somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবিব্লগ: সাগরকন্যা কুয়াকাটা (শেষ পর্ব)

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিব্লগ: সাগরকন্যা কুয়াকাটা (১ম পর্ব)
কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। তাই ১৮ কিমি দীর্ঘ এই সৈকতটি বাংলাদেশের এক অমূল্য সম্পদ! আমরা যখন কুয়াকাটায় গেলাম তখন ভরা পূর্ণিমা। এরই মাঝে একদিন ঝুম ঝুম বৃষ্টি নামলো। সূর্যাদয় দেখতে গিয়ে তাই মেঘের চোখ রাঙানি দেখতে হলো। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে না পারলেও প্রকৃতি আমাদের যে রূপ দেখালো তাতেই আমরা বিমুগ্ধ!

লাল কাঁকড়া দ্বীপ। কিন্তু লাল কাঁকড়ার দেখা মিললো না :(



কাঁকড়ার পরিবর্তে পেলাম প্রচুর শামুকের খোলস



অন্য একটি চরে গিয়ে লাল কাঁকড়ার দেখা পাওয়া গেলো :)





গঙ্গামতির চর





ম্যানগ্রোভ







প্রচলিত আছে এটি অনেক পুরনো একটি নৌকার ধ্বংসাবশেষ যার নাম স্থানীয়দের কেউ বলে সোনারতরী কেউ বলে আগুনমোহনা। সোনালী আভা ছড়ানোর কারনে এর নাম আগুনমোহনা এবং এ নামটিই বেশি প্রচলিত



সুন্দরবনের শেষ সীমানা!



সমুদ্রবিলাস



সূর্যাস্ত





পূর্ণিমা



দিনের আলো তখন পুব দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে কিন্তু চাঁদের চোখে তখনও ঘুম নেই





আকাশে আজ আগুন লেগেছে। সূর্যোদয়ের সময়...













ঐ যে সূয্যি মামার দেখা পাওয়া যায়!



ভোরের আলো ফুটলো বলে..



যেভাবে যাবেন:
** ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব প্রায় ৩৮০ কিমি। ঢাকা থেকে দুইটি উপায়ে কুয়াকাটা যাওয়া যাবে। বাস অথবা লঞ্চ। সদরঘাট থেকে বিকেল বেলা বরিশালের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন লঞ্চ ছেড়ে যায়। তারপর বরিশাল থেকে বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারবেন। আমরা বাসে করে গিয়েছিলাম। টেকনিক্যাল থেকে রাত সোয়া নয়টায় সাকুরা পরিবহনের সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। ভাড়া ৭০০টাকা। প্রতিদিন সাকুরা পরিবহনের এই একটা বাসই সরাসরি কুয়াকাটা যায়। এছাড়া সায়েদাবাদ থেকে অনেক বাস সার্ভিস আছে। এগুলো মাওয়া হয়ে যায়। সাকুরা যায় আরিচা মহাসড়ক হয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে। সম্প্রতি সাকুরা পটুয়াখালি পর্যন্ত এসি বাস সার্ভিস চালু করেছে। কুয়াকাটা থেকে সাকুরা পরিবহনে সরাসরি ঢাকা ফিরতে চাইলে সন্ধ্যা সাতটায় দিনের একমাত্র গাড়িতে চড়ে বসতে হবে। সেজন্য কুয়াকাটা গিয়েই ফেরার টিকেট কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে আরো কিছু বাস সার্ভিস পাবেন কিন্তু কোনটাই সকাল বেলায় কুয়াকাটা থেকে ঢাকা ফিরবেনা। সবগুলো সার্ভিস বিকেল-সন্ধ্যা বা রাতে। সকালে ফিরতে চাইলে লোকাল বাসে করে বরিশাল পর্যন্ত আসতে পারেন। তারপর বরিশাল থেকে ঢাকা ফেরার অনেক ভালো বাস পাবেন। তবে লোকাল বাসে করে কুয়াকাটা থেকে বরিশাল আসাটা বিশাল ঝক্কির ব্যাপার।
** কুয়াকাটায় আমরা মোটামুটি বেশ কিছু হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করেছি। হোটেল রাজধানী, হোটেল আপ্যায়ন, হোটেল তরঙ্গ। খাবারের মান সবগুলোতে মোটামুটি একরকম। বেশিরভাগ সময়েই আমরা শুটকি, ইলিশ মাছ আর ইলিশ মাছের ডিম খেয়েছি । কুয়াকাটায় খাবারের দাম বেশ চড়া।
** ফাতরার চর যেতে ট্রলার ভাড়া করতে হবে। আমাদের ভাড়া পড়েছিলো মাথাপিছু ১০০টাকা। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকলে ফাতরার চরে যাওয়া যাবেনা।
** সূর্যাস্ত, সূর্যোদয়, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, গঙ্গামতির চর, ঝাউবন, কাউয়ার চর, মিশ্রীপাড়া, রাখাইন পল্লী, শুটকিপল্লী ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্য মোটর সাইকেলের বিকল্প নেই। আমরা একেকটা মোটর সাইকেল ভাড়া করেছিলাম ৫০০টাকায়। প্রতি মটর সাইকেলে দুইজন করে।
** কুয়াকাটায় থাকার জায়গা নিয়ে কোন সমস্যা নেই। বেশ ভালো মানের কিছূ হোটল আছে।যেমন হোটেল গ্রেভার ইন, নীলাঞ্জনা ইত্যাদি। এছাড়া সস্তায় আরো অনেক হোটেল পাওয়া যাবে। সমুদ্রের কাছাকাছি কোন হোটেলে থাকাই শ্রেয়।
** বারবিকিউ করতে চাইলে কলিম বাবুর্চির খোঁজ করবেন। কুয়াকাটা বীচে একমাত্র কলিম বাবুর্চিই বারবিকিউ আয়োজন করে দেয়। আমরা দেড় কেজি ওজনের তিনটা মুরগী কিনে দিয়েছিলাম। কলিম এক হাজার টাকায় বীচে সব অ্যারেঞ্জ করে দিয়েছিলো।
** কুয়াকাটা ঘুরাঘুরি বেশ ব্যয়বহুল। জনপ্রতি আমাদের প্রায় ৪০০০ টাকা খরচ হয়েছে। তবে একটু কিপ্টেমি করলে ৩০০০-৩৫০০টাকায় ঘুরে আসা সম্ভব।
_____________________________________________
কুয়াকাটা ট্যুরে আমাকে নানাভাবে সাহায্য করেছে ব্লগার সাজিদ ঢাকা
সাজিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:১৫
৪৭টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাপের ওজন কমিয়ে ভারী করো নেকির পাল্লা, ও রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫০


বহু পাপে জীবন হয়ে গেল আধেক পার,
জেনেও না জানার ভান ছিল,
মোহ আঁকড়ে ধরে রেখেছি, ধরার সুখে যে আচ্ছন্ন!
পাপ জেনেও পাপ সমুদ্দুরে কেটেছি হরদম সাঁতার!

চোখের পাপ, হাতের পাপ, আহা ঠোঁটেরও যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবিই জানে চিলে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


কি খেলা খেলছি মুই
নাকে সরিষার তেলদিয়ে
তবুও চোখে ঘুম আসে না
সারা রাত ধরে খাচ্ছি খই
কি খেলা খেলছি মুই!
আনন্দটা পেট ব্যথার মতো না
যেখানে খেয়ে যায়, বাঘ পানি-
কুমিরটা ও অপেক্ষায় থাকে
জলে জলহস্তী... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×