somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বরেন্দ্রভূমির পুকুর ও খাঁড়ি সংস্কার জরুরি

০৬ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিবলী নোমান, রাজশাহী ব্যুরো
উত্তরের প্লায়স্টোসিন চত্বরভূমি 'বরেন্দ্র' অঞ্চলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ হাজার ৭৭০ বর্গকিলোমিটার। বিস্তৃত এই অঞ্চলটির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য একেবারেই আলাদা। এই অঞ্চলের কৃষি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও কৃষি মরতে বসেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে খরার প্রকোপ বাড়তে থাকায়। ১৪টি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথাই ওঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ খরা সম্মেলনে এসব গবেষণা প্রতিবেদনে বরেন্দ্রভূমির কৃষি বাঁচাতে পুকুর ও খাঁড়ি সংস্কারের তাগিদ দেওয়া হয়। দু'দিনব্যাপী তারা সম্মেলনের আয়োজন করে বরেন্দ্র ক্যাম্পেইন গ্রুপ ও রাবি ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ। সহায়তা করে সিএসআরএল, অক্সফাম ও গ্রো। এদিকে এই ১৪টি গবেষণা প্রতিবেদনের বাইরে উত্তরবঙ্গ খরা সম্মেলনে গৃহীত হয় কাঁকনহাট ঘোষণা। বরেন্দ্রভূমি রক্ষায় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে কাঁকনহাট ঘোষণায় ৭টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো : বরেন্দ্র এলাকার খাস খাঁড়ি ও পুকুর দরিদ্র মানুষের অনুকূলে বন্দোবস্ত প্রদান, অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ করা, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ, বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইন প্রণয়ন করা, আঞ্চলিক সেচ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করেতে জাতীয় সেচ নীতিমালা প্রণয়ন ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ করে খরাপীড়িত এলাকার জন্য পানি ব্যবহার (ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ) নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা।
দু'দিনব্যাপী খরা সম্মেলনে আলোচকরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি থাকতে হবে। বরেন্দ্র এলাকায় বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের অব্যবস্থাপনার কারণে অব্যবহৃতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে। এতে এ এলাকার কৃষি ও জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। রাজশাহী মহানগরীতে অব্যাহতভাবে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পুকুরগুলো ভরাট করা হচ্ছে। উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। এর জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনের সমস্যা রয়ে গেছে।
কাঁকনহাট ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের সাতটি জেলায় বিস্তৃত বরেন্দ্রভূমি। প্রাচীন প্লায়স্টোলেন (১৮ লাখ থেকে ১ লাখ বছর আগ পর্যন্ত) চত্বরভূমির বরেন্দ্র মাটির প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন ধরনের। লালমাটির এ অঞ্চলে পানি কম রিচার্জ হয়। যার কারণে এ এলাকায় যে পরিমাণ পানি ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয় বর্ষায় সে পরিমাণ পানি রিচার্জ হয় না।
এ কারণে এ অঞ্চলে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে ব্যাপকভাবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশের পশ্চিমাঞ্চল যখন তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তখন এ অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় কাজ হারাচ্ছে এলাকার কৃষি শ্রমিকরা। এদের একটা বড় অংশ সমতলের আদিবাসী। অস্বাভাবিক এই আবহাওয়া পরিস্থিতি এ অঞ্চলের কৃষি, জনস্বাস্থ্য, বন ও মৎস্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। দরিদ্র মানুষ ভ্যাপসা গরম ও পানিবাহিত রোগে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। অনাবৃষ্টির ফলে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।
১৯৯২ সালে রাজশাহী, নওগাঁ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বনায়ন, খাল খনন ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি খাতে উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরেন্দ্র এলাকায় কৃষকের চাহিদানুসারে গভীর নলকূপ স্থাপন শুরু করে। ব্যক্তি মালিকানাতেও অনেকে স্থাপন করেন অগভীর নলকূপ। যথেষ্ট পানি উত্তোলনের কারণে ক্রমাগত নিচে নামতে থাকে পানির স্তর। এ এলাকায় কমছে বৃষ্টিপাত। রোপা আমন স্বভাবতই একটি বৃষ্টিনির্ভর ফসল। এই ফসল বাঁচাতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিএমডিএ তাদের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মোট ১২ হাজার ডিপ টিউবওয়েলের মধ্যে ৭৬৭৭টি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য চালু রয়েছে, যার অধিকাংশই বরেন্দ্র অঞ্চল। তদুপরি হাজার হাজর হেক্টর জমিতে রোপা আপন করা সম্ভব হয়নি। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রিচার্জের (ঘাটতি পূরণ) বিষয়টি মাথায় রেখে বর্তমানে ডিএমডিএর গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ রাখার পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের পুকুর, খাল-খাঁড়ি ও জলাশয় খননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ডিএমডিএর বর্ধিত এলাকা হিসেবে পরিচিতি বৃহত্তর দিনাজপুর এলাকায় তারা বর্তমানে ব্যাপকভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে পুরো বরেন্দ্র এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে মিনি গভীর নলকূপ স্থাপন চলছে লাগামহীনভাবে। বরেন্দ্র ক্যাম্পেইন গ্রুপের সংগঠন বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চলকে রক্ষা করতে হলে এখনই সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

Click This Link
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×