somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার রক্তের ইতিহাস

২৭ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার রক্তের ইতিহাস

মাগো, একটু হাসো-
দেখি তোমায় দুচোখ ভরে।
বেহায় এই অন্ধকার আজ যাচ্ছে না কেন সরে,
চাঁদটা কেন ওঠেনি আজ জেগে,
আকাশ কেন অন্ধকারে ঢাকে?
রক্তে ভেজা শরীর আমার ঢাকবো ক্যামন করে?
বুকে আমায় চেপে ধরো মাগো,
রক্তে রাঙাই শারীর আঁচল জমাট বাঁধার আগে।
পতাকা আমার কেমন হলো লাল, দেখবে সবাই ওড়াবে যখন কাল।
বলতে পারো মাগো, এতো মেঘ কেন আজ আকাশ জুড়ে?
তুমি হাসোনি বলে কি তাই!

মাগো, একটু আদর করো-
বুকটা কেমন খা খা করে ওঠে।
বাবাতো সেই কবেই গেছে চলে,
আগলে তুমি রেখেছিলে অনেক কষ্ট সয়ে।
পারলে না তাও- পালিয়ে গেলাম, যুদ্ধ যেদিন শুরু;
বলেছিলাম আসব ফিরে, এলাম তোমার কাছে।
মাগো, গাছের পাতা শান্ত কেন আজ?
বাতাস কেন বহেনা আজ জোড়ে?
উফ্! অলুক্ষণে পেঁচাটা কেন ডাকে?
হাসি কেন দেখিনা তোমার ঠোঁটে?
রাতভর কেঁদেছো বলে কি তাই!

মাগো, একটু গান করো আজ শুনি-
কানদুটো কেমন অসাড় হয়ে আছে।
নিঃশব্দের প্রহর কেটে গুলি যখন ছোটে,
ঝাঁঝড়া হলো নিঝুম ঘুমের রাত;
উড়াল দিল পাখীরা সব মেঘে।
চাঁদটা কেন ঢাকলো গোপন বেশে?
থামলো কেন ভোরের পাখীর গান?
মাগো এতো জোনাক কেন জ্বলে?
শশ্মানটা কি ধারে কাছে কোথাও?
চিতা আমার জ্বলবে বলে কি তাই!

মাগো, কাঁদছো কেন বলো-
খোকা তোমার এসেছে আজ ফিরে।
ভাগ্য আমার এতই ভাল ছিল,
শহীদ হব আপন মায়ের কোলে।
বিঁধলো না হয় একটা গুলি বুকে,
স্বাধীনতার ফলবে ফসল দেখো-
কতই আর ঝড়াবে ওরা রক্ত এক এক করে!
আমি, তুমি আমরা সবাই সাত কোটিতো কম নই!
পারবে কি আর শেয়াল-শকুন, হায়েনার দল জোট বেঁধে?
নিত্যনতুন ফলবে ফসল আমারি ক্ষেত জুড়ে,
বলবে কথা মায়ের ভাষায় সবাই একই স্বরে।
জানবে সেদিন আমার কথা,
রক্তে রাঙ্গা বীর শহীদদের করুণ মৃত্যু গাঁথা।
মাগো তুমি দেখে নিও, আগাছা সব এক এক করে
খাবলে নেবে ওরা।
নেংটি ইঁদুর শত্রু সবার যাবেই এদেশ ছেড়ে।
শুধু তুমি চাইবে বলে তাই!

মাগো, আর যে সময় নেই-
ঘুম যে আসে জলোচ্ছাসের মতো,
যেতেই হবে এবার আমি জানি;
পাহাড়সম কষ্ট তোমায় দিলাম হাতে তুলে।
মৃত্যু আমার রইলো জমা আমার মায়ের নামে।
বলবো কথা সবাইকে আজ সময় হাতে নেই-
মৃত্যু আমার এক জনমের বাঁচার অধিকার,
পতাকা হয়ে উড়লো নাহয় তোমার শাড়ীর আঁচল।
একটু শুধু খেয়াল রেখো সবাই যেন দেখতে পায়,
স্বাধীনতার সেই পতাকা আমি এঁকেছি রক্ত দিয়ে,
তোমার ছেলে শহীদ হলো তাই।

বনানী নিবাস : 26.03.2006

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×