somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমতার উত্তাপ আসলে এমনই

০৩ রা এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে সংবাদপত্রগুলো সরকারে বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে তারা সরকারি সহায়তা পাবে না। প্রথম অবস্থায় রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারগুলোতে সরকারের সমালোচনাকারী পত্রিকাগুলো রাখা হবে না। রাজ্যের বহুলপ্রচারিত দৈনিকগুলো যেমন আনন্দবাজার পত্রিকা বা বর্তমানের মতো দৈনিকগুলো রয়েছে সহায়তা না নেয়ার তালিকায়। যে পত্রিকাগুলো এক কথায় সরকারপন্থি তারা পাবে সরকারি সহায়তা। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন সংবাদপত্রগুলো সোচ্চার হলো তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জী বললেন, ‘এখনো তো বলাই হয় নি আগামীতে জনগণ কোন পত্রিকা পড়বেন’। সংবাদপত্রের প্রতি প্রকাশ্য এ ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মহাশ্বেতাদেবীসহ পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরা। মমতা ব্যনার্জী যখন রাজপথে ছিলেন তখন তার পাশে ছিল এই দৈনিক গুলো। তার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা পালন করে। ক্ষমতায় যাওয়ার একবছর না যেতেই তিনি প্রথমে এক হাত নিলেন পত্রিকাগুলোকে। একই সঙ্গে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিলেন।
মমতার এ আস্ফালনের মাঝে গত রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আব্দুস সোবহান বলেন, এখানকার সাংবাদিকরা সবকিছুকে বাড়িয়ে লেখেন। তারা সবসময় তিলকে তাল বানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামে একটি বিভাগ রয়েছে। ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে কী ভাবে জানি না, যখন-তখন কাজে বেকাজে ফোন দিয়ে পরিচয় দেয় স্যার সাংবাদিক বলছি। সাংবাদিকই যেন তাদের বড় পরিচয়।
তিনি বলেন, তারা সবসময় পজিটিভ নিউজ বাদ দিয়ে নেগেটিভ নিউজ করে। ক্যাম্পাসে একটি গাছ কাটলে সাংবাদিকরা লেখেন ‘অবাধে বৃক্ষরোধণ চলছে রাবিতে।’ বিশ্ববিদ্যালয় সঠিকভাবে চালাতে গেলে প্রশাসনকে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। এক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি রাবির রোকেয়া হলে ডাইনিং-এর খাবারে অপ্রত্যাশিতভাবে বিষপ্রক্রিয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু হলের শিক্ষার্থীরা অযথা আন্দোলন করে হলের ভেতরে ভাঙচুর চালায়। তোমাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তোমরা কি তোমাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, ভাঙচুর চালাবে। তা করতে পারো না। কিন্তু ওই ভাঙচুরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে শাস্তিস্বরূপ হল থেকে বের করে দেয়া হলে সাংবাদিকরা বাড়িয়ে লেখেন যে, ‘বিষাক্ত খাবারের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে বের করে দিলো রাবি কর্তৃপক্ষ।’
কী অপূর্ব সাদৃশ্য! মমতা ব্যনার্জীর মতো বর্তমান উপাচার্যর। প্রফেসর আব্দুস সোবহানসহ আট শিক্ষক যখন জেলে যান তখন থেকে মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত মিডিয়া ছিলো সোচ্চার। এখন তিনি বলছেন সংবাদকর্মীরা তিলকে তাল করছেন। প্রশাসন পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি করছে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করেছ। বেশ কয়েকবার সংবাদকর্মীরা মারপিটের শিকার হয়েছেন এ প্রশাসনের আমলে। তবে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক কতৃক যৌন নিপিড়নের ঘটনা একটি ছোট বিষয়। অভিযোগকারী ওই ছাত্রীদের হুমকী দিয়ে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া ছোট বিষয়। যৌন নিপিড়ন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় ভালো দৃষ্টান্ত রাখতে পারতো। এ জাতীয় ঘটনা প্রতিরোধে একটি নীতিমালা রয়েছে। একটি কমিটি রয়েছে। তারা কাজ করতে পারছে না। এ জাতীয় কোনো অভিযোগ উঠলে পুরো প্রশাসন অভিযুক্তের পক্ষ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এমন একটি ঘটনার পর রাজশাহী শহরে ঘটনার প্রতিবাদে একটি মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ সংবাদ যাতে প্রকাশিত না হয় তার জন্য পত্রিকা অফিসে তদবির করা হয়েছে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। বেগম রোকেয়া হলে নি¤œমানের খাবার দেয়ার প্রতিবাদ করে কিছু সংখ্যক ছাত্রী। ছাত্রীরা বিক্ষেভে ফেঁটে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষেভকারীদের ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ক্ষমা না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ভগবতি রানী রায় নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষমা চাইতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সন্ধার সময় তাকে রোকেয়া হল থেকে বের করে দেয়া হয়। সে আশ্রয় নেয় মুন্নুজান হলে তার এক বান্ধবির কাছে। এই ছাত্রীটিকে রাতের খাবার খাওয়ার সময় হল থেকে বের করে দেয়া হয় হল থেকে। রাতে সে একটি ছাত্রী মেসে আশ্রয় নেয়। এ সব ঘটনাকে ছোট ঘটনা বলেছেন মাননীয় উপাচার্য। ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা সব সময় স্তাবক পরিবৃত্ত অবস্থায় থাকেন। যারা বাস্তবঅবস্থা বুঝতে দেন না। এমনো হতে পারে ক্ষমতা মানুষকে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। যেখান থেকে বলতে হয় প্রশাসন চালাতে ছোটখাট এমন অনেক ঘটনা ঘটে। দেশকালের নিরিখে ক্ষমতার উত্তাপ আসলে এমনই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×