ছোট বেলায় পড়েছিলাম, সংস্কৃত "ধৃ" শব্দ থেকে "ধর্ম" কথাটির উৎপত্তি। যার মানে হলো, যাহা ধারণ করা হয়। ধর্ম দেহে ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই ধর্মকে আমরা মনে বা মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা চেতনায় ধারণ করি। আর চিন্তার একছত্র চারণভূমি যেহেতু মন, তাই ধর্মের সব কিছুই বর্তায় মনের উপর। আর মন মানেই তো মানুষের যাবতীয় বিশ্বাসের এক বিশাল আধার। আর এখানেই যেয়ে বিশ্বাস জমা হয় নিরন্তর, অবাধে, আপন ইচ্ছায় । মানুষ বিশ্বাস করে মনে যা ধারণ করা হয় সেটাইতো ধর্ম। সুতরাং ধারণকারির অনেকখানি মৌলিক স্বাধীনতা আছে ধারণ করার বা না করার। আরও স্বাধীনতা আছে ধর্মকে অন্তরে বা কথায় ব্যবহার করার। সুতরাং যে যার মত করে ধর্ম নিয়ে কথা বলতে পারে। এখন কথা হচ্ছে আমরা কোনটা করি। দুটোই। তাই এখানে দুটো দল। আর দুদল মানেই বিভেদ আর মতানৈক্য। তাই ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকেই এর পক্ষ ও বিপক্ষ নিয়ে প্রচুর কথা, প্রচুর দ্বিমত, অনেক যুদ্ধ, অনেক বিগ্রহ, অনেক রক্তপাত, অনেক দাঙ্গা, অনেক ফ্যাসাদ, অনেক হানা হানি, অনেক খুনাখুনি হয়েছে, হচ্ছে এবং অরও হবে হয়তো। এই প্রক্রিয়া অজও অব্যাহত এবং এটা এমন এক চলমান প্রক্রিয়া যার শেষ কবে কারো বলার সাধ্য নেই।
এই ব্লগে আসার পর থেকেই নিয়মিত ভাবে ধর্ম নিয়ে অনেক কথা শুনে আসছি। ধর্ম নিয়ে এত কথা প্রতিনিয়ত শুনতে হয় যে নিজের কর্মের খেই হারিয়ে ফেলি। মাঝে মাঝে যথেষ্ট বিরক্ত হই। মনে প্রচন্ড ক্ষোভ জন্মে। কেন মানুষ মানুষের বিশ্বাসের নাজুক বিষয়গুলো নিয়ে এত ঘাটাঘাটি করে। থাকুক না যে যার বিশ্বাস নিয়ে। কিন্তু বিরক্ত হলেও উপায় নেই। কে শুনবে আমার কথা। তাই চুপ করে থাকি। ধর্ম নিয়ে বা ধর্মের বিরোধিতা করে যদি কেউ কিছু লিখে সেগুলো ইচ্ছে হলে পড়ি নইলে সযতনে পরিহার করি। কারো লেখার উপর নিজের পান্ডিত্য দেখাতে যাইনা। কারণ আমি পন্ডিত নই। পন্ডিত হলে এখানে কখনই এভাবে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতাম না। আমার জন্য অন্য কোন প্লাটফর্ম থাকতো। আমার অডিয়েন্স এত ক্ষ ুদ্র হতো না।
আসলে আমরা মুখে যত কিছুই বলি না কেন এখানে আমরা কেউই পন্ডিত নই। পন্ডিত বলে এখানে কোন কিছু নেই, থাকার কথাও না। আর সত্যি সত্যিই যদি আমাদের মাঝে পন্ডিত কেউ থাকতো তাহলে তিনি এখানে এসে মামুলি সময় নষ্ট করে অযথা কলম খোঁচাতেন না। আরও অনেক বড় পরিমন্ডলে তাদের দেখা যেত। দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় মাধ্যমগুলোতে তাদের হরহামেশা দেখা যেত। আমরা আরও অনেক কিছু জানতে পারতাম। সাথে এও হয়তো বলতাম, বেটা দেখি ভালই কথা জানে।
তবে হ্যাঁ একটা কথা আমি স্বীকার করি, এখানে অনেকেই আছেন যারা বেশ ভাল লেখেন এবং কেউ কেউ খুউব ভাল লেখেন। মান ও গুন বিচারের দ্বায়িত্ব অবশ্যই পাঠকের।আর পাঠকের মৌলিক চিন্তা ভাবনা আর বিশ্লেষণের নিক্তিতে তারা অবশ্যই এক এক জন এক এক স্তর পর্যন্ত উতরে যাবেন। সবাই সবার সাথে এক আসনে হয়তো স্থান করে নিতে পারবেন না। কেউ উপরে কেউ নীচে থাকতেই পারেন। তবে ভবিষ্যতে আরও শক্ত গাঁথুনীর লেখা তাদের কলমের ডগা দিয়ে বেড়িয়ে আসবে এ ব্যপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত। অনেকের চিন্তা ভাবনা বেশ স্বচ্ছ, পরিপক্ক এবং পরিশীলিত। পরিপক্কতা কিন্তু বয়সের বিচারে নয়, লেখার মান, আঙ্গিক ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার উপরে। কারও নাম নিয়ে আমার মনন ও মেধার মানদন্ড আর জানার পরিধিকে সংকুচিত করতে চাইনা।
