somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি বানর

১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি বানর। এখনও বিরল প্রজাতি বলে বিবেচিত হইনি। তবে আমার জ্ঞাতি গোষ্ঠির অনেকেই ইতিমধ্যে বিরল প্রজাতি, বিপন্ন প্রজাতি এবং বিলু্প্তপ্রায় প্রজাতির অন্তভর্ূক্ত হয়ে গ্যাছে। আমার ভাগ্য ভাল তাই এখনও আপনাদের ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তেই বানর হিসেবে টিকে আছি। জাতিগতভাবে আমার বৈশিষ্ট্য আপনাদের চাইতে কোন অংশে কম সমৃদ্ধ নয়। আপনারাই একসময় ভেবেছিলেন বানরজাতি আপনাদের পূর্বপুরুষ। তাই কিছুটা হলেও বাড়তি সম্মান আমার প্রাপ্র্য। কিন্তু আপনাদের এহেন আচরণে আমি রীতিমত বিষ্মিত, হতাশ এবং ভীষণভাবে মনক্ষুন্ন। লজ্জাও পাচ্ছি এই কারণে যে আপনারা হয়তো না জেনেই আমাকে নতুন করে নিজেদের কাতারে সামিল করছেন। কারণ নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আপনারা জীবকুলের শ্রেষ্ঠ জাতি। মানুষ হিসেবে আপনারা শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। স্বয়ং বিধাতাই আপনাদের এই গৌরব দিয়েছেন। আমি বানর, নেহায়েত বেয়াদব আর অস্থিরপ্রকৃতির একটা প্রাণী। দয়াকরে কেউ আমাকে মাথায় তুলবেন না। নাহ্ বানর পরিচিতি নিয়ে আমার কোন দুঃখবোধ বা মাথা ব্যথা নেই। আমার একটাই দুঃখ যে আাদিকাল থেকে এখন পর্যন্ত আপনাদের মধ্যে তিল পরিমাণ শান্তি, শৃঙ্খলা ও সৌজন্যবোধ গড়ে উঠলো না। সেই বৈরীভাব, শত্রুতা আগেও যেমন ছিল, এখনও ঠিক তেমনি আছে। আর থাকবে বলেই আমার ধারণা।

একবার ভেবে দেখুন আপনাদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সমপ্রদায় নির্বিশেষে হাজারো বিভেদ-বিচ্ছেদ, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, যুদ্ধবিগ্রহ, মারপিট, অনাচার-অবিচার আরও কত কোন্দল লেগেই আছে। সবকিছুই টিকিয়ে রেখেছেন শুধু নিজেদের হীন মতলব, ক্ষমতার লিপ্সা, রাজনৈতিক ও ধমর্ীয় প্রতিপত্তি আর প্রভাব বজায় রাখার জন্য। আমার হাতে ব্যাট ধরিয়ে দিয়েছেন নিজেদের কুকর্ম, কুচিন্তা আর মারকুটে ভাবমূর্তি অন্যের ঘাড় দিয়ে চালিয়ে দেবার জন্য।

ছিঃ আর কত নীচে নামবেন আপনারা। ভাগ্যিস আমি কথা বলতে পারিনা, আপনাদের মত লিখতে পারিনা, প্রকাশ করতে পারিনা। নইলে আপনাদের কুকীর্তিগুলো আমার চোখ দিয়ে দেখলে লজ্জায় অপমানে আপনারা মিশে যেতেন মাটির সাথে। অবশ্য মাটির সাথে আপনারা এমনিতেই মিশে যাবেন তা ধমর্ীয় কারণে হোক বা সামাজিক কারণে হোক। আর লজ্জা! এটা আপনাদের আছে বলে তো মনে হয়না। অথচ আপনারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করেন। শুধু বস্ত্রধারণ করে কি আর লজ্জা নিবারণ করা যায়? দেহের লজ্জা বস্ত্রের আবরণ নিবারণ করলেও আত্মার লজ্জা ঢাকবেন কোন আবরণে ? সেই আদিম যুগে গাছের ছাল চামড়া দিয়ে আপনাদের লজ্জা ঢাকতে দেখেছি। আমি ভাবতাম ঐ বুঝি আপনাদের সভ্যতা। সভ্যতা কাকে বলে জানছিলাম। কিন্তু হাজার দেখেও সেই সভ্যতা অর্জন করতে পারিনি। সৃষ্টিকতর্া আমাকে সেই ক্ষমতা দেননি। সৃষ্টিকতর্া না দিলেও আপনারা কিন্তু আমাকে সভ্য বানিয়েছেন। আমাকে কাপড় পরিয়েছেন, হাতে ব্যট ধরিয়ে দিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে। মেকি সভ্যতার কাল্পনিক খোলসে আমার বানবিক (মানবিক-এর প্রতি শব্দ) গুনাবলীর অমানবিক উপস্থাপনের জন্য। আজ মনে হচ্ছে আদিম যুগে আপনাদের যতটুকু মান সম্ভ্রম ছিল, আজ অনেক দামী কাপড়চোপড় পরেও প্রকৃত অর্থে অতটা সভ্য আপনারা নন। অথচ মুখে সভ্যতার বুলি কপচান যখন তখন। ধর্ম গেল, ইজ্জত গেল বলে চেচামেচি করেন। মানুষ হিসেবে কি অজর্ন করেছেন সেটা ভাবেন না। মানুষ হিসেবে সমাজকে আর দশজনকে কি দেয়া উচিৎ সেটা ভাবেন না। সমাজ দর্শনের চেয়ে ব্যক্তি চর্চা পরনিন্দা আপনাদের মুখ্য বিষয়। আমি দুঃখিত আপনাদের বিষয়ে নাক গলানোর জন্য। নাক মোটেও গলাতাম না যদি আপনারা আমাকে এখানে না টানতেন।

আজ সত্যি মনে হচ্ছে আমার হাতে যদি সত্যি সত্যি ঐ ব্যাটটা থাকতো তবে বলতাম ব্যাট বানাতে শিখেছো যখন তবে তার প্রকৃত ব্যবহারটাও শিখে নাও। সভ্য জাতি হিসেবে গর্ব করার আগে নিজেদের অসভ্য আচরণগুলো সংশোধন করে নাও। পশু তোমাদের ভাষা বোঝেনা কিন্তু আচরণ বোঝে। তোমরা সংযত হও। তোমাদের উষ্ণ আচরণ যেন আমাকে মানুষ বানিয়ে না দেয়। পান্তরে আমার বা আমার গোষ্ঠির আচরণ তোমাদেরকে পশু হতে না শেখায়। আমাকে বানর থাকতে দাও। আমাকে গর্ব করতে দাও আমি তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলাম। আমাকে আর লজ্জা দিওনা। আমার নাম ধরে নিজেদের ডেকে কেন নিজেদের এমন ছোট করছো। তোমরা মানুষ। সৃস্টির সেরা জীব। আমাকে আমার মতো বানর হয়েই থাকতে দাও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×