somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ সিকিম হইয়া যাইবে ... আমি শুনেই মখা হইয়া গেলুম...

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগামী ৪ঠা ডিসেম্বর ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকায় আসছেন। অনেকের ধারণা সুজাতাকে পাঠানোর উদ্দেশ্য আওয়ামীলীগকে একদলীয় নির্বাচনের ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে উৎসাহ, সমর্থন ও নিশ্চয়তা প্রদান করা। আবার অনেকে তার এই সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের পদতলে বিসর্জিত লেন্দুপ দর্জির সিকিমের কথা স্মরনে আনছেন এবং এ থেকে অনেকে আবার অশনি সংকেত পাচ্ছেন।

বাংলাদেশে ভারতীয় সচিবদের আগমন এই প্রথম কোন ঘটনা নয়। কিন্তু সুজাতা সিং-এর সফর অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই জন্য যে, লেন্দুপ দর্জি কর্তৃক সিকিমকে ভারতের পদতলে বিসর্জন দেওয়া কালীন সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনকারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর মহা পরিচালকের মেয়ে হলেন এই সুজাতা সিং। যাইহোক বিষয়টির নাড়াচাড়া সুস্পষ্টভাবে এদেশের মানুষের ইতিহাস, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক সচেতনাকে প্রমাণ করে, যেটা আমার কাছে সুজাতা সিংএর সফরের চেয়ে বেশী তাৎপর্য বহন করে। ভারত সিকিমের মতো ছলে-বলে-কৌশলে বাংলাদেশকে দখল করে নেবে এটা মনে হলেই নিজেকে মখার মতো বেকুব মনে হয়।

সংখ্যা ও শক্তির বিচারে বাংলাদেশের তুলনায় ভারত একটা বৃহৎ শক্তি সন্দেহ নেই। কিন্তু হাতির বিশাল দেহের তুলনায় চোখ যেমন ছোট। ঠিক তেমনি ভারতের দেহ যত বড় আমার জানামতে তার মন বা সাহস ঠিক ততটাই ছোট। ভারতের বিশাল সেনাবাহিনীর দুই তৃতীয়াংশকে সার্বক্ষণিক দাড়িয়ে থাকতে হয় চিন, পাকিস্তান সীমান্ত পাহারা দিতে। কিন্তু তার পরেও তারা তাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। চিনের হাত থেকে কাশ্মীরের একটা অংশ এবং তিব্বত সিমান্তের লাদাখ তারা রক্ষা করতে পারেনি। আবার পাকিস্তানীরা মাত্র কয়েক বছর আগে তাদের কারগিল অভিযানে ভারতকে পর্যদুস্ত করে ছেড়েছিল। যদিও বরাবরের মতো সেইবারও পশ্চিমারা কূটনীতিক চ্যানেলে পাকিস্তানের হাত থেকে ভারতীয়দেরকে উদ্ধার করে। যাইহোক সেনাবাহিনীর বাকী এক তৃতীয়াংশের বড় একটা অংশ ব্যতিব্যস্ত থাকে কাশ্মীর ও সেভেন সিস্টারের স্বাধীনতাকামী এবং উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মতো বিশাল এলাকার বিদ্রোহী মাওবাদিদের সামাল দিতে।

১৯৮৭ সালে শান্তি রক্ষার নামে শ্রীলঙ্কায় সেনা বাহিনী পাঠিয়েছিল ভারত। কিন্তু মাত্র তিন বছরের মধ্যে অনেক ক্ষয়ক্ষতি স্বিকার করে লাঞ্ছিত, অপমানিত হয়ে তাদের সেখান থেকে ফেরত আসতে হয়। আবার ঐ দিকে স্বজাতি নেপালিদের কাছে ভারতীয়দের চেয়ে চাইনিজরা বেশী আপন। ছোট্ট মালদ্বীপের জনগনও অতি সাম্প্রতিক ভারতপন্থী নাশিদকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করেছে।

১৯৭৩ সালে লেন্দুপ দর্জির সিকিমের জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখের কাছাকাছি। সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণ ছিল হিন্দু। ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী হয়ে ওঠা রাজা চগিয়াল ছিল জনগনের কাছে পূর্ব থেকেই অপ্রিয়। ভারতীয়রা মাত্র পাঁচ/ছয় হাজার সেনা পাঠিয়ে প্রায় পৌনে তিন হাজার বর্গ মাইলের ছোট্ট সিকিমকে দখল করে নেয়।

ভারত বর্ষ মুসলিমরা প্রায় এক হাজার বছর শাসন করেছে। তাই ইন্দিরা গান্দি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের পর দিল্লির লাল কেল্লার জনসভায় সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন "হিন্দুস্তান হাজার সালকা বদলা লে লিয়া। হাজার সালকা স্বপন সফল হুয়া।" আমরা ভাবতে চাই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের ওটাই প্রথম ও শেষ বিজয়। তার পরিবর্তে ভারত যদি ৯২% মুসলিম অধ্যুষিত ১৭ কোটি জনগনের বাংলাদেশে কখনো সেনা অভিযান চালাতে আসে আমি মনে করি অনেক মন্দের মধ্যে সেটা হবে আমাদের জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ। কারণ এর মাধ্যমে হয়তো আমাদের প্রিয় এই মাতৃভূমি জিওগ্রাফিক্যাল ক্যাপ্টিভিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা রাস্তা পেয়ে যাবে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×