একবার ভেবে দেখুন আপনাদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সমপ্রদায় নির্বিশেষে হাজারো বিভেদ-বিচ্ছেদ, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, যুদ্ধবিগ্রহ, মারপিট, অনাচার-অবিচার আরও কত কোন্দল লেগেই আছে। সবকিছুই টিকিয়ে রেখেছেন শুধু নিজেদের হীন মতলব, ক্ষমতার লিপ্সা, রাজনৈতিক ও ধমর্ীয় প্রতিপত্তি আর প্রভাব বজায় রাখার জন্য। আমার হাতে ব্যাট ধরিয়ে দিয়েছেন নিজেদের কুকর্ম, কুচিন্তা আর মারকুটে ভাবমূর্তি অন্যের ঘাড় দিয়ে চালিয়ে দেবার জন্য।
ছিঃ আর কত নীচে নামবেন আপনারা। ভাগ্যিস আমি কথা বলতে পারিনা, আপনাদের মত লিখতে পারিনা, প্রকাশ করতে পারিনা। নইলে আপনাদের কুকীর্তিগুলো আমার চোখ দিয়ে দেখলে লজ্জায় অপমানে আপনারা মিশে যেতেন মাটির সাথে। অবশ্য মাটির সাথে আপনারা এমনিতেই মিশে যাবেন তা ধমর্ীয় কারণে হোক বা সামাজিক কারণে হোক। আর লজ্জা! এটা আপনাদের আছে বলে তো মনে হয়না। অথচ আপনারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করেন। শুধু বস্ত্রধারণ করে কি আর লজ্জা নিবারণ করা যায়? দেহের লজ্জা বস্ত্রের আবরণ নিবারণ করলেও আত্মার লজ্জা ঢাকবেন কোন আবরণে ? সেই আদিম যুগে গাছের ছাল চামড়া দিয়ে আপনাদের লজ্জা ঢাকতে দেখেছি। আমি ভাবতাম ঐ বুঝি আপনাদের সভ্যতা। সভ্যতা কাকে বলে জানছিলাম। কিন্তু হাজার দেখেও সেই সভ্যতা অর্জন করতে পারিনি। সৃষ্টিকতর্া আমাকে সেই ক্ষমতা দেননি। সৃষ্টিকতর্া না দিলেও আপনারা কিন্তু আমাকে সভ্য বানিয়েছেন। আমাকে কাপড় পরিয়েছেন, হাতে ব্যট ধরিয়ে দিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে। মেকি সভ্যতার কাল্পনিক খোলসে আমার বানবিক (মানবিক-এর প্রতি শব্দ) গুনাবলীর অমানবিক উপস্থাপনের জন্য। আজ মনে হচ্ছে আদিম যুগে আপনাদের যতটুকু মান সম্ভ্রম ছিল, আজ অনেক দামী কাপড়চোপড় পরেও প্রকৃত অর্থে অতটা সভ্য আপনারা নন। অথচ মুখে সভ্যতার বুলি কপচান যখন তখন। ধর্ম গেল, ইজ্জত গেল বলে চেচামেচি করেন। মানুষ হিসেবে কি অজর্ন করেছেন সেটা ভাবেন না। মানুষ হিসেবে সমাজকে আর দশজনকে কি দেয়া উচিৎ সেটা ভাবেন না। সমাজ দর্শনের চেয়ে ব্যক্তি চর্চা পরনিন্দা আপনাদের মুখ্য বিষয়। আমি দুঃখিত আপনাদের বিষয়ে নাক গলানোর জন্য। নাক মোটেও গলাতাম না যদি আপনারা আমাকে এখানে না টানতেন।
আজ সত্যি মনে হচ্ছে আমার হাতে যদি সত্যি সত্যি ঐ ব্যাটটা থাকতো তবে বলতাম ব্যাট বানাতে শিখেছো যখন তবে তার প্রকৃত ব্যবহারটাও শিখে নাও। সভ্য জাতি হিসেবে গর্ব করার আগে নিজেদের অসভ্য আচরণগুলো সংশোধন করে নাও। পশু তোমাদের ভাষা বোঝেনা কিন্তু আচরণ বোঝে। তোমরা সংযত হও। তোমাদের উষ্ণ আচরণ যেন আমাকে মানুষ বানিয়ে না দেয়। পান্তরে আমার বা আমার গোষ্ঠির আচরণ তোমাদেরকে পশু হতে না শেখায়। আমাকে বানর থাকতে দাও। আমাকে গর্ব করতে দাও আমি তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলাম। আমাকে আর লজ্জা দিওনা। আমার নাম ধরে নিজেদের ডেকে কেন নিজেদের এমন ছোট করছো। তোমরা মানুষ। সৃস্টির সেরা জীব। আমাকে আমার মতো বানর হয়েই থাকতে দাও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



