নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের প্রথম কমিউনিটি বেতার ‘রেডিও পদ্মা’র সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেতন কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর অনুষ্ঠান পরিক্রমা কমিউনিটি রেডিও’র মৌলিক ধারণার পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, সংবাদ মাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রোববার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এসব দাবি করেন।
সেমিনারটির আয়োজন করে ম্যাস লাইন মিডিয়া সেন্টার, এমএমসি। এতে ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সাংবাদিকতায় বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি মো. মশিহুর রহমান। কমিউনিটি বেতার সম্পর্কে তিনি ওই প্রবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশে কমিউনিটি বেতারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ইস্যুতে এসব বেতারের অনেক ধরনের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরপরই সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই রেডিও পদ্মার কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু করেন।
সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী রাশেদ রিপন বলেন, এটির অনুষ্ঠান দেখে তো মনে হয় না কমিউনিটি রেডিও। এর কাজকর্ম সবই এফএম রেডিও’র মতো। যা কমিউনিটি রেডিও’র ধারনার রীতিমতো পরিপন্থি। এখানে কমিউনিটির তথ্য প্রচারের চেয়ে ব্যবসাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের জায়গা থেকে কী প্রচার করছে সেটিও দেখার বিষয়। স্থানীয় সংবাদপত্র সোনার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি রাশেদ রিপন সেমিনার শেষে সঙবাদকর্মীদের কাছে আরো বলেন, ‘কমিউনিটির কথা না বলে এখানে অধিকাংশ সময় গান বাজানো হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদকর্মীরা এখানে নূন্যতম বেতনও পাচ্ছে না। যারা বেতনের কথা বলছে, তাদেরকে চাকরি ছাড়ার পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। বেতন তো দূরের কথা সংবাদকর্মীদের যাতায়াত ভাড়াও দেয়া হয় না। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়ার নামে বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী ব্যাংক থেকে ফান্ড কালেকশন করা হয়। সে অর্থের ব্যবহার কোথায় কি ভাবে হচ্ছে বা হয়েছে সে বিষয়গুলোও পরিস্কার নয়।
কমিউনিটি রেডিও কিভাবে চলছে, এর আয়ের উৎস কী, বেতন কাঠামো কতো এবং এর অর্গানোগ্রাম কেমন তা জনসম্মুখে উন্মোচন করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


