somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিতীয় ভাবনা-৪

১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব-
Click This Link

যানজট ও ঢাকার ওপর চাপ হ্রাস

যানজট যে হারে বাড়ছে তাতে ঢাকা প্রায় অকার্যকর শহরের কাতারে চলে যাবার দশা হয়েছে। সেটা আরো বাড়ছে ঢাকায় বসবাসের জন্য আসতে থাকা মানুষের অন্তহীন স্রোতের কারণে। তাই যানজট হ্রাসের স্বার্থে ঢাকায় মানুষের আগমন যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনিক রাজধানীর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব কিছুরই কেন্দ্র ঢাকা। এটাই ঢাকার ওপর ক্রমাগত জনচাপ বাড়ার কারণ।

সে জন্য উন্নত আর উন্নয়নশীল অনেক দেশ প্রশাসনিক রাজধানী আগের শহর থেকে সরিয়ে ফেলেছে। সে সাথে বাণিজ্যিক কেন্দ্রও রাজধানী থেকে সরিয়ে ফেলেছে। মালয়েশিয়া তাদের প্রশাসনিক রাজধানী কুয়ালা লামপুর থেকে ২৫ কিমি দূরের পুত্রাজায়ায়, মিয়ানমার তাদের রাজধানী ইয়াংগুন থেকে প্রায় দু'শ কিমি দূরের নেই পি দো নামক জায়গায় সরিয়ে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি রাজধানী ছাড়া আর কোন কারণেই দরকারী মনে হবে না। রাজধানী থেকে বহু দূরের শহর নিউ ইয়র্ক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। চীন রাজধানী বেইজিং থেকে অনেক দূরের শহর সাংহাইকে রাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাই, হায়দরাবাদ, ব্যাঙ্গালুরু প্রভৃতি দূরের শহরে। জার্মানীর বাণিজ্যকেন্দ্র রাজধানী বার্লিন থেকে দূরের ফ্রাঙ্কফুট শহরে।

লেখাপড়ার ব্যাপারেও বেশিরভাগ দেশ রাজধানীর বাইরে শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আমেরিকার বিশ্বখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়ই রাজধানী থেকে বহু দূরের বিভিন্ন শহরে।
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাও একই কাজ করেছে।

চিকিৎসা সেবাও সবাই বিকেন্দ্রীকরণ করেছে। ভারতে আমরা যখন চিকিৎসার জন্য যাই তখন নয়াদিল্লী যাই না, চেন্নাই বা ভেলোরে যাই। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতাল ব্যাংকক থেকে কিছু দূরেই আছে।

আমাদের খবর এখনো আগের মতোই। ষাটের দশকে তখনকার পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইউব খান পাকিস্তানের রাজধানী রাওয়ালপিন্ডি থেকে নতুন গড়ে তোলা শহর ইসলামাবাদে সরিয়ে নেন। এখন যেটা আমাদের শেরে বাংলা নগর সেটার নাম ছিলো আইউব নগর। আসাদ গেটের নাম ছিলো আইউব গেট। এখানেই প্রশাসনিক কেন্দ্র সরিয়ে নেবার কথা ছিলো। সেভাবেই সেখানে সংসদ ভবন, হাসপাতাল আর সচিবালয় সরিয়ে নেবার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই কাজ আজো হলো না। একবার শোনো গেলো সচিবালয় চলে যাবে পূর্বাচলে। এখন সেটাও শুনিনা। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে যাবে বলে অনেকবার শুনেছি। তারও কোন আভাস মিলছে না। হাইকোট পর্যন্ত চেষ্টা করে এখন পর্যন্ত হাজারীবাগের ট্যানারী সরাতে পারেনি। তাই ঢাকার কপালে যা জোটার তা-ই জুটছে।

তবে আশার কিছু আলো ফুটতে শুরু করেছে। সরকারীভাবে পুরনো সব জেলায় বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়ে গেছে। বাকিগুলোও শেষ পর্যায়ে। ফলে ঢাকার বাইরে মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ বাড়তে শুরু করেছে। এখন যদি নামকরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কিছু ক্যাম্পাস ঢাকার বাইরে কিছু বড়ো শহরেও খুলতে শুরু করে তাহলে শিক্ষার কারণে ঢাকার ওপর চাপ কমতে শুরু করবে।

ঢাকার বাইরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর দিকে নজর আরেকটু বাড়ালে চিকিৎসা খাতেও চাপ কিছু কমতে থাকবে। বেসরকারি নামী হাসপাতালগুলো যদি ঢাকার বাইরে শাখা খোলে সেটারও প্রভাব হবে ইতিবাচক। মেডিনোভা বরিশালে তাদের ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের শাখা খুলেছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

ঢাকার বাইরে শিল্পস্থাপন শুরু হয়েছে। ফলে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকামুখি জনস্রোত কিছুটা হলেও কমতে থাকবে।

ঢাকামুখী জনস্রোত যদি কমে তাহলে ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী মানুষও কমতে শুরু করবে। মানুষ কমলে যানবাহন কমবে, যানজট কমবে। এটা একটা চক্র।

যানজট কমানোর জন্য প্রস্তাবিত মেট্রোরেল বড়ো ধরণের ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। এর পাশিাপশি কিছু উদ্যোগ কম খরচে, দ্রুত সুফল দিতে পারবে বলে আমি মনে করি। ঢাকা মহানগরে যতগুলো লেভেল ক্রসিং আছে সেখানে যদি গাড়ির জন্য ছোট ছোট ওভার ব্রিজ করা যায় (বনানীর মতো বিশাল কিছুর দরকার মনে করি না) তাহলে একদিকে রেল চলাচলের কারণে যে সব যানবাহনকে দিনের মধ্যে অনেক বার রেললাইনের কাছে ভীড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সেটার দরকার হবে না। এর কারণে বাড়তি যানজটও সৃষ্টি হবে না। রেলগেটগুলো উঠে গেলে রেলেরও লোকবল কম লাগবে। এর পাশাপাশি জয়দেবপুর, টঙ্গি, নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ এমনকি ময়মনসিংহ বা বি.বাড়ীয়া থেকেও সকাল থেকে শুরু করে সরারাদিন আধঘন্টা পরপর কমিউটার ট্রেন চালু করা যায়, তাহলে অনেক চাকরিজীবী ঢাকার বাইরে পরিবার রেখে বা নিজ বাড়িতে পরিবার রেখে ঢাকায় অফিস, ব্যবসার কাজ সেরে বিকেলে বা রাতে ফিরে যেতে পারবেন। তাতেও ঢাকার ওপর চাপ কমে যাবে। রাস্তায় যানজট সহনীয় মাত্রায় নেমে আসবে। লোকজন দরকারমতো এয়ারপোর্ট, ক্যান্টমমেন্ট, বনানী, তেজগাঁও স্টেশনে নেমে নিজ কাজে যেতে পারবেন। পুরো সময় তাঁদেরকে রাস্তা দখল করে চলতে হবে না।

এ বিকল্পটি নিয়ে কেউ কি ভাববেন ?

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:২৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×