এখন কথা হচ্ছে, যাদের লেখার অভ্যাস আছে তারা অবশ্যই লিখবেন। সুখপাঠ্য হলো কিনা তার বিচার করবে পাঠক। আর কারও লেখা পড়া না পড়া সম্পূণ পাঠকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারও লেখার উপর মতামত প্রকাশ করাটাও পাঠকের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। এখানে পারত পক্ষে নিজের মতামতের মধ্যে দিয়ে বিদ্যা জাহির করতে যাওয়াটা বোকামি। বিশেষভাবে ধর্ম বিষয়ক লেখাগুলোতে।
নিজের কথা যদি বলি, ধর্ম বিষয়ে আমার তেমন কোন গভীর ধারণা নাই। ধর্ম নিয়ে কোন কুসংষ্কারও নেই। আমার কাছে ধর্ম সম্পূর্ণ বিশ্বাসের ব্যাপার। আমাকে জোড় করে কেউ ধর্ম বিশ্বাস করতে বলেনি। তবে ধর্মের যাবতীয় অনুশাসন বা নিয়ম নীতি আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছি। পরিবারের প্রচলিত একটা রীতি বা ধারা বরাবর মেনে চলেছি। এ ব্যাপারে কেউ আমাকে কখনও বাধ্য বা বল প্রয়োগ করেনি। যদিও আমার পিতা, পিতামহ সহ পরিবারের অনেক মুরুবি্ব হাজী। ধর্মের প্রতি তাঁদের আনুগত্য আমার চেয়েও বেশী এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি তাঁদের শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তাঁদের অনুসারী নই।
আমি মনে প্রাণে আল্লাহ্কে বিশ্বাস করি। আমি তাঁকে সৃষ্টিকতর্া হিসেবে জানি এবং মান্য করি। এটা আমার একান্তই নিজের বিশ্বাস। হাজার যুক্তি তর্ক বা একশ একটা বিজ্ঞানের সূত্র বা যুক্তি উপস্থাপন করেও কেউ আমাকে আমার এই বিশ্বাস থেকে একবিন্দু টলাতে পারবে না। এখন কোন নাস্তিক যদি আমাকে এসে বলে তুমি কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, আল্লাহ্ বলে কিছু নেই, তবে তাকে আমি কি বলতে পারি। তাকে তার চিন্তা বা বিশ্বাস নিয়ে থাকতে দেয়াই আমার জন্য নিরাপদ। অযথা তর্ক যুদ্ধে যেয়ে লাভ কি? আমি কি পারবো তার এই ধারণাটা পাল্টাতে। তবে হ্যাঁ, হয়তো পারতাম আমি আজ এই সামান্য কালপুরুষ না হয়ে যদি কোন মহাপুরুষ হতাম তবে। পারতাম আমার বিশাল পান্ডিত্য থাকলে। যুক্তি তর্কে তাকে কাবু করতে পারলে। তাও একবার ভাবি আসলেই কি পারতাম? হয়তো না, কারণ সে আমার সব কথা সর্বান্তকরণে মেনে নিবে তার নিশ্চয়তা কোথায় ? আমার পথে অথর্াৎ মহান আল্লাহত্দ পথে ধাবিত হবার মতো জ্ঞান বা বিশ্বাস সে তার অন্তরে ধারণ কওে কিনা সেটাও প্রশ্নহয়ে দেখা দিতে পারে। এ সবই আমার অলিক কল্পনা। সে হয়তো কোন ভাবেই আমার পথে আসতো না। কারণ আমার কথা বা ধর্মকে বোঝার মত জ্ঞান বা শিক্ষাই হয়তো তার কাছে নেই। তাই অযথা ধর্ম নিয়ে এত যুক্তি তর্কও বাকবিতন্ডার কোন মানেই হয় না। কারণ আমরা জেনে হোক না জেনে হোক যার যার অবস্থানে অনঢ়। পাহাড় টলবে কিন্তু আমরা এক বিন্দু নড়বো না। এই আমাদের স্বরূপ। হে খোদা, আমাদের তুমি ক্ষমা করে দিও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



