
কথায় আছে, ইতিহাসের পালা বদল হয়। সে ঘুরে ফিরে বারবার আসে। এবং আসতেই থাকে। শিকাগোর ঘটনা ঘটে আজ থেকে প্রায় ১৩৪বছর আগে। মানুষ যা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী দিনটি উদযাপন করে। রাষ্ট্রের প্রধানরা শুভেচ্ছা বানী দিয়ে থাকে। শিকাগোর ঘটনার পুনর্ব্যক্ত করে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, সংবাদপত্রগুলি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে, মাথায় রঙ-বেরঙের কাপড় বেঁধে নানা রঙের ফেস্টুনসহ শ্রমিকরা মিছিল-শোভাযাত্রা বের করে, বেতার-টেলিভিশনে আলোচনার ব্যবস্থা থাকে এবং পত্র-পত্রিকায় নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
শিকাগোতে সেদিন (১৮৮৬সাল) কী হয়েছিল? শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। কিন্তু সরকার তাদের কঠোর হস্তে দমন করে। পুলিশের গুলিবর্ষণে ৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। এর ফলস্বরূপ পরদিন শ্রমিকরা প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হলে কারখানার মালিকরা সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে ৪ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। ধর্মঘট সংঘটিত করার দায়ে অগাস্ট স্পাইস নামে এক শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
আজকে মে মাসের এক তারীখ। সাথে সাথেই মনে পড়ল মে দিবসের কথা। নেট ঘেটে এর ইতিহাস উদ্ধার করলাম। একদিন মারা গেল ৬জন। আরেকদিন ৪জন। অগাস্ট স্পাইসসহ মোট ১১জন। নিজেদের ন্যায্য দাবি চাইতে গিয়ে যারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। হঠাৎ মনে পড়লো আমাদের দেশের কথা। এবারের লকডাউনের মধ্যেই তো এমন এক ঘটনা ঘটেছিল। অবাক করা খবর হলো- ১৩৪বছর পর আবারো শ্রমিকরা মাঠে নেমেছিল। আবারো পুলিশ তাদের উপর হামলা করলো। এবং আবারো কিছু প্রাণ ঢলে পড়লো মৃত্যুকোলে। আহ কত স্বাভাবিকই যেন বিষয়গুলো।!
এর প্রায় ৩০বছর পর সমাজতন্ত্রের উদয় হয়। সোভিয়ত ইউনিয়নে সমতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তখন থেকেই এই শ্রমিক দিবসের বেশ গুরত্ব পায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রধান দুটি দল। একটা আওয়ামিলীগ। অন্যটা বিএনপি।
লোকে বলে বিএনপি নাকি পূজিবাদে ঘেষা আর আওয়ামিলীগ নাকি সমাজতন্ত্রে ঘেষা। কিন্তু সেদিন শ্রমিকদের উপর এমন আক্রমন আমার ধারণাকে যেন পাল্টে দিল। যেই শ্রমিকরা অধিকার পায় সমাজতন্ত্রের মধ্য দিয়ে আবার সেই শ্রমিকরাই মার খেল সমাজতন্ত্রেরই আমলে!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২১ রাত ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




