somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীরব রাতের নিবিড় আঁধারে....

২৬ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন শ্রোতা যখন কোন গান শোনেন, আর সে গানটি যদি তার ভালো লেগে যায়, তখন তার তিনটে ইন্দ্রিয় একত্রে কাজ করতে থাকে- কর্ণ, মানস (মন, কল্পলোক) আর নয়ন। গানের সুর কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্র তার মন সেই গানের কথা ও সুরের আবহে স্পর্শিত হয়ে, স্পন্দিত হয়ে, তরঙ্গায়িত হয়ে কল্পলোকে বিস্তৃত হয় এবং একইসাথে সেই সুরসৃষ্ট কিছু ছবি তার চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যেতে থাকে। যতক্ষণ সেই সুর তার কানে প্রবেশ করতে থাকে, ততক্ষণ সে দু’চোখে ছবি দেখতে থাকে, যদিও প্রকৃতপক্ষে তার চোখের সামনে দেখার মত কোন ছবি থাকে না। এই ছবি দেখানোর কাজটা মন করে থাকে, তার কল্পলোকের মাধ্যমে। এই তিন ইন্দ্রিয়ের সমন্বিত কার্যক্রমে তার মনে ভালোলাগার অনুভব তৈরী হয় এবং তার দেহমনে positive vibes সৃষ্টি হয়।

ধরুন, তার শোনা কোন একটি গান শেষ চরণে এসে "নীরব রাতের নিবিড় আঁধারে" কথাগুলো দিয়ে শেষ হয়ে গেল। যারা রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্ত, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কোন গানটির শেষ চরণে এ কথাগুলো রয়েছে। গান শেষ হবার সাথে সাথে তার কান আপাততঃ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু মন ও চোখও কি তাই? না, মন ও চোখের যৌথ ক্রিয়াকলাপ তখনও চলতে থাকে। নীরব রাতের নিবিড় আঁধারের কথা ভাবতে ভাবতে মনের তোরঙ্গে সযত্নে সজ্জিত কিছু ছবি তখন তার চোখের সামনে চলে আসে। শ্রোতা বিশেষে এই ছবি ভিন্ন ভিন্ন হবে অবশ্যই, তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে। সে অভিজ্ঞতাটা হতে পারে কখনো আনন্দের, কখনো বিষাদের, কখনো ভয় বা ত্রাসের। যাদের নীরব রাতের নিবিড় আঁধার অবলোকন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ছবি দেখতে থাকবে। যাদের তা নেই, তাদের মন তাদেরকে নিয়ে যাবে তাদের কল্পলোকে, যেখানে বিচরণ করে তারা আপন কল্পনাশক্তির বলে ভিন্ন ভিন্ন ছবি দেখবে। আপন খেয়ালে ঐন্দ্রিয় বিচরণে এই ছবি দেখাকেই কবিগুরু বলেছেনঃ

"গানের ভেলায় বেলা অবেলায় প্রাণের আশা
ভোলা মনের স্রোতে ভাসা ....
কোথায় জানি ধায় সে বাণী দিনের শেষে
কোন ঘাটে যে ঠেকে এসে চিরকালের কাঁদা-হাসা
ভোলা মনের,
ভোলা মনের স্রোতে ভাসা..."।

এই "নীরব রাতের নিবিড় আঁধারে" কথাগুলোয় দুটো শর্ত আছে। প্রথম শর্ত, রাত হতে হবে নীরব, অর্থাৎ কোলাহলমুক্ত স্থান ও পরিবেশ। আর দ্বিতীয় শর্ত, আঁধার হতে হবে ’নিবিড়’ অর্থাৎ কৃষ্ণপক্ষের গভীর রাত হতে হবে। এটা হতে পারে কোন নির্জন এলাকায়; যেমন পাহাড়ের কোলে, নদীতীরে, বৃক্ষতলে, জোনাক জ্বলা বাঁশবাগানে, গোরস্তানে কিংবা শ্মশানঘাটে, নদীবক্ষে জেগে ওঠা নির্জন চরে কোন ভূমিশ্রমিকের পর্ণকুটিরে, এমনকি নীরব আপনালয়ে। এ দুটো শর্ত পূরণ হলে মুহূর্তেই কোন শ্রোতা স্বপ্নদ্রষ্টা দার্শনিকে পরিণত হয়ে যেতে পারে। তখন একসময় গান থেমে যাবে, শ্রোতা ছবি দেখতে দেখতে স্বপ্ন দেখা শুরু করবে। অবশ্য ভোরের আলোয় সে স্বপ্ন মিলিয়েও যাবে! আর সেটা মিলিয়ে যাবার পর সে আপন মনে ভাবতে থাকবে... "আমার সুরগুলি পায় চরণ, আমি পাই নে তোমারে"! এই স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন মিলিয়ে যাওয়ার খেলা নিয়েই মানুষের ’গানের ভেলায় বেলা অবেলায় .....ভোলা মনের স্রোতে ভাসা’। মানুষ জানে না, ’কোন ঘাটে যে ঠেকে এসে চিরকালের কাঁদা-হাসা, (এই) ভোলা মনের স্রোতে ভাসা’...! তখন সে আত্মস্থ হতে চায় এই ভেবে যে, "তোমার সাথে গানের খেলা দূরের খেলা যে, বেদনাতে বাঁশি বাজায় সকল বেলা যে। কবে নিয়ে আমার বাঁশি বাজাবে গো আপনি আসি, আনন্দময় নীরব রাতের নিবিড় আঁধারে"!


ঢাকা
২৬ মার্চ ২০২৪
শব্দ সংখ্যাঃ ৪৮৭


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:১৭
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×