somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হেলায় লঙ্কা করিল জয়

১৯ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংবিধিবদ্ধ স্মরণ- গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে হোয়াইট ওয়াশ (৩-০) হয়েছে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া

খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৩ অব্দে বিজয় সিংহ বাংলাদেশ থেকে সাতশত সৈন্যদল নিয়ে শ্রীলঙ্কা জয় করে সিংহল (সিলোন) নামকরন করেন। নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশের মতো করে বিজয় সিংহ তাঁর বিজিত শ্রীলঙ্কাকে গড়ে তোলেন। সর্বপ্রথম বঙ্গবীর বিজয় সিংহের অমর জীবন কাহিনী নিয়ে নাট্ট সম্রাট দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ‘সিংহল অভিযান’ শীর্ষক নাটক রচনা করেছিলেন এবং তাঁর ভাষায়:

“একদা যাহার বিজয়ী সেনানী

হেলায় লঙ্কা করিল জয় ।

আজও অজন্তা গুহায় বিজয় সিংহের সিংহল (লঙ্কা) অভিযানের সচিত্র উপস্থিতি বিরাজমান। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায়:

“আমাদের ছেলে বিজয় সিংহ লঙ্কা করিয়া জয়,

সিংহল তার নাম হল বাঙালি শৌর্য বীর্যের পরিচয়।”

১৯৮৪ সালে শ্রীলঙ্কার লেখক কলিন ডি সিলভা ৭০১ পৃষ্ঠা জুড়ে ইংরেজীতে ‘দি ফাউন্টস অব সিংহল’ শীর্ষক বঙ্গবীর বিজয় সিংহের জীবনী-নির্ভর উপন্যাস রচনা করেছেন। শ্রীলঙ্কার মূল ভাষা সিংহলিজ বিজয় সিংহের বিজয়চিহ্ণ বহন করছে।

আজ তারই উত্তরসূরিগণ শততম টেস্ট জয় করে নতুন বিজয়গাঁথা রচনা করেছে। ২৬ ডিসেম্বর ২০০৪। নিজেদের শততম ওয়ানডেটা জয় দিয়েই উদ্‌যাপন করেছিল বাংলাদেশ। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কাছে ভারত হেরেছিল ১৫ রানে। সেই বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্টটাকেও রাঙালো জয় দিয়ে। কলম্বো পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শততম টেস্টে জয় পেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের আগে নিজেদের শততম ম্যাচে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। মজার ব্যাপার, বাংলাদেশের মতো এই তিনটি দলও নিজেদের শততম ওয়ানডেতেও জয় পেয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান আগে জিতেছিল শততম টেস্ট, পরে শততম ওয়ানডে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। কারণ সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেললেও বাংলাদেশ টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে কম। অন্যদের দেরি হয়েছে যাতায়াত সমস্যা আর কম টেস্ট ম্যাচের কারণে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়, যেটি এল ১৮শ বারের চেষ্টায়। টেস্টে বাংলাদেশ এর আগে রান তাড়া করে জিতেছে মাত্র দুবার। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে গ্রেনাডায় ২১৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল ৪ উইকেটে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে মিরপুর টেস্টে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১০১ রান তাড়া করে জিতেছিল ৩ উইকেটে। এ জয়ের মাহাত্ম্য নিঃসন্দেহে আগের দুটিকে ছাড়িয়ে গেছে। দু'শ রানের কম টার্গেট তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার মাঠে দু'শর কম রান তাড়া করতে গিয়ে হেরেছে ভারত ও পাকিস্তান। দু শ রানের নিচে লক্ষ্য দিয়ে আগে শ্রীলঙ্কার জেতা দুটি টেস্টেই স্বাগতিকদের জয়ের অন্যতম কুশীলব ছিলেন রঙ্গনা হেরাথ। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে গলে চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানকে ১৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ২ উইকেটে ৭১ রান তুলেও পাকিস্তান ১১৭ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটি ৫০ রানে হেরে গিয়েছিল। সফরকারীরা শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছিল ৪৬ রানে। যার চারটি উইকেটই নিয়ে ছিলেন হেরাথ।

এরপর ২০১৫ সালে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দিয়ে ভারতের বিপক্ষেও জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। গল টেস্টে বিরাট কোহলি, অজিঙ্কা রাহানে, লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মাদের নিয়ে গড়া ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ হেরাথের ঘূর্ণি জাদুতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ৪৮ রানে হেরাথ ৭ উইকেট নিলে ভারত অলআউট ১১২ রানে। শ্রীলঙ্কার জয় ৬৩ রানে।

সেই হেরাথই আজ বাংলাদেশের চতুর্থ ইনিংসের শুরুতে ভীতি ছড়িয়ে ছিলেন। অষ্টম ওভারেই পর পর দুই বলে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত জিতেছে বাংলাদেশই।

প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই মুশফিক বাহিনীকে।

https://en.wikipedia.org/wiki/Prince_Vijaya


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৪৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×