়রুল আহসান

কবি পরিচিতিঃ কবি Susan Williams একজন আমেরিকান সৌখিন কবি। তিনি ওয়াশিংটনের রিচল্যান্ডে বসবাস করেন।

মূল কবিতাটি (হাইকু) নিম্নে দেয়া হলোঃ

One by one

one by one they leave
all my sparrows fly away
lonely are my skies

By- Susan Williams

অনুবাদকের বক্তব্যঃ

সুসান উইলিয়ামস এ যুগের কোন নাম করা কবি নন। তিনি শখ করে কবিতা লিখে থাকেন, তবে প্রচুর কবিতা পড়েন। কোন কবিতা পাঠের পর তিনি যে মন্তব্য করে থাকেন, তাতে বোঝা যায় যে কবিতা সম্পর্কে তিনি ভাল জ্ঞান রাখেন। তিনি একটি ইংরেজী কবিতার ওয়েবসাইটে প্রায় নিয়মিতভাবে নিজের লেখা কবিতা প্রকাশ করেন এবং অন্যদের কবিতায় তার মন্তব্য রাখেন।

৫-৭-৫ ধ্বনিবিন্যাসে (সিল্যাবলসে) লিখিত এই ইংরেজী হাইকুটি হাইকু’র শর্তাবলী সঠিকভাবে পূরণ করেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ‘হাইকু’ সম্পর্কে সবাই জানেন, এ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবুও, অতি সংক্ষেপে বুঝানোর জন্য আমার অনুজপ্রতিম বন্ধু টিটো মোস্তাফিজ (Tito Mostafiz) কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত তার একটি পোস্ট থেকে কিছু কথা উদ্ধৃত করা হলোঃ

“সপ্তদশ শতাব্দীতে জাপানী সাহিত্যে কবিতার ক্ষুদ্রতম রূপ হাইকুর উদ্ভব ঘটে। শিরোনামবিহীন এ কবিতায় তিনটি লাইন থাকে। প্রথম ও তৃতীয় লাইনে পাঁচ এবং দ্বিতীয় লাইনে সাত, মোট সতেরটি অক্ষর/মাত্রা/শব্দাংশ (Syllable or morae) নিয়ে হাইকু লেখা হয়। হাইকুর দুটি অংশ। কিগো আর কিরেজি। হাইকুর প্রথম লাইন কিংবা ‍তৃতীয় লাইনে সাধারণত কোনো ঋতু বা প্রকৃতির উল্লেখ থাকে। প্রকৃতি সম্পর্কিত এই এক লাইন কিগো। অন্য দুটি লাইন কিরেজি, যাতে হঠাৎ দেখা কিংবা অনুভবের কথা বলা হয়। কিগো এবং কিরেজির সম্পর্ক-সূত্রটি বৈপরীত্য কিংবা তুলনায়। এ দুটি অংশ একসাথে একটি দৃশ্যকল্প তৈরী করে”।

হাইকু লেখা তুলনামূলকভাবে সহজ বিধায় এটা বেশ জনপ্রিয়। জনপ্রিয়তা লাভের সাথে সাথে এর নিয়মাবলীও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও প্রকৃতির সাথে তাল মিলাতে গিয়ে যে যার মত অনেক শিথিল করে নিয়েছে। মূল জাপানী হাইকু প্রথাগতভাবে সাধারণতঃ এক লাইনেই লেখা হয়ে থাকে। শিরোনামহীন হবার কথা থাকলেও, অনেকে হাইকুতে শিরোনাম ব্যবহার করে থাকেন। জাপানী ভাষায় কোন বহুবচন নেই বিধায় হাইকু একবচনে লেখা হয়, কিন্তু অন্যরা বহুবচনও ব্যবহার করেন। তবে আরো কিছু মূল নিয়ম মানা হয়ে থাকে, যেমন হাইকু সবসময় ‘বর্তমান কাল’ এ লেখা হয়, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালে নয়। হাইকুতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয় না, ইংরেজী হাইকুতে কোন ‘ক্যাপিটাল লেটার’ ব্যবহার করা হয়না, ইত্যাদি।

