somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কবি নই

১৮ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধন্যবাদ ব্লগার স্বরহীন।

আপনার কবিতা বিষয়ক লেখায় আমার নাম দেখে আমি কিছুটা গর্ব অনুভব করছি। তবে সত্যি বলতে কি আমি কবি নই। আমার নিজস্ব কোন কবিতার বই নেই। কবিতার বই প্রকাশ করার মত কবিতা আমি এখনও লিখতে পারিনি। সর্বসাকুল্যে অজর্ন আমার দুটো লেখা সম্বলিত একটা সংকলিত কবিতার বই। কবি মহলে আমার নাম কখনই উচ্চারিত হয়নি। দৈবক্রমে বা ভবিষ্যতে তেমন কিছু হবার সম্ভাবনা খুব কম। আমার পরিচিত কবিদের মধ্যে আমার লেখা নিয়ে কারও তেমন কোন উৎসাহ বা আশাব্যঞ্জক কিছু দেখিনি। অবশ্য এতে করে আমার লেখা কিন্তু থেমে থাকেনি। আমি লিখে গেছি আমার মত করে। লিখেছি আমার ভাবনার কথা। আমার অভিব্যক্তির কথা। আমার মনের কথা। আমার ভাললাগার কথা। আমার ভালবাসার কথা। খেলেছি শব্দ নিয়ে। মজা করেছি শব্দ নিয়ে। মজা পেয়েছি শব্দের ব্যবহারে বাক্যের শব্দিত ছন্দ অনুধাবনে।

বাঙলা ভাষার রসময়, সাবলীল, সমৃদ্ধশালী এবং অহংকার করার মতো অগাথ শব্দভান্ডার থেকে শব্দ বেছে নিয়ে আমি প্রায়শঃই ছন্দ মেলানোর খেলা খেলি। এটা আমার এক ধরণের নেশা, অবশ্যই পেশা নয়। মনে যখনই খেয়াল চাপে, বা মনের ভাব প্রকাশ করতে ইচ্ছে করে- তখনই এক এক করে শব্দ জুড়ে দেই। নিজেই শব্দ সাজাই, নিজেই ছন্দ খুঁজি। নিজেই পড়ি, আবার ভাল না লাগলে নিজেই মুছে ফেলি। সৃষ্টির উল্লাসে নয়, আত্ম সুখে পরিতৃপ্ত হবার বাসনা নিয়েই এসব করি। আর আমার এই সুখ আর সুথের অনুভূতিটুকু আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করার জন্য লেখাগুলো পোষ্ট আকারে দেই। আমার নিজের স্বীকৃতির জন্য নয়। আরআমার এই লেখার চর্চা করতে পারছি "সামহয়্যারইনব্লগ" এর কারণে। তাই "সামহয়্যারইনব্লগ" কতর্ৃপক্ষকে মন থেকে ধন্যবাদ।

আমি মূলতঃ ছড়া বা ছন্দ নিয়ে খেলতে বেশী স্বাচ্ছন্দবোধ করি। সাহিত্য প্রেমিক, সংস্কৃতিমনা ও সংস্কৃতির সেবক হিসেবে আমি এ যাবৎ অনেক কবি ও কবিতার আসরে গিয়েছি। সেখানে আমার অনেক লেখাই পড়েছি। কিন্তু কেউ আমাকে কখনও কবি বলে সম্মোধন বা পরিচয় করিয়ে দেয়নি। বরং আমার নামের পাশের সরকারী চাকরির পদবীটাই সবখানে উল্লেখ করা হতো। ঘোষণা করা হতো এবার কবিতা বা ছড়া পাঠ করবেন, "জনাব অমুক"। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। কখনও আমাকে কবি বা ছড়াকার হিসেবে ভাবা হয়নি। আর সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট স্বস্তির কারণ ছিল। মনে হতো বেঁচে গেলাম। কবি বা ছড়াকার হিসেবে মানুষের যে বাড়তি চাহিদা থাকে তার হাত থেকে অন্তত অব্যাহতি পেলাম। কবি হিসেবে পাঠক/শ্রোতাদের কবিতা সম্পর্কিত বোধকে আমি একটুকুও অবমাননা করছি না এটাই মনে হতো। আমাকে কবি বা ছড়াকার ভাবলে পাঠক/শ্রোতাদের তীক্ষণ বোধ আমার জন্য অস্বস্তির কারণ হতো। কারণ লেখা খারাপ হলে যাবতীয় দোষ বা গালমন্দ কবি বা ছড়াকারের উপর গড়াতো। আমি যেহেতু স্বীকৃত কবি বা ছড়াকার নই তাই আমার এসবে ঝামেলা নেই।

এক সময় বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার জনাব শহীদ আল ফারুক ছিলেন মূলধারা'র প্রতিষ্ঠাতা। ব্যক্তিজীবনে তিনি প্রকৃত সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। ওনার মিসেস নাহিদ নেয়াজী বেতার ও টিভি'র প্রতিষ্ঠিত কন্ঠশিল্পী। মূলধারা ছিল মূলতঃ সাংস্কৃতিক, বিনোদন, কবি ও কবিতার জন্য এক উন্মুক্ত আসর। ধানমন্ডির 7 নং রোডে ফেরদৌস ওয়াহিদের বাসার নীচের তলায় বসতো এই আসর। প্রায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল আমার সেখানে প্রতিটি কবিতা ও গানের আসরে। আমার মিসেসও সময় পেলে আমার সঙ্গে যেত।

কবি শহীদ আল ফারুকের বদান্যতায় একদিন মূলধারা আশুলিয়া শাখা'র একটা অনুষ্ঠানে যাবার আমন্ত্রণ পেলাম। উপল্য মূলধারা'র আশুলিয়া শাখার নিজস্ব পাঠাগার উদ্বোধন। বিশিষ্ট নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলন সেই পাঠাগারে তার নিজের লেখা 100 বই উপহার দেবেন। সেই অনুষ্ঠানে জনাব ইমদাদুল হক মিলন, কবি শহীদ আল ফারুক এবং ওনার মিসেস, কবি ও কণ্ঠশিল্পী ফয়জুন্নেসা শেফালী, বিশিষ্ট একজন নাটক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব (নাম মনে নেই) এবং আরও কিছু স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সেদিন সেই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে কবি শহীদ আল ফারুক আমাকে কবি "অমুক" বলে সম্মোধন করে মঞ্চে ডেকেছিলেন। এটা আমার কাছে জীবনের একটা বিরাট অর্জন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু আমি জানি মঞ্চে ডেকে বসানোর মত কবি আমি নই। আজও আমি কবি হতে পারিনি। কবে হতে পারবো তাও জানিনা। তবে আপনারা যারা আমার কিছু লেখা পড়ে কবিতা ভেবে বসে আছেন তেমন ধরণের লেখা আমার চলতেই থাকবে। আমি কবি হই বা না হই আমি লিখে যাব আমার মনের কথা।

ছবি ঃ আমার নিজস্ব সংগ্রহ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:২৫
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×