আমি হাটতে শিখে গেছি
কিঙ্কর আহ্সান
বাবার কথা শুনিনি তেমন কোনদিনই।
বাতাসের খাচায় বন্দী ছিলো জীবন। জানালার ভেতর আচমকা চলে আসত চৈাকো আকাশ। হাতের আড়ালে অগ্নিপুত্র আর টিনটিন। পাখির মত বন্য আমি নৈাকার পালে রং আর তুলি দিয়ে লাল রং মাখাই। ছবিগুলো হুড়মুড়িয়ে আসে যায় ঘুমের ভেতর, স্বপ্নে। ছবি আঁকা শিখবো শুনে বাবা বলেন, ‘ভ্যানগগ একটাই। ও তুমি হতে পারবেনা। জয়নুল, হাশেম খান হবার সম্ভাবনাও দেখিনা। এই চ্যাপ্টার বাদ।’ আমি তো ভ্যানগগ, জয়নুল বা হাশেম হবোনা বাবা। ছোট করে হলেও, অধম হলেও আমি আমিই হতে চাই। অতঃপর অভিমানে পিজিক্স বইয়ের ভেতর গোপন ‘কাকাবাবু সমগ্র’ টা কুচি কুচি করে ছেড়া হয়। ঘরের দেয়ালে জেমসের পোস্টার। দিনমান বাজে, ‘লেইস ফিতা..লেইস।’ গিটার বাজানোর শখ। বন্ধুর গিটারের তারে আমার রক্তের নোনা স্বাদ। ওতে জং ধরে সুর হয়ে বাজে এক একটা অল্পবয়সী গান। বিটল্সের এ-বি-সি-ডি. রবীন্দ্রনাথের আদর্শলিপি, কিং ক্রিমসন, দুটো লালনের গান আর নজরুলের ‘উচাটন মন ঘরে রয়না..।’ শুনে সময় পোড়াই। বন্ধুর হাতে বাঁশি, মন্দিরা, মাউথ অর্গান আর আরেকজন তবলায় পাউডার লাগিয়ে বলে, ‘নে কিঙ্কর, একটা গান ধর।’ নাগরিক কবিয়ালদের কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে বাবা। বলেন, ‘আমার বাসায় ওসব হিপ্পিগিরি চলবেনা বলে রাখলাম। আমি সহ্য করবোনা। কাল থেকে এই চ্যাপ্টার বাদ।’ দূর্বা ঘাসে শরীর বিছিয়ে দিয়ে ভাবি এবার তবে ফিল্ম হোক। অই তো আইজেনস্টাইন, ডালি, ঘটক আর সত্যজিৎ। এবার ক্যামেরা হাতে নিতেই হবে। শট ডিভিশন, ব্রেকডাউন শেষে বাবার অনুমতি নিতে যেতেই বাবার হুকুম, ‘যাত্রপালা শুরু হলো অবশেষে। এক পাও নড়বেনা বলে রাখলাম। সঙ সেজে এসব করে বেড়ানো আমার বাড়িতে চলবেনা।’ প্রি প্রোডাকশনেই স্বপ্নের কবর দেই অবশেষে। লেখালেখিই ভালো। এ নিয়েইতো আমার এতদিনের আরাধনা। বিমল কর, কমলকুমার, সন্দীপন, শক্তিরা বলে যায় এবার তবে কলম দিয়ে তোমার শহর শাসন করো। ততদিনে মেঘ সরে গেছে। বড় হয়েছি। বাবা নরম কণ্ঠে বলে, ‘বিসিএসটা দিয়ে দাওতো। এসব করে কি হবে বলো? আমার মতো হও। তোমার পরিবারের আর দশটা ছেলের মতন হও।’ ধাক্কা খেতে খেতে, স্বপ্ন ভাঙতে ভাঙতে আমি শামুক হয়ে গেছি। খোলসের ভেতর লুকিয়ে রাখি নিজেকে। গোপন রেখে সব বাবার কথায় সায় দেই। আর মনে মনে বলি - সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হলে কি চলে বাবা? কেউ না কেউ তো কবি হবে। হবে গায়ক, লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক। তুমি আর থামাতে পারবেনা আমাকে। আমি হাটতে শিখে গেছি। জীবনের এই চ্যাপ্টারটা কখনই বাদ দেবেনা আমি। কখনও না। --------
I may not be RICH,
but i will be different,
I WILL BE DIFFERENT....
আলোচিত ব্লগ
'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন
গোসাইপুর ১৯৭১

জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ মোহমায়া

খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।
ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।
হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।