somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিদেশ ভ্রমন - ১ - পূর্বকথা

০৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাজার বছর ধরে ভাবছি নিজের ভ্রমন কাহিনীগুলো নিয়ে কিছু লেখব। ধীরে ধীরে স্মৃতিগুলোও ধুসর হয়ে আসছে। কারন সে প্রায় ১৬-১৭ বছর আগেকার কথা। লেখি লেখি করেও আর লেখা হয়নি। তো আজ ভাবলাম - লেখা শুরু করি, দেখি কতদূর যাওয়া যায়। লেখার ও ছবির মান দুটোই নিম্নমানের হবে। ছবির মান খারাপ কারন যে সময়ের কথা বলছি, তখন আমার কাছে কোন উন্নত ক্যামেরা ছিলনা। আর লেখার মান খারাপ, কারন এখনও আমার মাঝে উন্নত মানের লেখনীশক্তি তৈরী হয়নি। লেখনীশক্তি তৈরি হওয়ার অপেক্ষায় আছি।



'৯৬ সালের প্রথমকার কথা। এসএসসি পরীক্ষা সামনে। যতদূর মনে পড়ে, আমাদের ব্যাচেই প্রথম বই বদলে দেয়া হয়। সবাই চিন্তিত। আগের বছরের সাজেশন বলে কিছু আর নাই - আগের বই আর এবারের বইয়ে তো কোন মিল নাই, তো পুরানো সাজেশন দিয়ে হবেটা কি! সবার মাথায় হাত। আমার মাথায় হাতের সাথে সাথে পা! কারন পড়াশোনায় আমি বরাবরই ইসমার্ট। পড়ার কথা শুনলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। এই কাজ, ঐ কাজ - নাই কাজ তো খই ভাজ - কত ব্যস্ততা আমার! পড়ার টেবিলে বসে বসে সারাদিন শুধু ক্রিকেটের দল ঠিক করতাম। কাকে আগে ব্যাটিং-এ নামাবো, কে হবে ওপেনিং বোলার, আরো কত কি! আমি আবার জোর করে দলের ক্যাপ্টেন হইতাম তো তাই :P

পরীক্ষার আগে আগে যা হয় সবসময়, আমার আব্বুর মনে হলো, আমাকে শক্তহাতে "টাইট" দেয়া দরকার। আমার ধারনা এর পেছনে আম্মুর উসকানি আছে। তো আব্বু দেখি খালি আমার পড়াশোনার খবর রাখে, কোচিং কেমন চলছে, কোন স্যার কেমন, আর কোন বই লাগবে কি না - দিনে দুইবার করে এই জেরা শুরু হলো। আমি সামনের এসএসসি পরীক্ষার কথা ভেবে প্রমাদ গুনলাম। তখন তো সবে জেরা করা হচ্ছিল, যদি রেজাল্ট খারাপ হয় তাহলে আমাকে যে রিমান্ডে নেয়া হবে - সেটা বুঝতে আর বাকী থাকল না :|

রিমান্ডের ভয়ে হোক আর নিজের ভবিষ্যৎের কথা ভেবেই কিনা জানি না, আমি পড়াশোনা করতে করতে ঝড় তুলে ফেলি। মনে হচ্ছিল পড়তে পড়তে সব উড়ায়ে ফেলব। রাস্তা দিয়ে কেউ হেটে গেল, ওকেও ধরে এনে পড়াটা ঝালাই করব - বুঝতেই পারছেন অবস্থা। তো এই রকম মারকাট পড়াশোনার মাঝে হঠাৎ জানতে পারলাম - আমার আব্বুর বিদেশ গমনের খবর। আসলে উনার বিদেশে যাবার কথা আরো আগেই। কিন্তু এটা তো বাংলাদেশ, এখানে তো কোথাওই সিরিয়াল মানা হয় না - সবার আগে সুযোগ পায় তারা, যারা কানেক্টেড। আব্বুর যেহেতু তেমন কোন কানেকশন নাই, তাই তাকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। পরে জেনেছি - প্রতি বছরই সিলেক্শন কমিটিতে তার নাম আসছিল, কিন্তু কোন এক অদ্ভূত কারনে তাকে কোনবারই সিলেক্ট করা হচ্ছিল না। আব্বু বয়স ও পদবী দুক্ষেত্রেই জৈষ্ঠ্য হবার পরও তাকে বাদ দেয়া হচ্ছিল। X(

সেবছর কমিটিতে উনার নাম ডাকা হয় এবং তাকে দলে নেয়া হয়, হয়ত তারা ভেবেছিলেন "এই লোক কে অনেক বছর আটকানো হয়েছে, এবার তাকে ছাড়ি"।

যাই হোক উনি বিদেশ যাচ্ছেন ১মাসের মাঝেই। অনেকে হয়ত ভাবছেন উনার এই বিদেশ যাবার খবরে আমি খুশিতে লাফ দিয়ে ছাদে টক্কর খেয়ে মাথা ফুলিয়েছে - কিন্তু না আমি ঠিক খুশি হইনি। মানে আমি আব্বুর জন্য খুশি ছিলাম, কিন্তু কিছুটা ভয়ও কাজ করছিল - কিভাবে আমরা, ছোট ভাই, আম্মাকে নিয়ে চলব।

আব্বু যাচ্ছেন কুয়েত। খুব তাড়াহুড়া করে সব কিছু তৈরি করা হলো, ভিসা, মেডিকেল, তার অনূপস্থিতে ব্যাংকের কাগজপত্র - হাবিজাবি সব কিছু। তারপর তার যাবার দিন চলে এল। এয়্যারপোর্টে গেলাম সবাই। আব্বু সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন, আমার কাছে এসে বুকে জড়িয়ে ধরলেন - কিন্তু কিছু বলেননা। তারপর হুট করে ব্রিফকেসটা হাতে নিয়ে হনহন করে ইমিগ্রেশনের দিকে হাটা দিলেন।

বিমান বাংলাদেশের একটি প্লেন তাকে নিয়ে কুয়েতের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল। উনি চলে যাওয়ার পরপরই মনে হলো, কারো হাত মাথার উপর থেকে সরে গেছে। নিজেকে অনেক একা লাগছিল /:)

তখনও অবশ্য জানিনা কিছুদিনের মধ্যেই আমাকেও প্লেনে চড়ে বসতে হবে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৬
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×