সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে সংবাদপত্রগুলো সরকারে বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে তারা সরকারি সহায়তা পাবে না। প্রথম অবস্থায় রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারগুলোতে সরকারের সমালোচনাকারী পত্রিকাগুলো রাখা হবে না। রাজ্যের বহুলপ্রচারিত দৈনিকগুলো যেমন আনন্দবাজার পত্রিকা বা বর্তমানের মতো দৈনিকগুলো রয়েছে সহায়তা না নেয়ার তালিকায়। যে পত্রিকাগুলো এক কথায় সরকারপন্থি তারা পাবে সরকারি সহায়তা। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন সংবাদপত্রগুলো সোচ্চার হলো তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জী বললেন, ‘এখনো তো বলাই হয় নি আগামীতে জনগণ কোন পত্রিকা পড়বেন’। সংবাদপত্রের প্রতি প্রকাশ্য এ ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মহাশ্বেতাদেবীসহ পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরা। মমতা ব্যনার্জী যখন রাজপথে ছিলেন তখন তার পাশে ছিল এই দৈনিক গুলো। তার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা পালন করে। ক্ষমতায় যাওয়ার একবছর না যেতেই তিনি প্রথমে এক হাত নিলেন পত্রিকাগুলোকে। একই সঙ্গে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিলেন।
মমতার এ আস্ফালনের মাঝে গত রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আব্দুস সোবহান বলেন, এখানকার সাংবাদিকরা সবকিছুকে বাড়িয়ে লেখেন। তারা সবসময় তিলকে তাল বানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামে একটি বিভাগ রয়েছে। ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে কী ভাবে জানি না, যখন-তখন কাজে বেকাজে ফোন দিয়ে পরিচয় দেয় স্যার সাংবাদিক বলছি। সাংবাদিকই যেন তাদের বড় পরিচয়।
তিনি বলেন, তারা সবসময় পজিটিভ নিউজ বাদ দিয়ে নেগেটিভ নিউজ করে। ক্যাম্পাসে একটি গাছ কাটলে সাংবাদিকরা লেখেন ‘অবাধে বৃক্ষরোধণ চলছে রাবিতে।’ বিশ্ববিদ্যালয় সঠিকভাবে চালাতে গেলে প্রশাসনকে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। এক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি রাবির রোকেয়া হলে ডাইনিং-এর খাবারে অপ্রত্যাশিতভাবে বিষপ্রক্রিয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু হলের শিক্ষার্থীরা অযথা আন্দোলন করে হলের ভেতরে ভাঙচুর চালায়। তোমাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তোমরা কি তোমাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, ভাঙচুর চালাবে। তা করতে পারো না। কিন্তু ওই ভাঙচুরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে শাস্তিস্বরূপ হল থেকে বের করে দেয়া হলে সাংবাদিকরা বাড়িয়ে লেখেন যে, ‘বিষাক্ত খাবারের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে বের করে দিলো রাবি কর্তৃপক্ষ।’
কী অপূর্ব সাদৃশ্য! মমতা ব্যনার্জীর মতো বর্তমান উপাচার্যর। প্রফেসর আব্দুস সোবহানসহ আট শিক্ষক যখন জেলে যান তখন থেকে মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত মিডিয়া ছিলো সোচ্চার। এখন তিনি বলছেন সংবাদকর্মীরা তিলকে তাল করছেন। প্রশাসন পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি করছে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করেছ। বেশ কয়েকবার সংবাদকর্মীরা মারপিটের শিকার হয়েছেন এ প্রশাসনের আমলে। তবে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক কতৃক যৌন নিপিড়নের ঘটনা একটি ছোট বিষয়। অভিযোগকারী ওই ছাত্রীদের হুমকী দিয়ে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া ছোট বিষয়। যৌন নিপিড়ন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় ভালো দৃষ্টান্ত রাখতে পারতো। এ জাতীয় ঘটনা প্রতিরোধে একটি নীতিমালা রয়েছে। একটি কমিটি রয়েছে। তারা কাজ করতে পারছে না। এ জাতীয় কোনো অভিযোগ উঠলে পুরো প্রশাসন অভিযুক্তের পক্ষ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এমন একটি ঘটনার পর রাজশাহী শহরে ঘটনার প্রতিবাদে একটি মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ সংবাদ যাতে প্রকাশিত না হয় তার জন্য পত্রিকা অফিসে তদবির করা হয়েছে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। বেগম রোকেয়া হলে নি¤œমানের খাবার দেয়ার প্রতিবাদ করে কিছু সংখ্যক ছাত্রী। ছাত্রীরা বিক্ষেভে ফেঁটে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষেভকারীদের ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ক্ষমা না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ভগবতি রানী রায় নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষমা চাইতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সন্ধার সময় তাকে রোকেয়া হল থেকে বের করে দেয়া হয়। সে আশ্রয় নেয় মুন্নুজান হলে তার এক বান্ধবির কাছে। এই ছাত্রীটিকে রাতের খাবার খাওয়ার সময় হল থেকে বের করে দেয়া হয় হল থেকে। রাতে সে একটি ছাত্রী মেসে আশ্রয় নেয়। এ সব ঘটনাকে ছোট ঘটনা বলেছেন মাননীয় উপাচার্য। ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা সব সময় স্তাবক পরিবৃত্ত অবস্থায় থাকেন। যারা বাস্তবঅবস্থা বুঝতে দেন না। এমনো হতে পারে ক্ষমতা মানুষকে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। যেখান থেকে বলতে হয় প্রশাসন চালাতে ছোটখাট এমন অনেক ঘটনা ঘটে। দেশকালের নিরিখে ক্ষমতার উত্তাপ আসলে এমনই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


