হায় শীতলা দেবী ! এতো ভালবাসা জমা করে রেখেছিল তুমি আমার জন্যে। সাড়া জীবনের মতো বসন্তের গভীর চিহ্ন এঁেক দিলে আমার শরীরকুঞ্জে। কোন বসন্তেই এমন অসুন্দর ফুলতো ফোটেনি কোন কাননে। যে ফুল ফোটালে তার সৌরভ নিতে কোন অলি আসেনা ভুল করেও কাছে। ভ্যান ভ্যান করে শুধু বিরক্তিকর কিছু মাছি। ছিঁড়ে কুড়ে খেতে চায় নরম দেহটাকে। মশারী লজ্জা পায় কেননা মশা নয় মাছির উপদ্রবে তাকে টানানো হয়েছে এই কারণে। কবিরাজ, বদ্যি, হোমিওপ্যাথি, এ্যালোপ্যাথি আরও কত ডাক্তারের পদচারণা। সবাই ব্যস্ত একটা জীবন বাঁচানোর তাগিদে- অস্পৃশ্য বসন্তকে যেভাবেই হোক তাড়াতে হবে।
সাড়া গায়ে বসন্তের ছোপ। চোখের পাপড়িও বাদ যায়নি। মনে হলো এযাত্রা বেঁচেই গেলাম। কদিন বাদে জীবন বাঁচে কিন্তু চোখ যায় যায় অবস্থা। অন্ধ হয়ে বেঁচে থাকা যে কি কষ্টের তা যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তারাই ভাল জানেন। আমি অন্ধ নই কিন্তু ভাবতে কষ্ট লাগে তাদের জন্য যারা অন্ধের জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন। আমার এক বুড়ি মা (নানীর এক নিঃসন্তান খালা যার কাছেই আমার শৈশব কেটেছে) আমাকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশী ভালবাসতেন। তিনি কিছুতেই আমার অন্ধত্ব সইতে পারবেন না । আমি যেন অন্ধ না হই এবং সৃষ্টিকতর্ার সকল সৃষ্টির সৌন্দর্য যেন অবলোকন করতে পারি তিনি এই দোয়া করলেন খোদার কাছে।
বুড়ি মা মানদ করলেন খোদার দরবারে, ছুটে গেলেন মিরপুর মাজারে। আমার দুটো চোখ যেন অক্ষত থাকে তার বদলে সোনার চোখ দান করবেন এই অঙ্গীকার করে এলেন মাজারে। ফিরে পেলাম আমার দৃষ্টি। তিনি তাঁর কথা মতো দান করলেন সোনার চোখ। ধমর্ীয়, অলৌকিক বা অন্ধ বিশ্বাস বা খোদার রহমত যে কারণেই হোক না কেন আমি অন্ধত্বের হাত থেকে বেঁচে গেলাম। আমার প্রতি বুড়ি মার অগাধ ভালবাসার কারণে তাঁর অস্তিত্ব আজও আমার বুকে গেঁথে আছে।বহু বছর আগেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন।
অবশেষে একসময় গুটি বসন্ত গুটি শুটি মেরে বিদায় নিল। শীতলা দেবী রুষ্ট চিত্তে ফিরে গেল বটে কিন্তু ভালবেসে মুখ ও শরীরে রেখে গেল অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন। একটা জীবনের বেঁচে থাকার তুলনায় নেহায়েত মূল্যহীন ওই ক্ষত চিহ্নগুলো পৃথিবী ও মহাজাগতিক সৌন্দর্য প্রতক্ষ্য করায় বাদ সাধতে পারেনি কখনও। তাই দুচোখ মেলে চারিদিকে তাকিয়ে দেখি আর ভাবি কত বিচিত্র এই পৃথিবী, পৃথিবীর মানুষ আর খোদার সব সৃষ্টি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