যে কারণে এ হাইকুটি অনুবাদকের ভাল লেগেছেঃ

হাইকুটি হাইকু’র শর্তাবলী পূরণ করা ছাড়াও এর অভ্যন্তরে একটি রূপক অর্থ তথা চিত্রকল্প অন্তর্নিহিত রয়েছে। প্রকৃতির মত মানুষের জীবনকেও চারটি কিংবা ছয়টি ‘ঋতুবৈচিত্রে’ ভাগ করা যায়। সে বিভাজন অনুযায়ী অনুবাদকের জীবনে এখন হেমন্তকাল, এ মুহূর্তে প্রকৃতিতেও তেমনি। এ সময়ে বাগান থেকে যেমন একে একে ‘চড়ুইগুলো’ উড়ে যায়, মানুষের জীবন থেকেও তেমনি একে একে বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনের বিদায় নেয়ার খবর আসতে থাকে। এ বিদায় কখনো লোকান্তরজনিত, কখনো স্থানান্তরজনিত (পরিযায়ী পাখির মত অভিবাসনে যাওয়া/থাকা)।

মাত্র গতকালই একদিনে আমি তিনজন প্রাক্তন সহকর্মীর ‘উড়ে যাবার’ খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে একজন বয়সে আমার সামান্য বড়, বাকী দু’জন সামান্য ছোট। এভাবেই একদিন পাখিহীন আকাশটাকে বড় ‘নিঃসঙ্গ’ মনে হয়। মাত্র তিনটি লাইনে প্রকৃতির সাথে মানব জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বাস্তব চিত্রকল্প এত সুন্দরভাবে আঁকা হয়েছে বলেই আমি এ ছোট্ট কবিতাটি অনুবাদে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

ঢাকা
৩০ কার্ত্তিক ১৪২৭
১৫ নভেম্বর ২০২০
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২৭
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আমার দুঃখ বিলাসের একমাত্র কারণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:০৬



কংক্রিটের রাত্রিতে, আঁধারের ওপার হতে দাও হাতছানি।
তুমি কি আলোর পাখি?

আগুন রঙা তোমার দু পাখায় আলোর ঝলকানি,
আমি বিহ্বল হয়ে চেয়ে থাকি,
তোমার বৈচিত্রময়তায়।

আঁধার হতে আলোয় উত্তরনের চেষ্টায় আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গনেশ মূর্তি-এক্সপেরিমেন্ট আর অন্ধ বিশ্বাস

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:০৩

Repost


ল্যাবে কলকাতার হিন্দু মেয়ে গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ড হিসাবে জয়েন করল। খুবই করিৎকর্মা ছাত্রী, প্রথম কয়েকমাস ছোট খাটো এক্সপেরিমেন্ট খুব সহজেই করা হত...আসল সমস্য শুরু হয় যখন স্যাম্পল থেকে প্রোটিন বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে থাকা মানেই কি দেশের সেবা করা???

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:০২



ব্লগে আসি কিছু আনন্দময় সময় কাটাতে। লিখতে ভালো লাগে, তাই লেখি। পড়তে ভালো লাগে, তাই যখনই সময় পাই, ব্লগে বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়ি। ব্লগে সময় কাটানো মানেই একধরনের কোয়ালিটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেডিয়াম গার্লদের বেদনাদায়ক ইতিবৃত্ত

লিখেছেন  ব্লগার_প্রান্ত, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:১১



শখের তোলা আশি টাকা। সেই শখ মেটাতে অনেকেই অনেক কিছু কিনে থাকেন। সৌখিন এই সকল মানুষদের তালিকার মধ্যে একসময় ছিলো একটি রেডিয়ামের হাত ঘড়ি অথবা দেয়াল ঘড়ি। এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের জীবনচক্র

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:১৬



মানুষের জীবনচক্র নিয়ে আদি মানুষ থেকে শুরু করে, আজকের সায়েন্টিষ্টদের ধারণা, পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ইত্যাদি আপনারা জানার সুযোগ পেয়েছেন; বিশ্বের শিক্ষিত অংশ বাইওলোজী, মেডিসিন, ফিজিওলোজির সাহায্যে মানুষ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×