somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবর্ন এক বসন্ত

২০ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক বছর আগের কথা। এদেশে জল ও গুটি বসন ্ততখনও মরণ ব্যধি। তেমন কোন আধুনিক চিকিৎসার প্রসার ঘটেনি সেভাবে। আমি তখন শিশু। হাটি হাটি পা পা করে তিনটা বসন্ত কাটিয়ে দিলাম হেসে খেলে। আমার কচি দেহটা জানেনা তখনও বসস্ত কি। অতঃপর চতুর্থ বসস্ত এলো আমার জীবনে গুটি গুটি পা ফেলে। আঁকড়ে ধরলো আমার নরম শরীর। না প্রকৃতির সেই প্রজাপতি রং মাখা ফাগুনের সেই চিরচেনা বসস্ত নয়। শীতলা দেবীর অভিশপ্ত ভালবাসার জ্বলজ্বলে গুটি বসস্ত। একছত্র আধিপত্য বিস্তার করলো আমার দেহে। প্রচন্ড অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেনে নিলাম বিবর্ণ বসস্তের মরণ থাবা। সিগারেটের আগুনে পোড়া ছোট ছোট ফোসকার মত ক্ষত হয়ে ছড়িয়ে পড়লো সাড়া দেহে। আমি যন্ত্রনায় কাতর হয়ে ডাকতাম শুধু মা মা করে। শুকনো গলায় শব্দ বের হতো না ভাল করে। মা হাজার আকুতি নিয়েও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারতো না। মাত্র কদিনে এমন ঘেন্নার শরীর হলো যে কেউ কাছে এসে বসে না। অবশ্য বসতে দেয়াও উচিৎ না। কারণ রোগটা ছোঁয়াচে। সবাই ভয়ে দূরে আতঙ্কে সড়ে যেত । জেনসন ভায়োলেটের প্রলেপে ঢাকা সমন্ত শরীরে যেন বিষাক্ত সাপের নীল দংশন। ফোসকাগুলো যেন এক একটা শারীরিক বুদ্বুদ।

হায় শীতলা দেবী ! এতো ভালবাসা জমা করে রেখেছিল তুমি আমার জন্যে। সাড়া জীবনের মতো বসন্তের গভীর চিহ্ন এঁেক দিলে আমার শরীরকুঞ্জে। কোন বসন্তেই এমন অসুন্দর ফুলতো ফোটেনি কোন কাননে। যে ফুল ফোটালে তার সৌরভ নিতে কোন অলি আসেনা ভুল করেও কাছে। ভ্যান ভ্যান করে শুধু বিরক্তিকর কিছু মাছি। ছিঁড়ে কুড়ে খেতে চায় নরম দেহটাকে। মশারী লজ্জা পায় কেননা মশা নয় মাছির উপদ্রবে তাকে টানানো হয়েছে এই কারণে। কবিরাজ, বদ্যি, হোমিওপ্যাথি, এ্যালোপ্যাথি আরও কত ডাক্তারের পদচারণা। সবাই ব্যস্ত একটা জীবন বাঁচানোর তাগিদে- অস্পৃশ্য বসন্তকে যেভাবেই হোক তাড়াতে হবে।

সাড়া গায়ে বসন্তের ছোপ। চোখের পাপড়িও বাদ যায়নি। মনে হলো এযাত্রা বেঁচেই গেলাম। কদিন বাদে জীবন বাঁচে কিন্তু চোখ যায় যায় অবস্থা। অন্ধ হয়ে বেঁচে থাকা যে কি কষ্টের তা যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তারাই ভাল জানেন। আমি অন্ধ নই কিন্তু ভাবতে কষ্ট লাগে তাদের জন্য যারা অন্ধের জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন। আমার এক বুড়ি মা (নানীর এক নিঃসন্তান খালা যার কাছেই আমার শৈশব কেটেছে) আমাকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশী ভালবাসতেন। তিনি কিছুতেই আমার অন্ধত্ব সইতে পারবেন না । আমি যেন অন্ধ না হই এবং সৃষ্টিকতর্ার সকল সৃষ্টির সৌন্দর্য যেন অবলোকন করতে পারি তিনি এই দোয়া করলেন খোদার কাছে।

বুড়ি মা মানদ করলেন খোদার দরবারে, ছুটে গেলেন মিরপুর মাজারে। আমার দুটো চোখ যেন অক্ষত থাকে তার বদলে সোনার চোখ দান করবেন এই অঙ্গীকার করে এলেন মাজারে। ফিরে পেলাম আমার দৃষ্টি। তিনি তাঁর কথা মতো দান করলেন সোনার চোখ। ধমর্ীয়, অলৌকিক বা অন্ধ বিশ্বাস বা খোদার রহমত যে কারণেই হোক না কেন আমি অন্ধত্বের হাত থেকে বেঁচে গেলাম। আমার প্রতি বুড়ি মার অগাধ ভালবাসার কারণে তাঁর অস্তিত্ব আজও আমার বুকে গেঁথে আছে।বহু বছর আগেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন।

অবশেষে একসময় গুটি বসন্ত গুটি শুটি মেরে বিদায় নিল। শীতলা দেবী রুষ্ট চিত্তে ফিরে গেল বটে কিন্তু ভালবেসে মুখ ও শরীরে রেখে গেল অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন। একটা জীবনের বেঁচে থাকার তুলনায় নেহায়েত মূল্যহীন ওই ক্ষত চিহ্নগুলো পৃথিবী ও মহাজাগতিক সৌন্দর্য প্রতক্ষ্য করায় বাদ সাধতে পারেনি কখনও। তাই দুচোখ মেলে চারিদিকে তাকিয়ে দেখি আর ভাবি কত বিচিত্র এই পৃথিবী, পৃথিবীর মানুষ আর খোদার সব সৃষ্টি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×