somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদা হাতীর দেশে-১

২৭ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের অংশ হিসাবে দুই সপ্তাহের জন্য থাইল্যাণ্ড যাবার সুযোগ পাই। এককালে শ্যাম দেশ বলে পরিচিত সাদা হাতীর জন্য বিখ্যাত দেশটিতে যাবার স্বপ্ন ছিলো। স্বপ্নটি পূরণ হলো বটে কিন্তু সেটা যেমনটি ভেবেছি তেমন ভাবে নয়। সবাই যে সব জায়গায় যায় তার কোনটিতেই যাবার সুযোগ মেলেনি। এমনকি ব্যাংকক যাবার সুযোগ পেয়েছি মাত্র একবার। অন্য সব ট্যুরিস্ট স্পটে যাওয়া তো সুদূর পরাহত। আমি সে সব জায়গায় গেছি সাধারণত কেউ যেখানে যাবার জন্য থাইল্যাণ্ড যায় না। ফলে আমার ভ্রমনটি হয়েছে দলছুট টাইপের। সেটাই সবার সাথে শেয়ার করতে চলেছি।

মেজাজ খিঁচড়ে গেলো তিন পাতার ভিসা ফরম দেখে। দুনিয়ার সব অদ্ভুত তথ্য লাগে। আমেরিকা বা ইংল্যাণ্ড বা সেনজেন দেশের ভিসার জন্যতো মহাভারত লিখতে হয়। প্রথম দুটি আবার অনলাইনে। আমার দেখা মতে মালয়েশিয়ার ভিসা ফরম পূরণ করা সব চেয়ে সহজ। খুব কম তথ্য লাগে।

পরে মেজাজ খারাপ হলো ফ্লাইটের তারিখ দেখে। এ বছরের ২২ জানুয়ারী ছিলো সেই তারিখ। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় আখেরী মুনাজাতের দিন ছিলো সেটা। ফলে এয়ারপোর্ট যেতে ব্যাগ নিয়ে কয় মাইল হাঁটতে হবে তার কোন হিসাব নেই। পরে ঠিক হলো সবাই মিলে একটা বাসে যাবো। সেই বাস ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে যাবার জন্য বহুঘাট ঘুরে বিশেষ অনুমতি নেয়া হলো। বাস ছাড়বে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে। জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত যানজট থেকে রেহাই নেই ভেবে সকাল ৯টায় বাস ছাড়ার সময় ঠিক হলো। বাসা থেকে বের হলাম সকাল আটটায়। এয়ারপোর্ট পৌঁছালাম সকাল পৌনে দশটায়। ফ্লাইট দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে। চার ঘন্টা বোনাস অপেক্ষা।



আমাদের বাহন

বসে বসে সবার ব্যস্ততা দেখি। এক সময় অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় ল্যাণ্ড করলো আমাদের বাহন। থাই এয়ারওয়েজের এয়ার বাস।

আমরা সব মিলে ৪৪ জন। ফলে যেখানে যাই আমরাই রীতিমতো ভীড় লাগিয়ে ফেলি। চেক ইন, ইমিগ্রেশন আর নিরপত্তা বলয় পার হয়ে চড়ে বসলাম বিমানে। কোচ সেকশান জমজমাট যাত্রীতে।


কোচ সেকশনে আমরা

বিমান যথা সময়ে উড়াল দিলো আকাশে। দুই ঘন্টার ফ্লাইট। অর্ধেক সময় চলে যায় আয়েস করে খেতে খেতে। ফলে বিরক্তিকর লাগে না বসে থাতে। ফ্লাইট ছিলো বেশ আরামদায়ক। কোন টার্বুলেন্স মোকবেলা করতে হয়নি।

যথা সময়ে অবতরণ করলাম বিশাল আকৃতির সুবর্নভূমি বিমান বন্দরে। আক্ষরিক অর্থেই চোখ ধাঁধানো। বহুপথ হাঁটতে হলো ইমিগ্রেশন পর্যন্ত পৌঁছাতে। তেমন সময় লাগলো না সেখানে।

আমাদের এগিয়ে নেবার জন্য লোক এসেছে এআইটি থেকে। কারণ ট্রেনিংয়ের এ অংশটার ব্যবস্থাপনায় ছিলো এআইটি এক্সটেনশন কর্তৃপক্ষ। এদের একজন সুফিয়ান। থাই মুসলিম। সুফিয়ান আবার খুব হুঁশিয়ার লোক। আমাদের দলনেতা বললেন সব লোক আছে। সুফিয়ান বললো সবাই লাইনে দাঁড়ান। আমি গুনবো। গুনতে গিয়ে দেখা গেলো একজন কম। কোথায় গেছে সে কেউ বলতে পারলো না। সুফিয়ান আমাদের সবাইকে দাঁড় করিয়ে একজনকে সাথে করে খুঁজতে গেলো। সুবর্নভূমি বিমান বন্দরে একজনকে খুঁজে বের করা চাট্টিখানি কথা নয়। পাক্কা দেড় ঘন্টা বসে রইলাম তাকে খুঁজে বের করার জন্য।

পরে জানা গেলো ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিতি তার এক থাই বান্ধবীর সাথে সটকে পড়ায় তাকে আমরা পাচ্ছিলাম না। (ফেসবুক নিপাত যাক)

তারপর সবাই উঠলাম দোতলা এক বাসে। নীচের বিশাল বক্সে আমাদের লাগেজ ঢুকিয়ে সবাই উঠলাম দোতলায়। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমেছে ব্যাংককে। ব্যাংককের সাথে আমার প্রথম মোলাকাত আলো ঝলোমল রাতে !
(চলবে)

১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×