somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি, যে গানগুলো প্রায়ই শোনা হয়।

যখন মন প্রচন্ড খারাপ হয়, মনে হয় দুনিয়ায় কেউ নেই আমার তখন কারও আপন হইতে পারলি না অন্তর, আমার শূন্য ভিটায় কেউ বাঁধল না ঘর গানটা শুনি। এর পর আসে আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল সকলই ফুরিয়ে যায়, মা। আরেকটা আছে এই সংসারে কেউ নয় আপন জনা

ছেলে বুলবুল মারা যাওয়ার পর শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় লিখেছিলেন নজরুল; গানটা বুক বিদীর্ণ করে দেয়। বাবা মারা যাওয়ার পর গানটির প্রাসঙ্গিকতা অনুভব করি। মাকে নিয়ে সাদী মহম্মদের মধুর আমার মায়ের হাসি অগ্রগণ্য।

শ্যামা সঙ্গীত ভেবে দেখ মন কেউ কারও নয় মনকে ব্যথিত করতে একাই একশো। বারী সিদ্দিকীর কণ্ঠে উকিল মুন্সীর আমার গায়ে যত দুঃখ সয় বন্ধুয়ারে করো তোমার মনে যাহা লয়শোয়া চাঁন পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি? গান দুটো শুনে চোখ মোছেননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।

রবীন্দ্র সঙ্গীত-
ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কি বা মৃদু বায়
ও যে মানে না মানা, আঁখি ফিরাইলে বলে না, না, না।
যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে কেউ তা জানে না
মেঘ বলেছে যাব যাব
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা তুমি আমার সাধের সাধনা
ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাই না
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে
আনন্দধারা বহিছে ভুবনে
চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
সেদিন দু’জনে দুলেছিনু বনে
আমার পরাণ যাহা চায় তুমি তাই, তুমি তাই গো
তোমায় গান শোনাব
যখন এসেছিলে অন্ধকারে চাঁদ ওঠেনি সিন্ধুপারে
তুমি কোন কাননের ফুল
একটুকু ছোঁয়া লাগে একটুকু কথা শুনি
তুই ফেলে এসেছিস কারে মন মনরে আমার
আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায়
আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে

নজরুলগীতি-
আমার যাবার সময় হলো দাও বিদায়
আমারে দেব না ভুলিতে
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সে কি মোর অপরাধ
আমায় নহে গো ভালোবাসো
শাওন রাতে যদি
মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম
বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিস নে আজই দোল
জনম জনম তব তরে কাঁদিব
মসজিদের পাশে আমায় কবর দিও ভাই
খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশুর আনমনে
আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ
তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন
আমার শ্যামা মায়ের কোলে চড়ে
শ্যামা মা কি আমার কালো
হে গোবিন্দ রাখো চরণে
সখি, সে হরি কেমন বল
তোমায় কী দিয়ে পূজিব ভগবান
ব্রজগোপী খেলে হরি
মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর, নমো নম
হারিয়ে গেছে ব্রজের কানাই তারাবতীর দেশে
তুমি যখন এসেছিলে তখন আমার ঘুম ভাঙেনি

লালনগীতি-
খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়?
বাড়ির কাছে আরশি নগর
আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময়
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে
সেই কালা চাঁদ নদে এসেছে
যেখানে সাঁইর বারামখানা
চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে
তুমি ধরো চরণ ছেড়ো না
কবে সাধুর চরণধূলি লাগিবে মোর গায়
রবে না এ ধন জীবন ও যৌবন তবে কেন মন এত বাসনা
মিলন হবে কতদিনে

হাসন রাজার গান-
মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে
লোকে বলে বলে রে ঘর বাড়ি ভালা নাই আমার
হাসন রাজায় কয় আমি কিছু নয় রে আমি কিছু নয়
সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল
নেশা লাগিল রে

রাধারমনের গান-
ভ্রমর কইও গিয়া শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের অনলে অঙ্গ যায় জ্বলিয়া
আমারে আসিবার কথা কইয়া মান করে রাই রইয়াছ ঘুমাইয়া
কারে দেখাব মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
আমার বন্ধু দয়াময় তোমারে দেখিবার মনে লয়

