এক সময় মূলধারার চিত্রশিল্পীদের কাছে আলোকচিত্র কখনই উঁচুমানের শিল্পকর্ম বা শিল্প হিসেবে সমাদর পেত না। অতঃপর বিশ্ববরেণ্য কিছু চলচ্চিত্রকার ও আলোকচিত্রী ক্যামেরাকে আলোকচিত্র শিল্পের একটা মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁরা ক্যামেরা, লেন্স ও আলোর ব্যবহারের মাধ্যমে এমন কিছু সৃষ্টিশীল শিল্পকর্মের সমাগম ঘটান যা সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে আলোকচিত্র এক অনুপম শিল্প মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
পরবর্তীকালে আলোকনির্ভর শিল্পকর্মগুলো শিল্পাঙ্গনে সৃজনশীল শিল্প হিসেবে দৃঢ় পদচারণা ঘটায় ও সমাদৃত হয়। অনেক প্রতিভাধর ও সৃজনশীল আলোকচিত্রীর ও চলচ্চিত্রকারের আবির্ভাব ঘটে। এরপর থেকে শিল্পরসিক ও শিল্পবোদ্ধাদের কাছে বেশ কিছু সাদাকালো ছবির শিল্পগুণ ও নান্দনিকতা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। চলচ্চিত্র শিল্পের আবির্ভাবের প্রথম দিকে নির্মিত "বাইসাইকেল থিফ", "সিটিজেন কেইন", "ব্যাটেলশিপ পটেমকিন", "ক্রেনস আর ফাইং", "রোমান হলিডে", "পথের পাঁচালী", "স্ত্রীর পত্র" প্রভৃতি ছবিগুলো সাদাকালো হওয়া সত্ত্বেও এর শিল্পগুণ, রসবোধ, আবেদন, সৃষ্টিশীল উপাদান ও বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেকের কাছেই অসামান্য শিল্পকর্ম হিসেবে মাইল ফলক স্থাপন করে।
একটা আদর্শ (আদর্শ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে) সাদা কালো ছবির মূল উপজীব্য বিষয় আলো ছায়ার বা আলো আঁধারের খেলা। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে- আমার সাবজেক্ট বা বিষয়বস্তু কি; কিভাবে সেই বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করতে চাই, ফোকাসটা ঠিকমত হচ্ছে কিনা, ফোকাসটা কোথায় ফেলছি, আলোর পরিমাণ ও বিন্যাস কেমন; কম্পোজিশন ঠিক মতো হলো কিনা; আর কোথায় কখন ক্লিকটা করতে হবে। অবশ্যই ক্যমেরা যেন সেই সময় আপনি কি চান তা যেন বুঝতে পারে। আর যদি ক্যামেরা তা সঠিকভাবে বুঝতে পারে তবে একটা শিল্পমানসম্মত ছবি হতেও পারে। একশো/দু'শো ছবি হয়তো তোলা যেতে পারে তার থেকে ছবির মতো ছবি একটা/দুটো হলেও ছবি তোলা সার্থক মনে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



