আমি, তন্বী ও একটি বিকেল - শেষ পর্ব
(পূর্বে প্রকাশিত)
মেয়েটির নাম তন্বী। ছোট্ট, সুন্দর একটা নাম। জন্ম ২রা জুন। মিথুন রাশির জাতিকা। বিবিএ পড়ছে ধানমন্ডির স্ট্যাম্পফোর্ড কলেজে। দেশের বাড়ী ময়মনসিংহ। স্কুল ও কলেজরে পড়া শেষ করেছে ময়মনসিংহ থেকে। এখন ঢাকায় বোনের বাসায় থেকে পড়ালেখা করছে। ওরা দুই বোন। বড় বোন নয় বছরের বড়। বাসা উত্তরায়। বোন এবং বোনের স্বামী দুজনেই চাকুরীজীবি। একটা মাত্র কন্যা সন্তান। বয়স তিন মাস। জন্ম ৫ই এপ্রিল। বাবা রিলিফ মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকতা। মা গৃহবধু। এভাবেই ওর সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হয়ে গেল।
রাস্তায় যেতে যেতে ব্যাগ থেকে কলা বের করে দুজনে খেলাম। চললো নানা বিষয়ে কথাবার্তা। পরিবার পরিজন ও তার জীবনের নানা কথা। ল্ক্ষ্য ও পেশা নিয়ে কথা। ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। ভাল লাগা মন্দ লাগা কিছু কথা। জানতে চাইলো তার নিজের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা। তন্বী অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ওর হাত দেখালো। জানলো সংখ্যাতত্ত¡ নিয়ে নানা কথা। বললো অতীত জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু স্মৃতির কথা। একসময় নিজের হাতটা দেখাতে ভুললো না। হাত দেখলাম। কিছু কথা বললাম। এও বললাম এক সময় হাত দেখার খুব নেশা ছিল। এখন আর তেমন উৎসাহ পাই না। তবুও কেউ হাত দেখাতে চাইলে না করতে পারিনা। আসলে এগুলো বিশ্বাস করা ঠিক না। নিজের উপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে।
আমরা ক্যান্টনমেন্ট দিয়ে ইব্রাহিমপুর পৌঁছানোর পর শুনলাম সামনে রাস্তা বন্ধ। অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য বসে থাকতে হবে। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম কী করা যায়? ড্রাইভার একটা বিকল্প পথের সন্ধান দিল। মীরপুর বেড়ী বাঁধ হয়ে আশুলিয়া টঙ্গি ঘুরে উত্তরা হয়ে বনানী। মিটারে বিল বাড়ানোর জন্য কিনা সেটা না ভেবেই ড্রাইভারের কথায় রাজি হয়ে গেলাম। কারণ যে করেই হোক বাসায় যাওয়া দরকার। তন্বী যেহেতু উত্তরায় থাকে ওকে নামিয়ে দিয়ে যাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে তন্বীর বাসা থেকে কয়েকবার কল এসেছে। আমিও বাসায় জানিয়ে দিয়েছি আমার ফিরতে দেরী হবে।
ইব্রাহিমপুর থেকে গাড়ী ঘুরিয়ে মীরপুর ১০ নং গোল চক্কর হয়ে সোজা মাজার রোড দিয়ে বেড়ী বাঁধ। সূর্য তখন অস্তগামী। বেড়ী বাঁধের উপর ফাঁকা রাস্তায় গাড়ী সাঁ সাঁ করে ছুটছে। তুরাগ নদীর দিগন্তজুড়ে সূর্যের রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ছিল চারিদিকে। তন্বীর মুখেও সেই আভা। মুখের বিন্দু বিন্দু ঘামের সাথে মিলে মিশে অন্যরকম এক দ্যুতি। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম তার সেই সৌন্দর্য্য। লাবন্য আর লালিত্যে ভরা অন্যরকম এক প্রভা। চারিদিকে তখন আলো ডুবু ডুবু সন্ধ্যার হাতছানি।
আমি বিমুগ্ধচিত্তে তন্বীকে দেখছিলাম। তার ভেতরের সহজ সরল মানুষটাকে দেখছিলাম। তন্বী একজন মানুষের প্রতি তার অসীম শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে একটুকু কার্পণ্য করেনি। আমাকে তার সেল নাম্বারটা দিয়ে বললো, আপনি যদিও চাননি তবুও আমার নাম্বারটা আপনি রেখে দিন। অবশ্যই ফোন করে একদিন আপনার বাসায় আসবো। আমি আমার কার্ডটা তন্বীকে দিয়ে বললাম, ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম।
তন্বীকে আমি রাজলক্ষ্মী প্লাজার সামনে নামিয়ে দিলাম। ওর দুলাভাই এসেছিল ওকে নিতে। ঘড়িতে তখন সাতটা পনেরো। তন্বী তার বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছিল। আমি সবিনয়ে প্রত্যাখান করে সোজা বাসার উদ্দ্যেশে রওনা দিলাম। বাসায় যখন পৌঁছুলাম রাত তখন ৮ টা। ট্যাক্সি ক্যাবের মিটারে তখন সুখকর কিছু সময়ের নামমাত্র বিনিময় মূল্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


