somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'জীবন থেকে নেওয়া'

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের পুনে থেকে কলকাতা আসবো! সময় ২০১৮, সেপ্টেম্বরে মাস। চলে আসলাম পুনে রেল স্টেশন এ। বিশাল বড় রেল জংশন; কয়েক রাজ্যের ট্রেন এখানে এসে অদল-বদল হয়। প্রথম ভারত সফরে গোয়া থেকে পুনে হয়ে কলকাতা আসছিলাম। সেবার প্রপার রিসার্চ না থাকায় অর্থ সংকটে পুনে থেকে কলকাতা হাওরা দুরন্ত এক্সপ্রেসের সেকেন্ড ক্লাস করে আসতে হয়েছে। আহ! কি দুর্বিসহ সেই জার্নি? শুনলে এখন ও 'গা শিউরে' উঠে। যাক এবারে আর সেই ভুল করলাম না।

ফিরে আসার পথে রেল বিরতি তে কোন এক প্লাটফর্মে।

পুনে এসেছিলাম একটা কাজ+ঘুরাঘুরি। কলকাতা থেকে আসছি বাই এয়ারে। পুনে খুবই সুন্দর চমৎকার পরিকল্পিত ইকোফ্রেন্ডলি একটি ‌শহর; রাস্তার ধারে সারি সারি সবুজ গাছ। শুধুই তাই না, পুনেতে মাষ্টার কার্ড সহ মাল্টিন্যাশনাল অনেক কোম্পানির অফিস দেখে বেশ অবাক হয়েছি। ছিল স্টারবাক্স সহ অন্যান্য ইন্টারন্যাশনাল ফুড ও ফ্যাশন চেইন ও। পুনে এয়ারপোর্টে ও ছিল শহরের খুব কাছেই। অটো তে হোটেল পর্যন্ত ভাড়া মনে হয় ৪০ কি ৬০ রুপী। মুসলিম বয়স্ক ড্রাইভার, মাথায় হিন্দি ছবির আলী ভাইয়ের মত টুপি। তখন একটু মানুষিক ডিস্টার্ব ছিলাম আর একটু পর পর সিগারেট ধরাতাম। হোটেল এ চেক ইন করে সেই অটো দিয়েই সিগারেট কিনতে গেলাম। মালবরো গোল্ড ৪০০ রুপির কাছাকাছি দাম নিল, ভারতে সিগারেট এর দাম অনেক বেশি। সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ খায় "পান মসলা" যারা বিড়িখোড় তাড়া ও খায় গোল্ড ফেল্ক ৪০ রুপি প্যাকেট। কলকাতার অবস্থা আরো ভয়াবহ; সেখানে পাতার বিড়ি ও চলে। অটো ড্রাইভার আমার থেকে নিয়ে একটা সিগারেট ধরালো।

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু এয়ারপোর্ট, দমদম কলকাতার ভিতরে একটি স্থাপত্য। ঢাকা থেকে কলকাতার এয়ার পোর্টে এতো বড় আর সুন্দর হয় কিভাবে?


পুনেতে তখন গনেশ পুজা চলছিল। হোটেলের বাইরে রাস্তায় বিশাল‌ এক গনেশ প্যান্ডেল। সারারাত ঢোল ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে পোলাপান যে কি উৎসব আর নাচানাচি করলো!!! কি যে বিভৎস আওয়াজ বলার মতো না! তাঁদের পুজার আয়োজন, আনন্দো দেখলাম অন্য লেভেলের; মানুষিক ভাবে ডিস্টার্ব থাকায় যে একটু নাচানাচি করবো, ওই ইচ্ছাটা আর হচ্ছিলো না। হোটেলে রুমের টিভিতে কিছুক্ষণ বাংলাদেশ- ভারতের সেই ঐতিহাসিক এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচটা দেখলাম। পুনেতে প্রথম ব্রেকফাস্টে দোসা খাইছি; তেমন আহামরি কিছু না!



একদম অথেনটিক ইন্ডিয়ান দোসা।

দ্যা গ্রেট ইন্ডিয়ান ভেজ থালি।

মহারাষ্ট্রে স্টাইল বিড়িয়ানি। দেশি কাচ্চির ধারে কাচে ও না।

ফিরে আসবো! ফাষ্ট ক্লাস এসি কম্পার্টমেন্ট বসলাম, মোটামোটি সবটাই খালি। আমারা সাথে বসলো কিছু ভারতীয় জাওয়ান। এদের পোস্টিং সম্ভবত কলকাতায়। চমৎকার আলাপচারিতায় পরিচয় হলো এদের সাথে। জাওয়ানদের রেলের টিকিট অনন্যা সরকারি অনেক কিনাকাটায় সরকারী ভৌতুকি দেওয়া হয়; কোন প্রকার জিএসটি বা ট্যাক্স কাটে না। আরো জানতে চাইলাম যারা কাশ্মীর সহ ঠান্ডা বা অন্যান্য ওয়্যারজোন ডিউটি করে তারা ও কি সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করে নাকি? তারা জানালো না!!! এই সমস্ত এলাকায় কর্মরত জাওয়ানদের লাইফ রিস্কের মতো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ও কয়েকগুণ বেশি। আলাপচারিতায় একজন কইলো আমার কাছে ইউএস ডলার আছে কিনা? সে জীবনে ডলার দেখে নাই। মানিব্যাগ থেকে অবশিষ্ট থাকা ৫০ ডলারের একটা নোট দেখাইলাম তারে। আরেক স্টেশন এক ফ্রেন্চ সলো ট্রাভেলার সাথে ও পরিচয় হইলো।

ভিতর থেকে এমন মনোরম অনেক দৃশ্য বেশ উপভোগ করলাম। বৃটিশরা যে কি সবের মধ্যে দিয়ে রেললাইন বানাইছে! হায় আল্লাহ!!! পাহাড়,‌ জংগল।

ট্রেনের ভিতরে বিক্রি করা এই সিংগারার প্রশংসা না করলেই না! সাথে pickled গ্রীন চিলিস।

ভারতের রেল বা প্লাটফর্ম বিড়ি খাওয়া নিষেধ; অনেক টাকা ফাইন করে শুনছি। আমি সহ ভুটানের দুই পুলিশ লুকায়ে ট্রেনের ওয়াশ রুমে বিড়ি খাইতাম। ভুটানীরা আসছে ট্রেনিং নিতে; তাঁদের পুলিশরা নাকি ভারতেই ট্রেনিং করে। এসি কেবিন আরামদায়ক জার্নি হওয়ায় ২৮ ঘন্টার লম্বা পথ বেশ স্বস্তিতে চলে এলাম। আর হ্যাঁ!! ট্রেনের ফাষ্ট ক্লাস এ টিকিটের সাথে খাবার ফ্রি। মান বেশ ভাল! নামার কয়েক ঘন্টা পুর্বে স্টাফরা সবাই মিলে বকসিস নেয় আর কি? :-B


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:১৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×