শাহ্ আবদুল করিমের গান-
মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়
সোনা বন্ধু ভুইল না আমারে
কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি
তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো

দেশাত্মবোধক গান-
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
ও আমার দেশের মাটি তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা
গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির পথ
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা
প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যরাগে
এই পদ্মা এই মেঘনা

আরও কিছু গান-
কতদিন দেখিনি তোমায় তবু মনে পড়ে তব মুখখানি
আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা ভাঙা বেড়ার ফাঁকে
এনেছি আমার শত জনমের প্রেম
কতকাল দেখিনি তোমায় একবার তোমায় দেখি
পাখি রে তুই খাঁচা ভেঙে আমার কাছে আয়
চাঁদনি পসরে কে আমায় স্মরণ করে
কত কাঁদলাম কত সাধলাম তুমি আইলা না
ভালোবাসি বলে বন্ধু আমায় কাঁদালে
ও কারিগর দয়ার সাগর
ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইব না আর বেশিদিন তোদের মাজারে
চিঠি এলো জেলখানাতে অনেক দিনের পর
ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো
একটা হাওয়ার গাড়ি
মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদুধন
জীবন রে জীবন ছাড়িয়া না যাস মোরে
আমার মন মজাইয়া রে দিল মজাইয়া
ধর্মতলার পথটা গুরু দাও না আমায় বলে
বন্ধু মনাই সওদাগর
হরি দিন তো গেল সন্ধা হলো পার করো আমারে
জন্মিলে মরিতে হবে এই তো নিয়ম খোদার দুনিয়ায়
মনে প্রেমের বাত্তি জ্বলে বাত্তির নিচে অন্ধকার
তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম
দয়াময়, মাফি মাঙি তোমার দরবারে
আমার সারা দেহ খেও গো মাটি
পরানবন্ধু রে আমি তোমার নাম লইয়া কান্দি
মা তুমি আমার আগে যেও না গো মরে
কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো
আধোরাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়
হেলায় হেলায় কার্য নষ্ট রে
ডাকে পাখি খোলো আঁখি
তোমার ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও
লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে
আমার একটা নদী ছিল
সখি চলো না জলসাঘরে এবার যাই
আইজ পাশা খেলব রে শ্যাম
পথের ক্লান্তি ভুলে
কে জানে কত দূরে সুখের ঠিকানা
ওরে নীল দরিয়া
আমি ঘুমাইয়া ছিলাম, ছিলাম ভালা জেগে দেখি বেলা নাই
দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল
আমার নয়নে লাইগাছে যারে গো সখি
যাও পাখি বলো তারে
আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল
সোহাগ চান বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি
বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে
জলে ভাসা পদ্ম আমি
কোন সাধনে পাব তোমারে
কঠিন হাশরের দিনে
শোনো মুমিন মুসলমান করি আমি নিবেদন
হায়রে মানুষ রঙিন ফানুশ
আছেন আমার মোক্তার
চক্ষের নজর এমনি কইরা একদিন ক্ষইয়া যাবে
মনমাঝি খবরদার
এখনো সে বৃন্দাবনে বাঁশি বাজে রে
কাইন্দো না কাইন্দো না গো রাই
রাই জাগো গো
বৃন্দাবনে শ্যাম আসে না
এখনও সে রাধা রাণী বাঁশির সুরে পাগলীনি
আমার সোনার ময়না পাখি কোন দেশেতে গেলা উইড়া রে
তোমরা আমারে নাইওর নিতে আইব
দেখেছি রূপসাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা
যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়
আমার শ্যাম যদি হইত মাথার কেশ
আমি কেমন করে পত্র লিখি রে বন্ধু
তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:২৭
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনফিং - দরিদ্রদের একজন ত্রানকর্তা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৭

.



শি জিনফিংয়ের নেতৃত্বে চীন ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তাদের দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×