হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধ ভেসে এলো। কামিনি ফুলের গন্ধ। ফুলের গাছটা উঠোনের এক কোণায় অলস ভঙ্গিতে দাঁড়ানো। গাছটা জুড়ে একরাশ কালচে সবুঝ পাতা আর সেই পাতার কোল জুড়ে শ্বেতবিন্দুর মত ফুটে আছে অসংখ্য ফুল। ঘর থেকে উঠোনের দিকে পা বাড়ালেই গাছটা চোখ পড়ে। ফুলের গন্ধটা আর তীব্রতর হয়। শহুরে সন্ধ্যাটাকে আরো বেশী আবেগঘন মনে হয়। উঠোনে হাঁটতে ইচ্ছে করে। যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা হলেও প্রকৃতির নিঃসৃত ভাললাগায় মনটা ভরে যায়। অথচ এর কোন কিছুই আমার নয়। শুধু ভাললাগাটুকু আমার। কারণ এই ঘর, এই বাড়ি, এই উঠোন, এই গাছ- কোন কিছুই আমার নিজের নয়। এটা আমার সাময়িক আশ্রয়। আমি এখানে কিছুকালের বাসিন্দা মাত্র।
আমরা যারা শহরে থাকি তাদের পক্ষে সচারাচর এমন প্রশস্থ উঠোনের মুখ দেখার তেমন সৌভাগ্য হয়না। ঢাকা শহরে জমির দাম সোনার চাইতেও বেশী। তাই খোলামেলা উঠোনের জন্য জমি ছাড়ার ব্যাপারে ততটা দরাজ কেউ নয়। ঢাকায় যে কেউ বাড়ি করার ক্ষেত্রে জমি ছাড়ার প্রশ্নে সবাই ভীষণ রকমের কৃপণ এবং নাছোরবান্দা। শুধুমাত্র বিত্তশালীদের বেলায় এই প্রবনতা কিছুটা হলেও কম। বিশেষ করে যারা আয়েশী বা খোলামেলা পরিবেশে জীবন যাপনে অভ্যস্ত তাদের বাড়ীর সামনে চোখে পড়ার মতো এমন খোলা জায়গা থাকে। সেইসব বিত্তশালী বা গৃহস্বামীরা তাদের এই খোলা জায়গাকে কখনই উঠোন বলেন না। তাঁরা এই জায়গাকে আদর করে বলেন
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




