এখন বড় দু:সময়
- কিঙ্কর আহ্সান
আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকারের নাম ছিলো ক্ষিতিশ। পুজো হলেই সে আর তার মেয়ে রানী প্রসাদ নিয়ে এসে হাজির হত বাড়িতে। নারিকেলের নাড়– আর পলিথিনে মোড়ানো চিনি বড় তৃপ্তি নিয়ে খেতাম আমি আর আমার বোন। বোনের বান্ধবী এ্যানীর বাসায় দারুন কেক তৈরি হত বড়দিনে। কেকের ওপরে ক্রিম দিয়ে লেখা অক্ষরগুলো খাওয়ার মজাই ছিলো আলাদা। প্রতিবারই আন্টি ফেরার পথে আমার পকেট ভর্তি করে দিতেন চকলেটে। বৈাদ্ধ পূর্নিমায় যাওয়া হত জ্যৈাতি আপার বাসায়। তিনি চৈাপর দিন আমাদের রাঙামাটির গল্প শুনাতেন। অরন্যের কোথায় কোন গুপ্তধন লুকিয়ে আছে তা নিয়ে ভাঙা ভাঙা বাংলায় শোনা তার আজগুবি গল্পগুলো শুনতে মন্দ লাগতো না। বাচ্চাদের মতন মায়া মায়া কন্ঠে প্রায়ই গাইতেন ‘উত্তোন পেগে মেগে মেগে মেঘলা দেবাৎ তলে...।’ বুঝিয়ে দিতেন গানের অর্থ। এই তিন ধর্মের মানুষের প্রায় সবারই প্রিয় ছিলো আমাদের বাড়িতে এসে ইফতার করা। মায়ের হাতে তৈরি মুড়ি-গুড়ের শরবত, পিয়াজু, চিড়ে-বাদাম-চানাচুর ভাজা ছিলো তাদের খুবই পছন্দের। দারুন সময় ছিলো। দারুন। কারোর খুব বেশি চাওয়া পাওয়া নেই তবুও মিলেমিশে ছিলাম সুখে শান্তিতে। এখন বড় দু:সময়। এই দু:সময়ে আমার এক বড় ভাই গর্ব করে বলে, ‘ আমার কোন মালাউন ফ্রেন্ড নেই।’ এই কথা বলার সময় তার চোখে দেখতে পাই ঘৃনা। আমার জানা নেই এ ঘৃনার উৎস কোথায় ! আমার হিন্দু বন্ধু চট্টগ্রামের কোন জায়গায় মন্দির পোড়ানো হয়েছে বলে মুসলমান হবার অপরাধে আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এ্যানী আপুর কাছে জঙ্গী হয়েছি অনেক আগেই। বসবাসের যোগ্য থাকছেনা আর এ দেশ এই দোহাই দিয়ে চলে গিয়েছেন কানাডা। জ্যোতি আপুর সাথে দেখাই হয়না তেমন আর। কোনদিন সামনাসামনি পড়লে চুপচাপ চলে যান পাশ কাটিয়ে। পাহাড়ী মানুষদের নাকি কথা বলতে নেই। তাদের দেশে থাকতে দেওয়া হয়েছে এটাই তো বেশি ! সন্দেহ নেই, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তুু আমরা আমাদের আবেগ নিয়ে পড়ছি পিছিয়ে। হয়েছি স্বার্থপর। আমি, আমি, আমি, আমি করতে গিয়ে হারাচ্ছি ক্ষিতীশ, অ্যানি, জ্যোতিদের। তখনও নামাজ পাঁচ ওয়াক্তই পড়া হতো, মন্দিরে যেতো মানুষ, গির্জা, প্যাগোডায় লেগে থাকত ভীড়। কে হিন্দু. কে মুসলমান, কে বৈাদ্ধ, কে খ্রিস্টান মাথা ঘামাতে হয়নি এসব নিয়ে। আমার মুসলমান বন্ধু আছে। হিন্দু বন্ধু আছে। আছে খ্রিস্টান, বৈাদ্ধ, আওয়ামীলিগ, বিএনপি, সুশীল, আস্তিক, নাস্তিক, কোটাধারী, কোটাছাড়া বন্ধু। তাদের সাথে চিন্তা, চেতনা বিশ্বাসে আছে বিস্তর ফারাক তবুও’তো ঘৃনার মন্ত্রে দীক্ষা নেইনি। একসাথে আড্ডা দিতে গিয়ে ইফতারের খেজুর, বড়দিনের কেক আর পুজোর নাড়ু একাকার হয়েছে। এখন সময় খারাপ। চারপাশে চলছে শুধু আমি, আমি, আমি’র খেলা। কিছু একটা হলেই বন্ধু,সম্পর্কের কথা ভুলে কেউ বনে যাচ্ছে আওয়ামীলিগ, কেউবা বিএনপি, কেউ আস্তিক, কেউবা নাস্তিক, কেউ হিন্দু, কেউবা খিস্ট্রান। নিরপেক্ষ বলে কিছু নেই। আমিও নিরপেক্ষ নেই। হয়তো কোন একটা ভালো দল আসবে বলে অপেক্ষা করছি। কিংবা মনে মনে সমর্থন করছি কোন দলকে। থাকুক এসব দল, বিভেদ। এসব থাকতেই হবে। শুধু না থাকুক মানুষের মাঝে বিভেদ, ঘৃনা, হানাহানি। কোন একটা দল, একটা গোষ্ঠী না নিয়ে নিক একটু বেশি সুবিধা। আবার ঈদে বাড়িতে আসুক আমার সব ধর্মের বন্ধুরা। তাদের উৎসবেও যেন সুযোগ হয় থাকার। ওসব বাড়াবাড়ি, লড়াই বড়দের জন্যে। আমরা আমজনতা না হয় ভালো থাকি। থাকি আনন্দে। থাকি ভালোবাসায়...।
‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম..।’
আলোচিত ব্লগ
প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রিয় কন্যা আমার- ৯৪

ফারাজা তাবাসসুম খান-
আজ বুধবার, ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ইংরেজি ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬। বহু আগে একটা বই পড়েছিলাম- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। প্রধান চরিত্রের নাম- হাজারি ঠাকুর। সে বাস্তববাদী, সহজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিরোনামহীন কবিতা-০৭
তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন
হারানো বিজ্ঞপ্তি

অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।