somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জীবনের খাতা
আমি একজন উন্নয়ন কর্মী। জীবনের খসড়া পৃষ্ঠাগুলি থেকে মূল্যবান বিষয়গুলি আলাদা করে পাকা একটি খাতা তৈরী করার আপ্রাণ চেষ্ঠা থাকবে।

লাইলাতুল বারা’আত (ভাগ-৩)

১০ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে, লাইলাতুল বরা’আতের বাংলা অর্থ হচ্ছে বিমুক্তির রজনী। জাগতিক বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় কোন একটি কাজের জন্য পূর্ব প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। পূর্ব প্রস্তুতির মধ্যে একটি বিষয় হলো কাজটি বাস্তবায়নের জন্য লোক নির্বাচন করা। শা’বান মাসটি রমজানের পূর্বে প্রস্তুতির মাস। রমজানে মহান আল্লাহ তা’য়ালা অসংখ্য বান্দাকে রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবেন। যেসকল বান্দা রমজানে রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্ত হবেন শা’বান মাসের মধ্য রজনীতে তিনি তাদের তালিকা তৈরী করতে পারেন। প্রশ্ন হলো, এই তালিকায় কোন কোন বান্দা থাকবেন এবং তাদের বৈশিষ্ট কি? ধরুণ, আপনার নিকট দুইজন ব্যক্তি কিছু টাকা ধার চেয়েছে, দুজনেরই সাতদিন পর ১০০০ টাকা প্রয়োজন। একজন প্রায় ফোন করে টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। আপনার সঙ্গে অন্য কথা হলেও কোন না কোনভাবে ঐ টাকার প্রয়োজন মনে করে দিচ্ছে। আর অপর ব্যক্তি শুধু একবারই চেয়েছে এবং চাওয়ার মধ্যে তেমন আন্তরিকতা ছিল না। পাঠক আপনার কাছে প্রশ্ন, আপনি কোন ব্যক্তিকে ১০০০ টাকা ধার দিবেন? নিশ্চয় আপনার মন তার দিকেই ইঙ্গিত করবে যে তার প্রয়োজন বারবার আপনাকে বলেছে বা বারবার চেয়েছে। এখন আমরা চিন্তা করি আল্লাহর নিকট রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত আমরা কতবার চাই এবং চাওয়ার ধরণইবা কেমন হয়? শা’বান মাসের মধ্য রজনীতে রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তদের যে তালিকা হবে আল্লাহ আমাদেরকে সেখানে ঠাই দিবেন কি না? যদি আমরা নিজেকে ঐ তালিকাভুক্ত মনে করি তাহলে আমার জন্য শা’বান মাসের মধ্য রজনী লাইলাতুল বরা’আত, অর্থাৎ বিমুক্তির রজনী।
এখন আমরা ইবাদতের মাধ্যমে শা’বান মাসের মধ্য রজনীতে তালিকাভুক্তি হওয়ার সম্ভবাবনা নিয়ে আলোচনা করবো। আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম বলেছেন, যখন কোন মুমিন ব্যক্তি দুআ করে, যে দুআতে কোন পাপ থাকে না ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় থাকে না, তাহলে আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোন এক পদ্ধতিতে তার দুআ অবশ্যই কবুল করে নেন। যে দুআ সে করেছে হুবহু সেভাবে তা কবুল করেন অথবা তার দুআর প্রতিদান আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন কিংবা এ দুআর মাধ্যমে তার ওপর আগত কোন বিপদ তিনি দূর করে দেন। এ কথা শুনে সাহাবিগণ বললেন, আমরা তাহলে অধিক পরিমাণে দুআ করতে থাকবো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা যত প্রার্থনাই করবে আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি কবুল করতে পারেন। সে অনুযায়ী আল্লাহ তা’য়ালা কোন দুআ সঙ্গে সঙ্গে কবুল করতে পারেন আবার কোন দুআ কিছু পরে এবং কিছু দুআ একটি নিদৃষ্টি সময়ে কবুল করতে পারেন। যেসকল দুআ কবুল হয়নি যদি আল্লাহ তা’য়ালা শা’বান মাসের মধ্য রজনীতে দুআকারীর দুআর পরিমাণ অনুযায়ী কবুল করার ঘোষণা দেন তাহলে আমাদের দুআর আবস্থা কিরূপ হবে? যদি আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা করেন যে, যে ব্যক্তি গত শা’বান মাসের মধ্য রজনী হতে চলতি শা’বান মাসের মধ্য রজনী পর্যন্ত একই দুআ সর্বনিম্ন ১৭৭০ বার (হিজরী পঞ্জুকা অনুযায়ী ৩৫৪ দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুযায়ী) করেছে সেই দুআগুলো কবুল করা হবে। তাহলে আমাদের মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? এ অনুযায়ী যদি আমরা নিজেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকাভুক্ত মনে না করি তাহলে আগামীর জন্য পরিকল্পনা তৈরী করি এবং সবসময় নিজেদের প্রয়োজনগুলি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করি এবং তারই ইবাদতের মধ্যে মুক্তির অছিলা অনুসন্ধান করি।
এছাড়া তাদের জন্যও শা’বান মাসের মধ্য রজনী লাইলাতুল বরা’আত, অর্থাৎ বিমুক্তির রজনী যারা ঐ রাত্রিতে পূর্বের পাপের জন্য তওবা করে আল্লাহর কাছে মাপ চায় এবং পরবর্তীতে ঐ পাপকাজ না করে। যেমন- কেউ শির্‌ক গুনাহের মধ্যে ছিল যদি ঐ রাত্রিতে সে তওবা করে এবং পরবর্তীতে ঐ পাপে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে তাহলে তার জন্য শা’বান মাসের মধ্য রজনী লাইলাতুল বরা’আত অর্থাৎ বিমুক্তির রজনী। কেউ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েনা কিন্তু ঐ রাত্রিতে সে তওবা করলো এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে তার জন্য ঐ রাত্রি বিমুক্তির রজনী। এভাবে চুরি, ডাকাতি, সুদ, ঘুষসহ যতরকম পাপ রয়েছে কেউ যদি ঐ রাত্রিতে তওবা করে আল্লাহর কাছে মাপ চায় এবং পরবর্তীতে ঐ পাপ না করে তাহলে শা’বান মাসের মধ্য রজনী তার জন্য লাইলাতুল বরা’আত অর্থাৎ বিমুক্তির রজনী। চলবে----------
শবে বরাতঃ (ভাগ-১)
সবে বরাত বা ভাগ্র রজনী (ভাগ-২)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×