
আবির রাঙা আকাশ
আমার তোলা ছবি, i7 এ।
প্রতিদিনই বাসার কাছের মাসজিদ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত আযানের আহবান শুনতে পাই। তার মধ্যে দু’ওয়াক্তের আযান মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে যায়। বাকি তিন ওয়াক্তের আযান হয়তো তেমন মনযোগ দিয়ে শোনা হয় না, তাই সেগুলো সেভাবে মর্ম স্পর্শ করে না। মনটা সবচেয়ে বেশি উতলা হয় যখন মাগরিবের ওয়াক্তের আযান শুনি। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকলে পাখিদের নীড়ে ফেরা দেখি। ওরাও গাছে বসে কিছুক্ষণ কলরব করে সায়াহ্নের উপাসনা সেরে নেয়, তারপর নিশ্চুপ হয়ে যায়। ব্যালকনিতে না দাঁড়ালে শয্যাকক্ষের জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে আঁধার নেমে আসা দেখি। আবির রাঙানো আকাশ দেখি। কোন কোন সময় আকাশে পাখা মেলে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজ দেখি, দেখতেই থাকি অদৃশ্য না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। ত্রস্ত ব্যস্ত মুসল্লীদের মাসজিদ পানে ছুটে চলা দেখি। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালা দেখি, মনে হয় বৃক্ষরাও যেন স্রষ্টার উপাসনা শুরু করার জন্য প্রহর গুণছে।
জীবিকার সন্ধানে দূরদেশে ছড়িয়ে থাকা সন্তানদের কথা মনে আসে। একজনের এলাকায় তখন আমাদের এখান থেকে ডুবে যাওয়া সূর্যটা উদিত হচ্ছে, অন্যজনের এলাকায় নিশুতি রাতের নিস্তব্ধতা নেমে আসছে। সাবালক হয়ে গেলে অন্যান্য প্রাণীদের মত মানুষের সন্তানরাও সকল মায়ার বাঁধন টুটে জীবিকার সন্ধানে দূরে চলে যায় তাদের আপন বলয়ে। কিন্তু পশু পাখিরা যেমন তাদের শাবক বড় হয়ে গেলে তাদের আর কোন খোঁজ খবর রাখে না, শাবকেরাও রাখে না, মানুষ তেমন নয়। পৃথিবীর ভিন্ন প্রান্তে থাকলেও মানুষ এবং তাদের সন্তানেরা একে অপরের প্রতি নির্বিকার ও নির্লিপ্ত থাকতে পারে না (অবশ্যই কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত)। হোয়াটসএ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জারে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হয়, আগে হতো শুধু স্কাইপে বা টেলিফোনে। এ ছাড়াও মা-বাবার সাথে সন্তানের টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ তো রয়েছেই। এসব ভাবতে ভাবতে কানের ভেতরে অনুরণিত হতে থাকে, ‘নামাযের জন্য এসো, কল্যাণের জন্য এসো’। আমি নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। বিশ্ব প্রতিপালক আমার সামনে এসে দাঁড়ান! আমি সিজদায় অবনত হই। স্রষ্টার করুণাধারা বর্ষিত হতে থাকে। কল্পনায় নিজেকে কল্যাণপ্রাপ্তদের দলে অন্তর্ভুক্ত বলে মনে আশা জাগে। এই আশার নামই জীবন। এই কল্পিত ও বাস্তব কল্যাণের সামষ্টিক রূপই ‘এই আমি’। সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’লার। আল্লাহ আমার অভিভাবক, আল্লাহ আমার প্রতিপালক, আল্লাহ আমার রব্ব- আল্লাহকে এভাবেই ভাবতে ও ডাকতে আমি ভালবাসি। আল্লাহু গাফুরুর রাহীম, আল্লাহু রাহমানুর রাহীম, আল্লাহু রাব্বুল 'আ-লামীন!
ঢাকা
২৮ অক্টোবর ২০২১
শব্দ সংখ্যাঃ ৩৩৫

মাগরিবের আযান শুনে মুসল্লীরা ত্রস্তপদে মাসজিদ পানে ছুটছেন।
আমার তোলা ছবি, iphone i7 এ।

নীড়ে ফেরা পাখিরা গাছে বসে কিছুক্ষণ কলরব করে সায়াহ্নের উপাসনা সেরে নেয়, তারপর নিশ্চুপ হয়ে যায়।
আমার তোলা ছবি, i7 এ।

সেই শৈশব থেকে এখনও উড়ন্ত প্লেন দেখে প্রভূত আনন্দ পাই, এবং সেটা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত দেখতেই থাকি!
আমার তোলা ছবি, i7 এ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
