somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময়ের মিছিল

১৫ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অবসর সময়ে আমি গান শুনি। নির্দ্দিষ্ট কোন গান নয়, নির্দ্দিষ্ট কোন শিল্পীর গান নয়। পুরোনো দিনের গান। বাংলা, ইংলিশ, হিন্দী, গজল সবই শুনি। এক এক সময় এক ধরণের গান । তবে দিনের শুরুটা হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত দিয়ে। সকালে অন্য আর কোন গান নয়। ছুটির দিন সকালে একটানা বাজতে থাকে রবীন্দ্র সঙ্গীত। অন্যান্য দিন সকালে গান শোনা হয় শুধুমাত্র অফিস যাবার প্রস্তুতির সময়টুকুতে। এক এক দিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গে। তখন বেশ কিছুটা সময় পাওয়া যায় গান শোনার। সকালে গান শুনলে মনটা প্রফুল্ল থাকে। কাজে মন বসে। অন্যেদর এমন হয় কিনা জানিনা। রাতে যখন কম্পিউটারের সামনে বসি তখন আর রবীন্দ্র সঙ্গীত নয়। বিভিন্ন ধরনের গান তখন বাজতে থাকে। লতা, হেমন্ত, মান্না, মানবেন্দ্র থেকে শুরু করে কারপেন্টারস, এয়ার সাপ্লাই, কেনী রজার্স, রজার হুইটেকার, জন ডেনভার, পল মরিয়্যেৎ, সান্তানা, বব মারলে কোন কিছুই বাদ যায় না। আমি তখন শুধুই শ্রোতা। গান শুনি কিন্তু গাইতে পারিনা, মোটেও না।

সেদিন হঠাৎ মনের ভেতর একটা পুরোনো দিনের গানের সুর গুঞ্জরিত হচ্ছিল। হারিয়ে যাওয়া গানের কিছু কথা। কথাগুলো কেমন যেন আবছা, অস্পষ্ট। মাঝে মধ্যেই গানটা মনের ভেতর কিঞ্চিত বিষন্নতার আলো ফেলে। তখন স্মৃতির পাতা হাতরাতে থাকি। গানের পংক্তিগুলো সবার অলক্ষে আমার সাথে কথা বলতে চায়। কিন্তু লিখতে বসলেই কথাগুলো কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। মনের আবছায়া আলো আঁধারে খুঁজতে থাকি প্রিয় লাইনগুলো। কিন্তু কিছুতেই সেই মুছে যাওয়া গানের অবয়বটা ফুটিয়ে তুলতে পারিনা। এভাবেই মনের ছায়ালোকে অনেক গান-কবিতা মিলিয়ে গেছে। কিছু কিছু গান ও কবিতার লাইন মনে এলেও ঠিকমত ধরা দেয় না। অপমৃত্যু ঘটে স্মৃতির পাতায় জেগে ওঠা সেই সব গান ও কবিতার লাইন। এভাবেই অনেক মুহূর্ত্ত পাড় হয়ে যায় জীবনের ধারাপাত থেকে। খসে পরা তারার মত তাদেরকে আর ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করিনা মনের আকাশে। এই মুহূর্ত্তে মান্না দে-র একটা গানের প্রথম কয়েকটা কলি মনে পড়ছে । ৭৮/৭৯-র দিকে রাতদিন শুনতাম এই গানটা।

যে কদিন আকাশ জুড়ে দল বেঁধে যায় হাঁস,
যে কদিন শিমুল তলায় বেড়ায় ফাগুন মাস;
সে কদিন দূর কে কাছে চেয়ো,
যা খুশী তাই নিয়ে গান গেয়ো।

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনের এক একটা মুহূর্ত্ত এক একটা মিছিল। আমি হলাম সেই মিছিলের নির্ধারিত পথ। আমি মুহূর্ত্তগুলোকে যাত্রী হতে দেই, চুপ থাকতে দেই, চেঁচাতে দেই, নিশান ওড়াতে দেই, ঘাস বিছিয়ে দেই, শহীদের কবরে ফুল ছড়াতে দেই। এইসব মুহূর্ত্তগুলো আমাকে তিলে তিলে গড়ে তোলে একান্ত নিভৃতে, আড়ালে । আসলে আমরা সবাই অসংখ্য সব মুহূর্ত্তের এক একটা সমন্বিত রূপ। নিত্যদিন হাজারো চাওয়া-পাওয়া, আশা-ভরষা, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সম্মিলিত সেই মিছিলকে আমরা প্রতিনিয়ত চলার পথ করে দেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ২:১৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×